ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় কেন জরুরি ব্যাখ্যা করলেন আলী রীয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 9

অধ্যাপক আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ মঙ্গলবার বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজিত সভায় বলেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ের মাধ্যমে নাগরিক হিসেবে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নয়; বরং এটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত।

আলী রীয়াজ স্পষ্ট করেন, বাংলা রাষ্ট্রভাষা থাকলেও দেশের অন্যান্য মাতৃভাষাকেও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পাহাড়-সমতল বিভাজনের রাজনীতি নয়, সমতার ভিত্তিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণই মূল লক্ষ্য। তিনি স্মরণ করান, গত ৫৪ বছরে নাগরিক অধিকার, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। এই ঘাটতি পূরণের জন্য সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি।

গণভোট প্রক্রিয়া নিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ভোটাররা দুটি ব্যালট পাবেন—একটি রাজনৈতিক প্রার্থীদের জন্য, আর অন্যটি গণভোটের জন্য। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে সমর্থন নিশ্চিত হবে। তিনি বিভাজন ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, সমতার রাজনীতি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে, বিভাজনের রাজনীতি সমাজকে দুর্বল করে।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে স্বৈরাচারের ঝুঁকি থাকবে। গণভোট শুধু ভোট দেওয়ার সুযোগ নয়, এটি দেশের সুরক্ষা এবং নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আলী রীয়াজের বক্তব্য তিনটি মূল বার্তায় কেন্দ্রীভূত: জুলাই জাতীয় সনদের প্রয়োজনীয়তা, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নাগরিক সমতা প্রতিষ্ঠা, এবং বিভাজন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সমতার রাজনীতির গুরুত্ব।

সভায় হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস-চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় কেন জরুরি ব্যাখ্যা করলেন আলী রীয়াজ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ মঙ্গলবার বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজিত সভায় বলেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ের মাধ্যমে নাগরিক হিসেবে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নয়; বরং এটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত।

আলী রীয়াজ স্পষ্ট করেন, বাংলা রাষ্ট্রভাষা থাকলেও দেশের অন্যান্য মাতৃভাষাকেও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পাহাড়-সমতল বিভাজনের রাজনীতি নয়, সমতার ভিত্তিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণই মূল লক্ষ্য। তিনি স্মরণ করান, গত ৫৪ বছরে নাগরিক অধিকার, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। এই ঘাটতি পূরণের জন্য সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি।

গণভোট প্রক্রিয়া নিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ভোটাররা দুটি ব্যালট পাবেন—একটি রাজনৈতিক প্রার্থীদের জন্য, আর অন্যটি গণভোটের জন্য। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে সমর্থন নিশ্চিত হবে। তিনি বিভাজন ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, সমতার রাজনীতি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে, বিভাজনের রাজনীতি সমাজকে দুর্বল করে।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে স্বৈরাচারের ঝুঁকি থাকবে। গণভোট শুধু ভোট দেওয়ার সুযোগ নয়, এটি দেশের সুরক্ষা এবং নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আলী রীয়াজের বক্তব্য তিনটি মূল বার্তায় কেন্দ্রীভূত: জুলাই জাতীয় সনদের প্রয়োজনীয়তা, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নাগরিক সমতা প্রতিষ্ঠা, এবং বিভাজন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সমতার রাজনীতির গুরুত্ব।

সভায় হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস-চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।