ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্লাবের আর্থিক সংকটে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 85

ক্লাবের আর্থিক সংকটে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

দেশের ফুটবল ক্লাবগুলো বর্তমানে গভীর অর্থসংকটে জর্জরিত। নতুন ফুটবল মৌসুম শুরু হলেও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে খুবই সামান্য। এই অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রায় প্রতিটি ক্লাবের অবস্থাই একই রকম। খেলোয়াড়রা এই বছর পারিশ্রমিকের পরিমাণ কম হলেও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তা মেনে নিচ্ছেন। তবে সামান্য এই অর্থও সময়মতো না পাওয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

খেলোয়াড়রা এই মৌসুমে যে অর্থ পাচ্ছেন, তা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক কম। জানা গেছে, কিছু ঐতিহ্যবাহী ক্লাব খেলোয়াড়দের ‘হাজারের মধ্যে’ সামান্য অর্থ দিয়ে কাজ সেরেছে। ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ফুটবল মাঠে গড়ানোর পর ধীরে ধীরে পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হবে। পারিশ্রমিকের পরিমাণ এমনিতেই কম, তার ওপর সামান্য এই টাকাও ‘দিচ্ছি দেব’ বলে সময় পার করে দেওয়ায় স্থানীয় ও বিদেশি উভয় খেলোয়াড়ই দ্রুত বকেয়া পরিশোধের তাগাদা দিচ্ছেন।

বসুন্ধরা কিংসের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ ও জাতীয় দলের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের জন্য ২০ অক্টোবরের পর লিগের খেলা হয়নি। ২৪ নভেম্বর ফের বাংলাদেশ ফুটবল লিগ মাঠে গড়াবে। খেলা বন্ধ থাকলেও পারিশ্রমিকের জন্য নিজ নিজ ক্লাব কর্মকর্তাদের তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন খেলোয়াড়রা। স্থানীয় কিংবা বিদেশিরা বকেয়া পেয়ে চাপমুক্ত থাকতে চাচ্ছেন।

তাগাদা দেওয়ার পরও কি লাভ হচ্ছে? ধীরে ধীরে অর্থ পেতে সমস্যা হচ্ছে কি? জানা গেছে, কিছু ক্লাব টাকা দিচ্ছে, আর কিছু ঝুলিয়ে রাখছে। যারা দিচ্ছে, তাও আবার সন্তোষজনক নয়।

ঐতিহ্যবাহী এক ক্লাবের কর্মকর্তা জানান, “কি করব, চারদিকে শুধু নেই আর নেই। যারা ডোনেশন দিতেন, তারা বলেন ব্যবসায় বন্ধ—টাকা পাব কোথায়। তবুও বসে নেই আমরা। যে নিয়মে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তা মেনেই দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

বিদেশি ফুটবলাররা ঠিকমতো অর্থ না পাওয়ায় এখনই না খেলার হুমকি দিতে শুরু করেছেন। ক্লাবগুলোর বড় চিন্তা তাদের ঘিরেই। বিদেশিদের পারিশ্রমিক বাকি রাখলে তারা ফিফার কাছে অভিযোগ করে, তখন যা পেতেন না, তার চেয়ে বেশি টাকা দিতে হয় তাদের। তা না হলে নিষিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা থাকে। সব মিলিয়ে প্রায় প্রতিটি ক্লাব গভীর অর্থসংকটে বন্দি। এর ওপর এবার টুর্নামেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে। কতদিন আর ‘দিচ্ছি দেব’ বলা যায়?

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ক্লাবের আর্থিক সংকটে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

দেশের ফুটবল ক্লাবগুলো বর্তমানে গভীর অর্থসংকটে জর্জরিত। নতুন ফুটবল মৌসুম শুরু হলেও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে খুবই সামান্য। এই অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রায় প্রতিটি ক্লাবের অবস্থাই একই রকম। খেলোয়াড়রা এই বছর পারিশ্রমিকের পরিমাণ কম হলেও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তা মেনে নিচ্ছেন। তবে সামান্য এই অর্থও সময়মতো না পাওয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

খেলোয়াড়রা এই মৌসুমে যে অর্থ পাচ্ছেন, তা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক কম। জানা গেছে, কিছু ঐতিহ্যবাহী ক্লাব খেলোয়াড়দের ‘হাজারের মধ্যে’ সামান্য অর্থ দিয়ে কাজ সেরেছে। ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ফুটবল মাঠে গড়ানোর পর ধীরে ধীরে পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হবে। পারিশ্রমিকের পরিমাণ এমনিতেই কম, তার ওপর সামান্য এই টাকাও ‘দিচ্ছি দেব’ বলে সময় পার করে দেওয়ায় স্থানীয় ও বিদেশি উভয় খেলোয়াড়ই দ্রুত বকেয়া পরিশোধের তাগাদা দিচ্ছেন।

বসুন্ধরা কিংসের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ ও জাতীয় দলের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের জন্য ২০ অক্টোবরের পর লিগের খেলা হয়নি। ২৪ নভেম্বর ফের বাংলাদেশ ফুটবল লিগ মাঠে গড়াবে। খেলা বন্ধ থাকলেও পারিশ্রমিকের জন্য নিজ নিজ ক্লাব কর্মকর্তাদের তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন খেলোয়াড়রা। স্থানীয় কিংবা বিদেশিরা বকেয়া পেয়ে চাপমুক্ত থাকতে চাচ্ছেন।

তাগাদা দেওয়ার পরও কি লাভ হচ্ছে? ধীরে ধীরে অর্থ পেতে সমস্যা হচ্ছে কি? জানা গেছে, কিছু ক্লাব টাকা দিচ্ছে, আর কিছু ঝুলিয়ে রাখছে। যারা দিচ্ছে, তাও আবার সন্তোষজনক নয়।

ঐতিহ্যবাহী এক ক্লাবের কর্মকর্তা জানান, “কি করব, চারদিকে শুধু নেই আর নেই। যারা ডোনেশন দিতেন, তারা বলেন ব্যবসায় বন্ধ—টাকা পাব কোথায়। তবুও বসে নেই আমরা। যে নিয়মে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তা মেনেই দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

বিদেশি ফুটবলাররা ঠিকমতো অর্থ না পাওয়ায় এখনই না খেলার হুমকি দিতে শুরু করেছেন। ক্লাবগুলোর বড় চিন্তা তাদের ঘিরেই। বিদেশিদের পারিশ্রমিক বাকি রাখলে তারা ফিফার কাছে অভিযোগ করে, তখন যা পেতেন না, তার চেয়ে বেশি টাকা দিতে হয় তাদের। তা না হলে নিষিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা থাকে। সব মিলিয়ে প্রায় প্রতিটি ক্লাব গভীর অর্থসংকটে বন্দি। এর ওপর এবার টুর্নামেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে। কতদিন আর ‘দিচ্ছি দেব’ বলা যায়?