ঢাকা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রূপসা ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত

খুলনায় ১৫ মাসে ৬২টি হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 70

খুলনায় ১৫ মাসে ৬২টি হত্যা

গত দেড় বছরে খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ৬২টি হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনার মধ্যে ৪৩টির তদন্ত সম্পন্ন করে কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে পরকীয়া, ব্যক্তিগত শত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক ব্যবসা—সব ধরনের কারণই কাজ করেছে।

জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে সবচেয়ে বেশি ১৫টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে রূপসা উপজেলায়। বিপরীতে তেরখাদায় ঘটেছে মাত্র দুটি। দিঘলিয়ায় ৪টি, ফুলতলায় ১০টি, ডুমুরিয়ায় ১১টি, বটিয়াঘাটায় ৪টি, দাকোপে ৭টি, পাইকগাছায় ৪টি এবং কয়রায় ৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়।

হত্যার ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পাঁচটি ঘটনায় গুলি ব্যবহার করা হয়েছে, তিনটি ঘটনায় গুরুতর জখম করে হত্যা করা হয়েছে। অজ্ঞাত কারণে ৯টি, শ্বাসরোধে দুটি, পরকীয়াজনিত পাঁচটি এবং আর্থিক–ব্যবসায়িক বিরোধে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এখনো তদন্তাধীন রয়েছে ১৯টি ঘটনা—এর মধ্যে ১১টি জেলা পুলিশ এবং আটটি নৌ–পুলিশ তদন্ত করছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অপরাধ প্রবণতার বিচারে রূপসা বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। নদীপথ ও সড়কপথে দ্রুত সরে পড়া সহজ হওয়ায় সেখানকার অপরাধী চক্রগুলো অধিক সক্রিয় থাকে। পাশাপাশি মাদকের বড় রুট হওয়ায় এখানেই সংঘাত ও হত্যার সংখ্যা বেশি।

জানা গেছে, ফুলতলা, দিঘলিয়া, রূপসা, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটায় রয়েছে প্রায় ৫০টির মতো মাদক স্পট। এসব নেটওয়ার্ক বেশ শক্তিশালী এবং অভিযোগ রয়েছে—কিছু অসাধু পুলিশের সহায়তা নিয়েই এসব কারবার পরিচালিত হয়।

নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নবাগত পুলিশ সুপার জানান, জেলার ৫৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পাইকগাছায় সবচেয়ে বেশি—৩৫টি কেন্দ্র। কয়রায় ১৪টি, ডুমুরিয়ায় ২৭টি, ফুলতলায় ৪টি, দিঘলিয়ায় ৮টি, তেরখাদায় ৬টি, রূপসায় ২৩টি, দাকোপে ১৩টি এবং বটিয়াঘাটায় ৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, হত্যাসহ বেশিরভাগ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার ও তদন্তে অগ্রগতি অর্জন করেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে নাগরিক সমাজের নেতারা মনে করেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

খুলনার নবাগত পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রূপসা ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত

খুলনায় ১৫ মাসে ৬২টি হত্যা

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

গত দেড় বছরে খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ৬২টি হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনার মধ্যে ৪৩টির তদন্ত সম্পন্ন করে কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে পরকীয়া, ব্যক্তিগত শত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক ব্যবসা—সব ধরনের কারণই কাজ করেছে।

জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে সবচেয়ে বেশি ১৫টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে রূপসা উপজেলায়। বিপরীতে তেরখাদায় ঘটেছে মাত্র দুটি। দিঘলিয়ায় ৪টি, ফুলতলায় ১০টি, ডুমুরিয়ায় ১১টি, বটিয়াঘাটায় ৪টি, দাকোপে ৭টি, পাইকগাছায় ৪টি এবং কয়রায় ৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়।

হত্যার ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পাঁচটি ঘটনায় গুলি ব্যবহার করা হয়েছে, তিনটি ঘটনায় গুরুতর জখম করে হত্যা করা হয়েছে। অজ্ঞাত কারণে ৯টি, শ্বাসরোধে দুটি, পরকীয়াজনিত পাঁচটি এবং আর্থিক–ব্যবসায়িক বিরোধে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এখনো তদন্তাধীন রয়েছে ১৯টি ঘটনা—এর মধ্যে ১১টি জেলা পুলিশ এবং আটটি নৌ–পুলিশ তদন্ত করছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অপরাধ প্রবণতার বিচারে রূপসা বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। নদীপথ ও সড়কপথে দ্রুত সরে পড়া সহজ হওয়ায় সেখানকার অপরাধী চক্রগুলো অধিক সক্রিয় থাকে। পাশাপাশি মাদকের বড় রুট হওয়ায় এখানেই সংঘাত ও হত্যার সংখ্যা বেশি।

জানা গেছে, ফুলতলা, দিঘলিয়া, রূপসা, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটায় রয়েছে প্রায় ৫০টির মতো মাদক স্পট। এসব নেটওয়ার্ক বেশ শক্তিশালী এবং অভিযোগ রয়েছে—কিছু অসাধু পুলিশের সহায়তা নিয়েই এসব কারবার পরিচালিত হয়।

নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নবাগত পুলিশ সুপার জানান, জেলার ৫৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পাইকগাছায় সবচেয়ে বেশি—৩৫টি কেন্দ্র। কয়রায় ১৪টি, ডুমুরিয়ায় ২৭টি, ফুলতলায় ৪টি, দিঘলিয়ায় ৮টি, তেরখাদায় ৬টি, রূপসায় ২৩টি, দাকোপে ১৩টি এবং বটিয়াঘাটায় ৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, হত্যাসহ বেশিরভাগ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার ও তদন্তে অগ্রগতি অর্জন করেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে নাগরিক সমাজের নেতারা মনে করেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

খুলনার নবাগত পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে।