খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা স্থগিত, নতুন সময়সূচি ঘোষণা
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 92
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডন নেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত পিছিয়ে গেছে। কাতারের আমিরের বরাদ্দ করা বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় পৌঁছাতে না পারায় শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে। ফলে সেটি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে না। তিনি বলেন, “সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিমানটি ঢাকায় আসবে। ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা উপযোগী থাকলে ও মেডিকেল বোর্ড অনুমোদন দিলে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) লন্ডনে নেওয়া হবে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করে। যুক্তরাজ্য ও চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও এতে যুক্ত ছিলেন। বৈঠক শেষে দুপুরে অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন এবং সন্ধ্যায় গুলশানের কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব জানান যে—কাতারের রাজকীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং আজ ভোরের মধ্যেই খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, খালেদা জিয়াকে লন্ডন ব্রিজ হাসপাতালে নেওয়া হবে। টেমস নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত এই হাসপাতাল যুক্তরাজ্যের অন্যতম বড় বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। কার্ডিয়াক, অর্থোপেডিক, ক্যানসার, স্নায়ুরোগসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য এটি সুপরিচিত। অত্যাধুনিক সুবিধা, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ দল এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে হাসপাতালটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই হাসপাতালের সামনে ভিড় বাড়ছে। বিএনপির বাইরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা তার প্রতি সমবেদনা জানাতে হাসপাতালে গেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা–সংক্রান্ত সব প্রতিবেদন মূল্যায়ন করেছেন। তারা লন্ডনে নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এজন্য কাতারের রাজকীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে বিমানের ভেতরে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসাসুবিধা পাওয়া যায়।
তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মেডিকেল বোর্ড যা বলবে, আমরা তাই অনুসরণ করছি। যুক্তরাজ্য ও চীনের চিকিৎসকরা সরাসরি তাকে দেখে গেছেন এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।”





































