খুলেছে সেন্টমার্টিন, ঘাটে মাত্র ৪ পর্যটক!
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
- / 168
দীর্ঘ ৯ মাস পর দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলেও পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়েনি। জাহাজ মালিকরা বলছেন, যাত্রীসংকটের কারণে জাহাজ ছাড়েননি তারা। সকালে মাত্র চারজন যাত্রী ঘাটে এসেছিলেন। পরে তারাও ফিরে যান।
অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, কক্সবাজার থেকে এত দীর্ঘ সমুদ্র পথে দিনে গিয়ে দিনে ফেরার সিদ্ধান্তে পর্যটক পাওয়া যাবে না। এ অবস্থায় জাহাজ চালানো সম্ভব নয়। প্রবাল দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলেও সকালে মাত্র ৪ জন যাত্রী ঘাটে এসেছিলেন। পরে তারাও আবার ফিরে যান।
বাহাদুর বলেন, কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিন পৌঁছতে সময় লাগে সাত থেকে সাড়ে সাত ঘণ্টা; আসা-যাওয়ায় মোট ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা। ফলে দ্বীপে এক ঘণ্টা অবস্থানের সুযোগে পর্যটকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। দিনে গিয়ে দিনে ফিরতে আগ্রহী পর্যটক প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন। কিন্তু একটি জাহাজ চালু রাখতে অন্তত ৩৫০ যাত্রী দরকার। একবার যাত্রায় খরচ পড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা। তাই কম যাত্রী নিয়ে জাহাজ চালানো সম্ভব নয়।
অন্যদিকে উখিয়ার ইনানী জেটি ব্যবহার করা গেলে সময় কমে আট থেকে নয় ঘণ্টায় নামানো যেত। কিন্তু পরিবেশগত কারণে সে পথে অনুমতি নেই। টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকেও সময় বাঁচানো সম্ভব হলেও মিয়ানমারের সীমান্ত সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেটি কার্যকর নয়। সব মিলিয়ে, শর্তের কড়াকড়ি, উচ্চ খরচ ও নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তায় নভেম্বরে সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চালাতে রাজি নন মালিকরা।
তথ্য অনুযায়ী, সেন্টমার্টিন রুটে বর্তমানে আটটি জাহাজ রয়েছে। যার নিয়মিত ধারণক্ষমতা তিন হাজার ৬০০ যাত্রী।
জাহাজ মালিকরা বলছেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাস্তবতা বিবেচনা না করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে পর্যটন শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। দ্বীপের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে দুর্দশায় আছে- তাই এসব নির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
ঢাকা থেকে আসা দম্পতি তামান্না ও রুবেল হোসেন বলেন, আমরা ছুটি নিয়ে এসেছিলাম সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য। কিন্তু শুনলাম কোনো জাহাজ যাচ্ছে না। সরকার যদি অন্তত সপ্তাহে দুদিন রাত্রিযাপনের সুযোগ দিতো, তাহলে পর্যটকরাও যেত, ব্যবসার চাকা ঘুরত।




































