ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খামেনির বার্তা: ভয় নয়, দৃঢ়তা প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • / 132

খামেনি-নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে ইরানের জনগণকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “শত্রু যদি বুঝতে পারে আপনি তাদের ভয় পাচ্ছেন, তাহলে তারা আপনাকে ছাড়বে না।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা এখন পর্যন্ত যেভাবে দৃঢ় ও সম্মানজনক আচরণ করেছেন, তা অব্যাহত রাখুন। ভয় নয়, সাহস ও সংহতির মাধ্যমেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই বক্তব্য জনগণের মনোবল বাড়ানোর একটি কৌশলগত প্রয়াস, যখন ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

এই সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তুরস্ক ইতোমধ্যেই ইরান সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং নিজেদের তৈরি রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সূত্র বলেছে, ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পরপরই তুরস্কের কুইক রিঅ্যাকশন অ্যালার্ট বিমান সীমান্তে টহল শুরু করে।

ন্যাটো সদস্য তুরস্ক, যদিও সিরিয়া ও অন্যান্য ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে, তথাপি তারা বাণিজ্যিকভাবে পরস্পর নির্ভরশীল এবং উভয়েই ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে থাকে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইরানে ইসরায়েলের হামলাকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ” বলে আখ্যায়িত করে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ইরান-রাশিয়ার কৌশলগত হিসাব
ইরান-রাশিয়ার কৌশলগত হিসাব

অন্যদিকে, রাশিয়া প্রকাশ্যে ইসরায়েলের নিন্দা জানালেও ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়ার বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতোমধ্যে ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করলেও বলেছেন, ইরান এখনো রাশিয়ার কাছ থেকে সরাসরি সামরিক সহায়তা চায়নি।

দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি থাকলেও, তাতে পারস্পরিক সামরিক সহায়তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং বলা হয়েছে, এক পক্ষ আক্রান্ত হলে অন্য পক্ষ কেবল শত্রুকে সহায়তা করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছে।

এই পরিস্থিতিতে, ইরানের অভ্যন্তরে সাহস ও ঐক্যের বার্তা যেমন গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অবস্থানও যুদ্ধ বা শান্তির ভবিষ্যত নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে চলেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

খামেনির বার্তা: ভয় নয়, দৃঢ়তা প্রয়োজন

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে ইরানের জনগণকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “শত্রু যদি বুঝতে পারে আপনি তাদের ভয় পাচ্ছেন, তাহলে তারা আপনাকে ছাড়বে না।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা এখন পর্যন্ত যেভাবে দৃঢ় ও সম্মানজনক আচরণ করেছেন, তা অব্যাহত রাখুন। ভয় নয়, সাহস ও সংহতির মাধ্যমেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই বক্তব্য জনগণের মনোবল বাড়ানোর একটি কৌশলগত প্রয়াস, যখন ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

এই সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তুরস্ক ইতোমধ্যেই ইরান সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং নিজেদের তৈরি রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সূত্র বলেছে, ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পরপরই তুরস্কের কুইক রিঅ্যাকশন অ্যালার্ট বিমান সীমান্তে টহল শুরু করে।

ন্যাটো সদস্য তুরস্ক, যদিও সিরিয়া ও অন্যান্য ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে, তথাপি তারা বাণিজ্যিকভাবে পরস্পর নির্ভরশীল এবং উভয়েই ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে থাকে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইরানে ইসরায়েলের হামলাকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ” বলে আখ্যায়িত করে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ইরান-রাশিয়ার কৌশলগত হিসাব
ইরান-রাশিয়ার কৌশলগত হিসাব

অন্যদিকে, রাশিয়া প্রকাশ্যে ইসরায়েলের নিন্দা জানালেও ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়ার বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতোমধ্যে ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করলেও বলেছেন, ইরান এখনো রাশিয়ার কাছ থেকে সরাসরি সামরিক সহায়তা চায়নি।

দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি থাকলেও, তাতে পারস্পরিক সামরিক সহায়তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং বলা হয়েছে, এক পক্ষ আক্রান্ত হলে অন্য পক্ষ কেবল শত্রুকে সহায়তা করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছে।

এই পরিস্থিতিতে, ইরানের অভ্যন্তরে সাহস ও ঐক্যের বার্তা যেমন গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অবস্থানও যুদ্ধ বা শান্তির ভবিষ্যত নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে চলেছে।