ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
একই প্রকল্পে দুইবার বরাদ্দ !

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর চতুরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 214

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমান উল্লাহ সরকার।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমান উল্লাহ সরকার। রাজধানী থেকে ঝালকাঠিতে বদলি করা হলেও তাকে নিয়ে আলোচনা এখনো থামেনি।

সর্বশেষ কর্মস্থল গণপূর্ত মহাখালী বিভাগে দায়িত্বকালিন এই কর্মকর্তার শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। আর এ কারনেই তিনি একই সাথে স্বাস্থ্য ও গৃহায়ণ-গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে সমানভাবে আলোচিত।

বিগত সরকারের সময়কার প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। বলা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বদলি এড়ানোর মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন তিনি।

একই প্রকল্পের জন্য দুই মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা বরাদ্দ এনে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং উন্নয়ন কাজ নামমাত্র সম্পন্ন করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মেরামত শাখা থেকে ১৮৪টি প্রকল্পে মোট ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে অন্তত ৪৫টি প্রকল্পের কাজ আসলে আগেই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু আমান উল্লাহ সরকার এসব প্রকল্প আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন এবং নতুন করে বরাদ্দ এনে বিল উত্তোলন করেন।

আলোচিত এই কাজগুলো হলো; ঢাকার মহাখালী জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালের ডাক্তার হোস্টেল তত্ত্বাবধায়ক এর রুমের ফ্লোরে ও দেয়ালে টাইলসসহ টয়লেট নির্মাণকরণ কাজ। ওই হাসপাতালের দক্ষিণ পশ্চিম কর্ণারে সড়ক দূর্ঘটনা রোধকল্পে বাঁক নির্মাণ কাজ। হিস্টোপ্যাথলজী ও ব্লাড-ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের পিছনের বারান্দায় থাই গ্লাস স্থাপন, ছাদ দিয়ে পানি পড়া রোধকল্পে প্যাটেন্ট স্টোন ঢালাই এবং ডাক্তার টয়লেটের স্যানিটারী ফিটিংস নবায়নসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ।

হাসপাতালের বহিঃবিভাগের বর্ধিত অংশে টিকেট কাউন্টারে অপেক্ষারত রোগীদের জন্য সেড নির্মাণ। নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের অস্ত্রাগার ও বসবাসের জন্য সেমিপাকা বাসস্থান নির্মান কাজ। মুক্তিযোদ্ধা ওয়ার্ডের বাহিরে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য নতুন করে পানির লাইন ও প্লাটফর্ম নির্মানসহ টাইলস করণ কাজ। জেনারেল স্টোরের পার্শ্বে টয়লেটসহ নতুন করে একটি কক্ষ নির্মান ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজ। হাসপাতালের বি ব্লকে ল্যাবরেটরি ও নতুন টয়লটে সমূহের টাইলসকরণ, স্যানিটারী ফিটিংস নবায়নসহ পানি সরবরাহ লাইনের কাজ।

মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার গবষেণা ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ বর্তমান স্থান থেকে ডি ব্লকে স্থানান্তরিত করার লক্ষ্যে করিডোরের কলাপসিবল গেট স্থাপন ও বিভিন্ন রুমে টাইলস, থাই এলুমিনিয়াম পার্টিশন সহ অন্যান্য সংস্কার ও সংযোজন কাজ। হাসপাতালের বি ব্লকের ৪র্থ তলায় হেমোটোলজি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে দুইটি নতুন টয়লেট নির্মানসহ টাইলস নবায়ন, পয়ঃ প্রণালী এবং পানি সরবরাহ লাইনের কাজ।

ঢাকার মহাখালীস্থ জাতীয় ক্যান্সার গবষেণা ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালের এ ব্লকের নীচ তলায় ব্লাড ইরেডিয়েশন কক্ষে ইটের দেয়াল, থাই এ্যালুমনিয়িাম পার্টিশন দিয়ে কক্ষ নির্মানসহ অন্যান্য সংস্কার কাজ। হাসপাতালের বি ব্লকের সপ্তম তলায় দুইটি করে নতুন টয়লেট নির্মানসহ টাইলস নবায়ন, পয়ঃপ্রণালী এবং পানি সরবরাহ লাইনের কাজ। বি ব্লকের নীচ তলায় সিড়ির পিছনের মসজিদের পাশে অক্সিজেন সরবরাহের ম্যনিফোল্ড কক্ষ নির্মান কাজ। বি-ব্লক এবং ডি-ব্লকের মাঝে বৃক্ষ লিপির স্থাপনা গেইট, মাটি ভরাট করা ও রাস্তা নির্মান সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজ।

এই হাসপাতালের সি-ব্লকের ৫-৬ নং অপারশেন থিয়েটারের ড্যাম্প দেয়ালে আস্তর নবায়ন, ভাঙ্গা টাইলস নবায়ন, দরজার চৌকাঠ, পাল্লা ও জানালায় থাই এলুমিনিয়াম এবং স্যানিটারী ফিটিংস নবায়নসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজ আংশিক হয়েছে অথবা শুধু কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি- মহাখালী নার্সিং কলেজের সামনের রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্প। ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া এই কাজটি এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে ৬০-৭০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে সম্পন্ন হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার সংস্কার নামমাত্র করে বাকি টাকা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে।

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে যে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগটি উঠেছে সেটা হলো; তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ করে আবার ওই একই প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও অর্থ বরাদ্দ এনে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করেছেন। ঘটনাটি জানাজানি হতেই গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের রাজস্ব বাজেট থেকে ভবন নির্মাণ, স্থাপনা মেরামত ও সংস্কারের জন্য ১০ কোটি ৮১ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এই অর্থের আওতায় ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ ভবন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর প্রাঙ্গণসহ একাধিক স্থাপনায় সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও টয়লেট নির্মাণের কাজ হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই সব কাজই মূলত তার নিজস্ব ৩-৪ জন ‘বিশ্বস্ত ঠিকাদার’ পেয়েছেন, যারা প্রকৃতপক্ষে আমান উল্লাহ সরকারের হয়ে ঠিকাদারি করেন। চেক সরাসরি তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয় এবং কাজের মান অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ।

অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই আমান উল্লাহ সরকার ঢাকায় অবস্থান করেছেন। প্রায় এক দশকে মাত্র তিন মাসের জন্য ঢাকার বাইরে বদলি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক সাবেক সচিবকে ‘ম্যানেজ’ করে পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসেন।

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘসময় দায়িত্বে থাকার কারণে বিগত সরকারের সময়কার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সাথে ছিলো তার সখ্যতা। এর ফলে মন্ত্রণালয় চাইলেও তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করতে পারেনি। তার আর্থিক ক্ষমতাও এ প্রভাব বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইতিপূর্বে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে রক্ষণাবেক্ষণ উপ-বিভাগের এসডি ছিলেন। এরপর সিটি ডিভিশনের রমনার এসডি ছিলেন। পরে মিরপুর ডিভিশনের দায়িত্বে ছিলেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ৭ অক্টোবর এই কর্মকর্তাকে ঝালকাঠিতে বদলি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের দক্ষিণ লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা আমান উল্লাহ সরকারের পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বুয়েটের ড. এম এ রশিদ হলে পড়াকালীন তিনি ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন। তবে অধিদপ্তরের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে- বর্তমানে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। এই বহুমুখী রাজনৈতিক সম্পর্ক তার সুরক্ষাবলয় আরও শক্ত করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, চাকরি জীবনে অনিয়মের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ অর্জন করেছেন আমান উল্লাহ সরকার। ঢাকায় অন্তত পাঁচটি প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের মহাখালী বিভাগের বহু ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন- প্রকল্প বণ্টনে আমান উল্লাহ সরকারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নিজের পছন্দের কিছু ঠিকাদার ছাড়া অন্যরা কোনো কাজ পান না। এই কারণে ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র, এবং যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকারের সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

একই প্রকল্পে দুইবার বরাদ্দ !

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর চতুরতা

সর্বশেষ আপডেট ০১:০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমান উল্লাহ সরকার। রাজধানী থেকে ঝালকাঠিতে বদলি করা হলেও তাকে নিয়ে আলোচনা এখনো থামেনি।

সর্বশেষ কর্মস্থল গণপূর্ত মহাখালী বিভাগে দায়িত্বকালিন এই কর্মকর্তার শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। আর এ কারনেই তিনি একই সাথে স্বাস্থ্য ও গৃহায়ণ-গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে সমানভাবে আলোচিত।

বিগত সরকারের সময়কার প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। বলা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বদলি এড়ানোর মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন তিনি।

একই প্রকল্পের জন্য দুই মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা বরাদ্দ এনে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং উন্নয়ন কাজ নামমাত্র সম্পন্ন করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মেরামত শাখা থেকে ১৮৪টি প্রকল্পে মোট ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে অন্তত ৪৫টি প্রকল্পের কাজ আসলে আগেই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু আমান উল্লাহ সরকার এসব প্রকল্প আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন এবং নতুন করে বরাদ্দ এনে বিল উত্তোলন করেন।

আলোচিত এই কাজগুলো হলো; ঢাকার মহাখালী জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালের ডাক্তার হোস্টেল তত্ত্বাবধায়ক এর রুমের ফ্লোরে ও দেয়ালে টাইলসসহ টয়লেট নির্মাণকরণ কাজ। ওই হাসপাতালের দক্ষিণ পশ্চিম কর্ণারে সড়ক দূর্ঘটনা রোধকল্পে বাঁক নির্মাণ কাজ। হিস্টোপ্যাথলজী ও ব্লাড-ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের পিছনের বারান্দায় থাই গ্লাস স্থাপন, ছাদ দিয়ে পানি পড়া রোধকল্পে প্যাটেন্ট স্টোন ঢালাই এবং ডাক্তার টয়লেটের স্যানিটারী ফিটিংস নবায়নসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ।

হাসপাতালের বহিঃবিভাগের বর্ধিত অংশে টিকেট কাউন্টারে অপেক্ষারত রোগীদের জন্য সেড নির্মাণ। নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের অস্ত্রাগার ও বসবাসের জন্য সেমিপাকা বাসস্থান নির্মান কাজ। মুক্তিযোদ্ধা ওয়ার্ডের বাহিরে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য নতুন করে পানির লাইন ও প্লাটফর্ম নির্মানসহ টাইলস করণ কাজ। জেনারেল স্টোরের পার্শ্বে টয়লেটসহ নতুন করে একটি কক্ষ নির্মান ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজ। হাসপাতালের বি ব্লকে ল্যাবরেটরি ও নতুন টয়লটে সমূহের টাইলসকরণ, স্যানিটারী ফিটিংস নবায়নসহ পানি সরবরাহ লাইনের কাজ।

মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার গবষেণা ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ বর্তমান স্থান থেকে ডি ব্লকে স্থানান্তরিত করার লক্ষ্যে করিডোরের কলাপসিবল গেট স্থাপন ও বিভিন্ন রুমে টাইলস, থাই এলুমিনিয়াম পার্টিশন সহ অন্যান্য সংস্কার ও সংযোজন কাজ। হাসপাতালের বি ব্লকের ৪র্থ তলায় হেমোটোলজি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে দুইটি নতুন টয়লেট নির্মানসহ টাইলস নবায়ন, পয়ঃ প্রণালী এবং পানি সরবরাহ লাইনের কাজ।

ঢাকার মহাখালীস্থ জাতীয় ক্যান্সার গবষেণা ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালের এ ব্লকের নীচ তলায় ব্লাড ইরেডিয়েশন কক্ষে ইটের দেয়াল, থাই এ্যালুমনিয়িাম পার্টিশন দিয়ে কক্ষ নির্মানসহ অন্যান্য সংস্কার কাজ। হাসপাতালের বি ব্লকের সপ্তম তলায় দুইটি করে নতুন টয়লেট নির্মানসহ টাইলস নবায়ন, পয়ঃপ্রণালী এবং পানি সরবরাহ লাইনের কাজ। বি ব্লকের নীচ তলায় সিড়ির পিছনের মসজিদের পাশে অক্সিজেন সরবরাহের ম্যনিফোল্ড কক্ষ নির্মান কাজ। বি-ব্লক এবং ডি-ব্লকের মাঝে বৃক্ষ লিপির স্থাপনা গেইট, মাটি ভরাট করা ও রাস্তা নির্মান সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজ।

এই হাসপাতালের সি-ব্লকের ৫-৬ নং অপারশেন থিয়েটারের ড্যাম্প দেয়ালে আস্তর নবায়ন, ভাঙ্গা টাইলস নবায়ন, দরজার চৌকাঠ, পাল্লা ও জানালায় থাই এলুমিনিয়াম এবং স্যানিটারী ফিটিংস নবায়নসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজ আংশিক হয়েছে অথবা শুধু কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি- মহাখালী নার্সিং কলেজের সামনের রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্প। ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া এই কাজটি এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে ৬০-৭০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে সম্পন্ন হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার সংস্কার নামমাত্র করে বাকি টাকা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে।

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে যে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগটি উঠেছে সেটা হলো; তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ করে আবার ওই একই প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও অর্থ বরাদ্দ এনে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করেছেন। ঘটনাটি জানাজানি হতেই গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের রাজস্ব বাজেট থেকে ভবন নির্মাণ, স্থাপনা মেরামত ও সংস্কারের জন্য ১০ কোটি ৮১ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এই অর্থের আওতায় ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ ভবন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর প্রাঙ্গণসহ একাধিক স্থাপনায় সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও টয়লেট নির্মাণের কাজ হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই সব কাজই মূলত তার নিজস্ব ৩-৪ জন ‘বিশ্বস্ত ঠিকাদার’ পেয়েছেন, যারা প্রকৃতপক্ষে আমান উল্লাহ সরকারের হয়ে ঠিকাদারি করেন। চেক সরাসরি তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয় এবং কাজের মান অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ।

অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই আমান উল্লাহ সরকার ঢাকায় অবস্থান করেছেন। প্রায় এক দশকে মাত্র তিন মাসের জন্য ঢাকার বাইরে বদলি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক সাবেক সচিবকে ‘ম্যানেজ’ করে পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসেন।

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘসময় দায়িত্বে থাকার কারণে বিগত সরকারের সময়কার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সাথে ছিলো তার সখ্যতা। এর ফলে মন্ত্রণালয় চাইলেও তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করতে পারেনি। তার আর্থিক ক্ষমতাও এ প্রভাব বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইতিপূর্বে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে রক্ষণাবেক্ষণ উপ-বিভাগের এসডি ছিলেন। এরপর সিটি ডিভিশনের রমনার এসডি ছিলেন। পরে মিরপুর ডিভিশনের দায়িত্বে ছিলেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ৭ অক্টোবর এই কর্মকর্তাকে ঝালকাঠিতে বদলি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের দক্ষিণ লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা আমান উল্লাহ সরকারের পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বুয়েটের ড. এম এ রশিদ হলে পড়াকালীন তিনি ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন। তবে অধিদপ্তরের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে- বর্তমানে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। এই বহুমুখী রাজনৈতিক সম্পর্ক তার সুরক্ষাবলয় আরও শক্ত করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, চাকরি জীবনে অনিয়মের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ অর্জন করেছেন আমান উল্লাহ সরকার। ঢাকায় অন্তত পাঁচটি প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের মহাখালী বিভাগের বহু ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন- প্রকল্প বণ্টনে আমান উল্লাহ সরকারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নিজের পছন্দের কিছু ঠিকাদার ছাড়া অন্যরা কোনো কাজ পান না। এই কারণে ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র, এবং যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকারের সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।