সেমিনারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
কোনো পক্ষ নয়, সঠিক পথ বেছে নেবে বাংলাদেশ
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
- / 75
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পুনর্গঠনের এই সময়ে বাংলাদেশ কোনো পক্ষকে বেছে নেওয়ার আগে সঠিক পথ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য কোনো পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে না হয়ে, পুনর্গঠনের সময়ে সঠিক পথ বেছে নেওয়া।”
শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫’ এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অংশ নেবে এবং জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ একটি সক্রিয়, সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করবে, প্রয়োজন হলে স্পষ্টভাবে অবস্থান প্রকাশ করবে এবং সবসময় জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিকে নজর রাখবে।
তৌহিদ হোসেন বঙ্গোপসাগরকে কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ শুধু পথপ্রদর্শক বা করিডোর হয়ে নয়, বরং সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। তিনি ইউক্রেন, গাজা, সুদান ও মিয়ানমারের অস্থিরতার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সংকট মোকাবিলায় বিদ্যমান কাঠামো ব্যর্থ হয়েছে; তাই বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবিক দায়িত্বের অঙ্গীকার স্পষ্ট হয়েছে। তিনি তথ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের দিকে সতর্ক করে বলেন, ভুয়া তথ্য, ডিপফেক এবং এআই-নির্ভর প্রভাব কূটনীতি ও শাসনব্যবস্থাকে বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশ তথ্যক্ষেত্রকে সুরক্ষিত রাখতে এবং নিরাপত্তা ও অধিকার দুটোই রক্ষা করতে এমন নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়।
অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, নিষেধাজ্ঞা ও ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল বাংলাদেশকে বহুমুখী হতে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বাধ্য করছে। তিনি বঙ্গোপসাগরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, পারস্পরিক সুযোগ ও স্থিতিস্থাপকতার ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।
জলবায়ুজনিত ঝুঁকির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই উপকূলীয় দেশগুলোকে সহযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ভাগাভাগি করা এবং জলবায়ু সহনশীল নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদও বক্তব্য দেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভাঙন, পুনর্গঠন’। এতে বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আঞ্চলিক বাস্তবতা, জোট ও অংশীদারিত্বের পরিবর্তন, তথ্যযুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক চাপ ও অভিবাসনসহ সমসাময়িক বিশ্ববিষয়গুলো আলোচনা করা হবে।




































