খাস পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণ জাতীয় দায়িত্ব: রিজওয়ানা
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
- / 85
খাস পুকুর ও জলাধারকে জাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে এগুলো রক্ষায় সবার দায়িত্ববোধের কথা তুলে ধরেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, সরকারি নথি অনুযায়ী ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকায় মোট ১১৩টি খাস পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে সংস্কারের জন্য ৪৪টি জলাশয় বাছাই করা হয়েছে।
শনিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের দড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খাস পুকুর ও জলাশয় পুনর্গঠন, উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে।
উপদেষ্টা জানান, নির্বাচিত জলাশয়গুলোতে সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ, সীমানা পিলার স্থাপন, পুনঃখনন, তীর সংরক্ষণ, পানি পরিশোধন, পানি প্রতিস্থাপন, ঘাট নির্মাণ, ওয়াকওয়ে, বসার ব্যবস্থা এবং বৃক্ষরোপণ—এই সবকিছুই একসাথে করা হবে। এর ফলে জলাবদ্ধতা দূর হবে, বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যাবে, মৎস্যচাষ ও কৃষিকাজে সহায়তা মিলবে এবং শহরবাসীর জন্য পরিবেশবান্ধব বিনোদনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকার অনেক পুকুর দখল, ভরাট ও দূষণের হুমকিতে আছে। তাই দ্রুতই বাকি পুকুরগুলোর তালিকা করে ধাপে ধাপে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানান তিনি। আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণ, জেলেপাড়া ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবিকা উন্নয়নেও সহায়তা মেলে।
পলিথিন নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পলিথিন পরিবেশ ও স্বাস্থ্য—উভয়ের জন্যই বড় হুমকি। সরকারের কঠোর নজরদারি ও মানুষকে সচেতন করার ফলে বিভিন্ন সুপারশপ এখন পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার কমিয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ নাগরিকদের দায়িত্ববোধকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ আশপাশের অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলাধারগুলো পুনর্গঠন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতি ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এবং কেরানীগঞ্জের ইউএনও রিনাত ফৌজিয়া।
তিনি সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন এবং বলেন, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ঢাকার জলাধারগুলো স্বাভাবিক পানি ধারণক্ষমতা ফিরে পাবে এবং জলবায়ু সহনশীল মহানগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
































