ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 145

খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টন জামে মসজিদে তাঁর সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এ তথ্য জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির উদ্যোগে সারা দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও দেশবাসীর উদ্দেশে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি থাকতে দেওয়া হবে না এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তাঁর এই মানবিক অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা রাতেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে থাকেন। রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান ও মির্জা আব্বাস।

মধ্যরাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ড. আব্দুল মঈন খান জানান, মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। মির্জা আব্বাস জানান, তাঁরা সালাম দিলে খালেদা জিয়া সাড়া দিয়েছেন এবং তাঁদের চিনেছেন বলেও তিনি বলেন। পূর্বে এমন সংকট কাটিয়ে খালেদা জিয়া সুস্থ হয়েছেন—এ আশা এবারও প্রকাশ করেন তিনি।

সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান, ইনফেকশনের ঝুঁকির কারণে সিসিইউতে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, পরিস্থিতির তেমন উন্নতি নেই।

রাত ১১টা ৪০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার হাসপাতালে যান এবং শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। বিএনপির শীর্ষ নেতারাও এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের ঢাকা-১৭ প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ আরও অনেকে হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থার খবর নেন।

দুপুরে নয়াপল্টন জামে মসজিদে আয়োজন করা দোয়া অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গত রাতে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও আন্দোলন–সংগ্রামে তাঁর অবদান অপরিসীম। এজন্যই আমরা সারাদেশের মানুষের কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থ করে আবার জনগণের মাঝে ফিরে কাজ করার সুযোগ করে দেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে খালেদা জিয়া হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি ও লিভার–সংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। গত রবিবার তাঁর শ্বাসকষ্ট বাড়লে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা জানান, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে ড. ইউনূসের দেওয়া বিবৃতিতে মানবিকতার যে প্রকাশ রয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টার এই আন্তরিকতা বেগম জিয়া ও তাঁর পরিবারের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টন জামে মসজিদে তাঁর সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এ তথ্য জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির উদ্যোগে সারা দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও দেশবাসীর উদ্দেশে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি থাকতে দেওয়া হবে না এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তাঁর এই মানবিক অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা রাতেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে থাকেন। রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান ও মির্জা আব্বাস।

মধ্যরাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ড. আব্দুল মঈন খান জানান, মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। মির্জা আব্বাস জানান, তাঁরা সালাম দিলে খালেদা জিয়া সাড়া দিয়েছেন এবং তাঁদের চিনেছেন বলেও তিনি বলেন। পূর্বে এমন সংকট কাটিয়ে খালেদা জিয়া সুস্থ হয়েছেন—এ আশা এবারও প্রকাশ করেন তিনি।

সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান, ইনফেকশনের ঝুঁকির কারণে সিসিইউতে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, পরিস্থিতির তেমন উন্নতি নেই।

রাত ১১টা ৪০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার হাসপাতালে যান এবং শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। বিএনপির শীর্ষ নেতারাও এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের ঢাকা-১৭ প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ আরও অনেকে হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থার খবর নেন।

দুপুরে নয়াপল্টন জামে মসজিদে আয়োজন করা দোয়া অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গত রাতে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও আন্দোলন–সংগ্রামে তাঁর অবদান অপরিসীম। এজন্যই আমরা সারাদেশের মানুষের কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থ করে আবার জনগণের মাঝে ফিরে কাজ করার সুযোগ করে দেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে খালেদা জিয়া হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি ও লিভার–সংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। গত রবিবার তাঁর শ্বাসকষ্ট বাড়লে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা জানান, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে ড. ইউনূসের দেওয়া বিবৃতিতে মানবিকতার যে প্রকাশ রয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টার এই আন্তরিকতা বেগম জিয়া ও তাঁর পরিবারের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।