ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় ২৭শ’ পরিবারের কেউ বেঁচে নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 93

গাজায় ২৭শ’ পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। ছবি: রয়টার্স

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসনের ভয়াবহ চিত্র দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা বোমাবর্ষণ ও স্থল আক্রমণে অঞ্চলটির মানবিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে হাজারো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, ধ্বংস হয়েছে গাজার প্রায় সমগ্র অবকাঠামো।

 

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০টি পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অর্থাৎ এসব পরিবারের কেউই জীবিত নেই।

 

বিবৃতিতে ফিলিস্তিনে চলমান জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতাকে “লজ্জাজনক” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

 

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ দুই বছরের ইসরাইলি হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ কাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। ধ্বংস হয়েছে ৩৮টি হাসপাতাল, ৮৩৩টি মসজিদ এবং দেড় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

 

চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে, ফলে আহত ও অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা কার্যক্রমও প্রায় অচল হয়ে গেছে।

 

এদিকে, শনিবার গাজায় নতুন করে ইসরাইলি হামলায় আরও ৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে আল জাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন গাজা শহরে নিহত হয়েছেন। বর্তমানে শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরিয়ে দিতে ইসরাইলি সেনারা অভিযান চালাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৩৬৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৭ জন। নিহতদের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে—যা বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের একটি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার একদিনেই ক্ষুধাজনিত কারণে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে অনাহারে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮২ জনে, যার মধ্যে ১৩৫ জন শিশু।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গাজায় ২৭শ’ পরিবারের কেউ বেঁচে নেই

সর্বশেষ আপডেট ১০:০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসনের ভয়াবহ চিত্র দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা বোমাবর্ষণ ও স্থল আক্রমণে অঞ্চলটির মানবিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে হাজারো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, ধ্বংস হয়েছে গাজার প্রায় সমগ্র অবকাঠামো।

 

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০টি পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অর্থাৎ এসব পরিবারের কেউই জীবিত নেই।

 

বিবৃতিতে ফিলিস্তিনে চলমান জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতাকে “লজ্জাজনক” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

 

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ দুই বছরের ইসরাইলি হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ কাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। ধ্বংস হয়েছে ৩৮টি হাসপাতাল, ৮৩৩টি মসজিদ এবং দেড় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

 

চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে, ফলে আহত ও অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা কার্যক্রমও প্রায় অচল হয়ে গেছে।

 

এদিকে, শনিবার গাজায় নতুন করে ইসরাইলি হামলায় আরও ৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে আল জাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন গাজা শহরে নিহত হয়েছেন। বর্তমানে শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরিয়ে দিতে ইসরাইলি সেনারা অভিযান চালাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৩৬৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৭ জন। নিহতদের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে—যা বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের একটি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার একদিনেই ক্ষুধাজনিত কারণে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে অনাহারে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮২ জনে, যার মধ্যে ১৩৫ জন শিশু।