ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণমাধ্যমের প্রচারণা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিমত

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 139

ডাকসু নির্বাচন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে পৌঁছেছে। প্রার্থীরা হলে হলে ঘুরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। প্রতিটি ভোট অর্জনে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা।

বিশেষ করে যেসব প্রার্থীকে ‘হেভিওয়েট’ বলা হচ্ছে, তাদের নিয়েই বেশি কৌতূহল ও বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন টকশো এবং সংবাদপত্র; সব জায়গায় তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এই জনপ্রিয়তা কি বাস্তব, নাকি কেবল গণমাধ্যমের তৈরি এক ধরনের ‘হাইপ’?

দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় এবং দলীয় পরিচয় থাকার কারণে কিছু প্রার্থীকে শুরু থেকেই হেভিওয়েট হিসেবে ধরা হচ্ছে। তারা যেখানে যান, সাংবাদিকরা তাদের ঘিরে ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। ফলে প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে মাঝে বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে।

ছাত্রদলের মনোনীত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান এবং ছাত্রশিবিরের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েমের ব্যাপক গণমাধ্যম কভারেজ থাকলেও অন্যান্য প্যানেল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারণা তেমন আলোচিত হচ্ছে না।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনে করেন, গণমাধ্যমে যে মাতামাতি দেখা যাচ্ছে, সেটি প্রার্থীদের প্রকৃত জনপ্রিয়তার প্রতিফলন নয়। দলীয় ভিত্তিতে কিছু প্রার্থীর নির্দিষ্ট ভোটার থাকায় তাদের জন্য এটা ইতিবাচক হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভোটের দিনেই বোঝা যাবে।

গণমাধ্যমের প্রচারণা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিমত
গণমাধ্যমের প্রচারণা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিমত

যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থীর পছন্দ

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। তবে অনেক শিক্ষার্থী এখনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক পরিচয় এবং সাংগঠনিক যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের ভোট দিচ্ছেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জিলহজ্জ শেখ বলেন, “প্রচারণায় দৃশ্যমানতা মানেই জনপ্রিয়তা নয়। কিছু প্রার্থী যাদেরকে জনপ্রিয় মনে হচ্ছিল, তাদের দলীয় কোন্দল বা কার্যক্রমের কারণে আলোচনায় নেই।” ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব প্রান্ত বলেন, “গণমাধ্যমে হেভিওয়েট হিসেবে যাদেরকে তুলে ধরা হচ্ছে, তারা প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হবার জন্য যথেষ্ট সক্রিয় নন।”

গণমাধ্যমের ‘সাজানো হাইপ’

সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী জামাল উদ্দিন খালিদ বলেন, “গণমাধ্যমে হেভিওয়েট হিসেবে যাদেরকে হাইলাইট করা হচ্ছে, সেটিও প্রচারণার অংশ। যারা ভোটের মাঠে আছেন, তাদের কাছে এটি সাজানো হাইপ মনে হচ্ছে।”

আইন বিভাগের স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আরাফাত চৌধুরী যোগ করেন, “গণমাধ্যমে হেভিওয়েট হিসেবে যাদের উপস্থাপন করা হচ্ছে, তারা ৫ আগস্টের পর থেকে সক্রিয় হয়েছেন এবং রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রচারণা শিক্ষার্থীদের কাছে কম দেখা যাচ্ছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারি মাহাদী হাসান বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর গণমাধ্যমগুলো এই নির্বাচনকে শিক্ষার্থীর পরিসর থেকে বের করে জাতীয় ইস্যুতে রূপ দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জনপ্রিয়তা যাচাই ছাড়া অতিরঞ্জিত প্রচারণা চলছে।”

গণমাধ্যমের প্রচারণা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিমত
গণমাধ্যমের প্রচারণা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিমত

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভোট প্রক্রিয়া

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে; প্রথম স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্টরিয়াল টিম ও বিএনসিসি, দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ এবং তৃতীয় স্তরে প্রবেশমুখে সেনাবাহিনী। ভোট শেষে ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র সেনাসদস্যদের ঘিরে রাখা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকে আবাসিক হলে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না। ভোটের আগের দিন ও নির্বাচনের দিন মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র বৈধ শিক্ষার্থী, অনুমোদিত সাংবাদিক ও নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, ভিপি পদে ৪৫ জন, জিএস পদে ১৯ জন, এজিএস পদে ২৫ জন এবং অন্যান্য সম্পাদকীয় ও সদস্য পদে শতাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ৬২ জন ছাত্রী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

এভাবে, ডাকসু নির্বাচনে ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীদের গণমাধ্যমে তৈরি করা জনপ্রিয়তা প্রকৃত শিক্ষার্থীর মতামত ও ভোটের মাধ্যমে যাচাই হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গণমাধ্যমের প্রচারণা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিমত

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে পৌঁছেছে। প্রার্থীরা হলে হলে ঘুরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। প্রতিটি ভোট অর্জনে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা।

বিশেষ করে যেসব প্রার্থীকে ‘হেভিওয়েট’ বলা হচ্ছে, তাদের নিয়েই বেশি কৌতূহল ও বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন টকশো এবং সংবাদপত্র; সব জায়গায় তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এই জনপ্রিয়তা কি বাস্তব, নাকি কেবল গণমাধ্যমের তৈরি এক ধরনের ‘হাইপ’?

দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় এবং দলীয় পরিচয় থাকার কারণে কিছু প্রার্থীকে শুরু থেকেই হেভিওয়েট হিসেবে ধরা হচ্ছে। তারা যেখানে যান, সাংবাদিকরা তাদের ঘিরে ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। ফলে প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে মাঝে বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে।

ছাত্রদলের মনোনীত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান এবং ছাত্রশিবিরের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েমের ব্যাপক গণমাধ্যম কভারেজ থাকলেও অন্যান্য প্যানেল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারণা তেমন আলোচিত হচ্ছে না।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনে করেন, গণমাধ্যমে যে মাতামাতি দেখা যাচ্ছে, সেটি প্রার্থীদের প্রকৃত জনপ্রিয়তার প্রতিফলন নয়। দলীয় ভিত্তিতে কিছু প্রার্থীর নির্দিষ্ট ভোটার থাকায় তাদের জন্য এটা ইতিবাচক হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভোটের দিনেই বোঝা যাবে।

গণমাধ্যমের প্রচারণা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিমত
গণমাধ্যমের প্রচারণা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিমত

যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থীর পছন্দ

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। তবে অনেক শিক্ষার্থী এখনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক পরিচয় এবং সাংগঠনিক যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের ভোট দিচ্ছেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জিলহজ্জ শেখ বলেন, “প্রচারণায় দৃশ্যমানতা মানেই জনপ্রিয়তা নয়। কিছু প্রার্থী যাদেরকে জনপ্রিয় মনে হচ্ছিল, তাদের দলীয় কোন্দল বা কার্যক্রমের কারণে আলোচনায় নেই।” ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব প্রান্ত বলেন, “গণমাধ্যমে হেভিওয়েট হিসেবে যাদেরকে তুলে ধরা হচ্ছে, তারা প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হবার জন্য যথেষ্ট সক্রিয় নন।”

গণমাধ্যমের ‘সাজানো হাইপ’

সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী জামাল উদ্দিন খালিদ বলেন, “গণমাধ্যমে হেভিওয়েট হিসেবে যাদেরকে হাইলাইট করা হচ্ছে, সেটিও প্রচারণার অংশ। যারা ভোটের মাঠে আছেন, তাদের কাছে এটি সাজানো হাইপ মনে হচ্ছে।”

আইন বিভাগের স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আরাফাত চৌধুরী যোগ করেন, “গণমাধ্যমে হেভিওয়েট হিসেবে যাদের উপস্থাপন করা হচ্ছে, তারা ৫ আগস্টের পর থেকে সক্রিয় হয়েছেন এবং রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রচারণা শিক্ষার্থীদের কাছে কম দেখা যাচ্ছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারি মাহাদী হাসান বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর গণমাধ্যমগুলো এই নির্বাচনকে শিক্ষার্থীর পরিসর থেকে বের করে জাতীয় ইস্যুতে রূপ দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জনপ্রিয়তা যাচাই ছাড়া অতিরঞ্জিত প্রচারণা চলছে।”

গণমাধ্যমের প্রচারণা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিমত
গণমাধ্যমের প্রচারণা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিমত

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভোট প্রক্রিয়া

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে; প্রথম স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্টরিয়াল টিম ও বিএনসিসি, দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ এবং তৃতীয় স্তরে প্রবেশমুখে সেনাবাহিনী। ভোট শেষে ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র সেনাসদস্যদের ঘিরে রাখা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকে আবাসিক হলে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না। ভোটের আগের দিন ও নির্বাচনের দিন মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র বৈধ শিক্ষার্থী, অনুমোদিত সাংবাদিক ও নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, ভিপি পদে ৪৫ জন, জিএস পদে ১৯ জন, এজিএস পদে ২৫ জন এবং অন্যান্য সম্পাদকীয় ও সদস্য পদে শতাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ৬২ জন ছাত্রী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

এভাবে, ডাকসু নির্বাচনে ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীদের গণমাধ্যমে তৈরি করা জনপ্রিয়তা প্রকৃত শিক্ষার্থীর মতামত ও ভোটের মাধ্যমে যাচাই হবে।