ক্ষমা পেলেই বাঁচবেন নিমিশা প্রিয়া: মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / 282
ইয়েমেনে বন্দি ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। ১৬ জুলাই বুধবার তার ফাঁসি কার্যকরের কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইয়েমেন কর্তৃপক্ষ তা পিছিয়ে দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এই সিদ্ধান্ত প্রিয়ার পরিবারের জন্য সাময়িক স্বস্তির হলেও, মুক্তির একমাত্র সম্ভাব্য পথ হিসেবে থাকছে নিহত ইয়েমেনি নাগরিক তালাল আব্দো মাহদির পরিবারের ক্ষমা।
৩৭ বছর বয়সী কেরালাবাসী নিমিশা প্রিয়াকে ২০১৮ সালে ইয়েমেনের আদালত হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ব্যবসায়িক অংশীদার মাহদিকে চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে পানির ট্যাংকে ফেলে দেন প্রিয়া।
প্রিয়ার দাবি, মাহদি তার পাসপোর্ট ও সমস্ত টাকা আটকে রেখেছিলেন এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। প্রিয়া আদালতে জানান, নিজেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে চেতনানাশক প্রয়োগ করেছিলেন, হত্যা করার অভিপ্রায় ছিল না। কিন্তু ইনজেকশনের ওভারডোজে মাহদির মৃত্যু ঘটে।
এই মামলার রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও, ২০২৩ সালে আদালত তা খারিজ করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হুতি শাসিত ইয়েমেনের সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত তার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেন।
এরপর ১৬ জুলাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ হয়। এই ঘোষণার পর ভারতের নাগরিক সমাজ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং প্রিয়ার পরিবার ব্যাপক প্রচার চালায়। গঠিত হয় ‘Save Nimisha Priya International Action Council’।
এ সংগঠনের মুখপাত্র বাবু জন বলেন, “তার প্রাণ বাঁচাতে এখন একমাত্র রাস্তা নিহতের পরিবার তাকে ক্ষমা করুক। আমরা এখনো সেই চেষ্টাই করছি।”
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং প্রিয়ার পরিবারের জন্য সময় বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
প্রিয়া কেরালার পালক্কাড় জেলার বাসিন্দা। নার্স হিসেবে ২০০৮ সালে ইয়েমেনে যান এবং একাধিক হাসপাতালে কাজ করার পর ২০১৪ সালে ক্লিনিক খোলার সিদ্ধান্ত নেন। ইয়েমেনের আইনে ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় অংশীদার আবশ্যক হওয়ায় মাহদির সঙ্গে যৌথভাবে ক্লিনিক পরিচালনা শুরু করেন।
কিন্তু সম্পর্কের অবনতি এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত বলে তদন্তে উঠে আসে।
প্রিয়ার মা ২০২৪ সালে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে ইয়েমেনে গিয়ে মেয়ের জন্য প্রাণভিক্ষা চান। ভারতের পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়, কিন্তু ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট তা প্রত্যাখ্যান করেন।
বর্তমানে গোটা বিষয়টি নির্ভর করছে ‘ব্লাড মানি’ বা ক্ষতিপূরণ এবং মাহদির পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘ক্ষমা’র ওপর।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা, যেখানে প্রিয়া বন্দি আছেন, এখন হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন। রাজনৈতিক বাস্তবতা ও যুদ্ধাবস্থার কারণে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবু ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা শেষ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
































