ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলনার ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 62

খুলনার ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন

খুলনায় একই পরিবারের দুই শিশু ও তাদের নানিকে হত্যা করা চাঞ্চল্যকর তিন খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্।

তদন্তে জানা যায়, রুপসা উপজেলার পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধই এই হত্যাযজ্ঞের মূল কারণ। নিহত দুই শিশুর বাবা শেফার আহম্মেদ এবং হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শেখ মোহাম্মদ শামীম আহমেদ— দুজনেই মামাতো-ফুফাতো ভাই।

সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে পরিবারের তিন সদস্যকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেন শামীম।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, শামীম পূর্বে রুপসা থানার একটি অস্ত্র মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। সেখানে একটি সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সেই চক্রের সদস্যদের অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে তিনি প্রতিপক্ষ শেফার আহম্মেদের পরিবারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৬ নভেম্বর লবণচরা এলাকার বাড়িতে প্রবেশ করে দুই শিশু— ফাতিহা ও মুস্তাকিম— এবং তাদের নানি মহিতুন্নেছাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর থেকেই শামীম পলাতক ছিলেন। পুলিশের আশঙ্কা ছিল, তিনি যেকোনো সময় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন। এজন্য দেশের সব সীমান্তে তার ছবি ও তথ্য পাঠানো হয়।

বুধবার গভীর রাতে ফ্রান্সগামী ফ্লাইটে উঠার আগে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করে বিমানবন্দর পুলিশ। পরে তাকে খুলনার লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ট্রিপল মার্ডারে তার সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ নম্বর আদালতে বিচারক মো. আসাদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মো. ইউসুফ আলী জানান, আগে থেকেই ধারণা ছিল শামীম দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। সেই সতর্কতার কারণেই দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

খুলনার ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন

সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

খুলনায় একই পরিবারের দুই শিশু ও তাদের নানিকে হত্যা করা চাঞ্চল্যকর তিন খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্।

তদন্তে জানা যায়, রুপসা উপজেলার পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধই এই হত্যাযজ্ঞের মূল কারণ। নিহত দুই শিশুর বাবা শেফার আহম্মেদ এবং হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শেখ মোহাম্মদ শামীম আহমেদ— দুজনেই মামাতো-ফুফাতো ভাই।

সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে পরিবারের তিন সদস্যকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেন শামীম।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, শামীম পূর্বে রুপসা থানার একটি অস্ত্র মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। সেখানে একটি সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সেই চক্রের সদস্যদের অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে তিনি প্রতিপক্ষ শেফার আহম্মেদের পরিবারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৬ নভেম্বর লবণচরা এলাকার বাড়িতে প্রবেশ করে দুই শিশু— ফাতিহা ও মুস্তাকিম— এবং তাদের নানি মহিতুন্নেছাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর থেকেই শামীম পলাতক ছিলেন। পুলিশের আশঙ্কা ছিল, তিনি যেকোনো সময় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন। এজন্য দেশের সব সীমান্তে তার ছবি ও তথ্য পাঠানো হয়।

বুধবার গভীর রাতে ফ্রান্সগামী ফ্লাইটে উঠার আগে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করে বিমানবন্দর পুলিশ। পরে তাকে খুলনার লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ট্রিপল মার্ডারে তার সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ নম্বর আদালতে বিচারক মো. আসাদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মো. ইউসুফ আলী জানান, আগে থেকেই ধারণা ছিল শামীম দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। সেই সতর্কতার কারণেই দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।