কোম্পানীগঞ্জে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল পাথর
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫
- / 304
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর এলাকা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমান পাথর পাশের এলাকায় মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সকালে যৌথবাহিনী উপজেলার কলাবাড়ি এলাকায় বালু ও মাটির নিচ থেকে এগুলো উদ্ধার করে।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ আশিক কবিরের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।
গত বুধবার (১৩ আগস্ট) থেকে সাদা পাথর এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হয়। ওই দুই দিনে শতাধিক পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাথর প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরে।
অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অধিকাংশ ক্রাশার মিল বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ক্রাশার মিলের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এতে অনেক মিল মালিক ও বালু-পাথর ব্যবসায়ীরা গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ আশিক কবির বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জের শতাধিক স্থানে লুটের পাথর মাটি চাপা রয়েছে এমন তথ্য আমাদের কাছে আছে। শুধু ক্রাশার মিলেই নয়, বিভিন্ন বাসাবাড়িতে, এমনকি রান্নাঘরের পেছনেও পাথর লুকানোর চেষ্টা করছে লুটেরা চক্র।’
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ বলেন, ‘আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। বালু-মাটি দিয়ে পাথর লুকানো হলেও উদ্ধার অভিযান চলবে। খবর পেয়েছি, বিভিন্ন বাড়িতেও পাথর লুকানো হচ্ছে।’
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সাদা পাথর এলাকায় ব্যাপক লুটপাট শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়ভাবে সব রাজনৈতিক দলের নেতারা এতে জড়িত ছিলেন। ধলাই নদীর উৎসমুখে জমে থাকা বিপুল পাথর দিনের বেলা প্রকাশ্যে নৌকায় করে সরিয়ে নেওয়া হয়। শত শত নৌকা দিয়ে প্রতিদিন পাথর পরিবহন এবং নদীতীরের বালু উত্তোলনেরও অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনায় ইতোমধ্যে পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট সাত দিনের মধ্যে লুট হওয়া পাথর উদ্ধার করে যথাস্থানে প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে লুটে জড়িতদের তালিকা আদালতে দাখিল করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে রিটটি করেন সরওয়ার আহাদ এবং শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ।
































