খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 82
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, তার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও বিদেশে নেওয়ার মতো স্থিতিশীলতা এখনও তৈরি হয়নি। এ কারণে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত রয়েছে এবং দু’বার পিছিয়েছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্রস্তুতিও।
চিকিৎসা বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে খালেদা জিয়ার শরীরিক জটিলতার উন্নতি খুব ধীরগতিতে হচ্ছে। একটি সমস্যা কমলে আরেকটি দেখা দিচ্ছে। পুরোনো লিভারের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যা বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার ওপরে থাকায় নিয়মিত ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে। ডায়ালাইসিস বন্ধ করলেই অবস্থার অবনতি ঘটছে।
বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানান, বয়সের কারণে সুস্থ হতে সময় লাগছে। সিসিইউতে ভর্তির পর প্রতিদিনই নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। অনেক প্যারামিটার স্বাভাবিক থাকলেও তাকে এখনো ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না। প্রতিরাতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠকে রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ কমানো–বাড়ানো হচ্ছে। দেশে ফেরার পর বোর্ডের বৈঠকগুলোতে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন তার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান।
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ কিডনি, লিভার, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত নানা জটিলতায় ভুগছেন। ২৩ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ২৭ নভেম্বর অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি দুই ডজনের মতো বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড প্রতিদিনই চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে।
এ সময় বেশির ভাগ সময় হাসপাতালে শাশুড়ির কাছে থাকছেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি চিকিৎসার বিষয়ে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আরও কিছুদিন দেশে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তদারকিতে অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।






































