ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেরানীর গায়ে বন বিভাগের পোশাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / 208

কেরানীর গায়ে বন বিভাগের পোশাক

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় একটি গাছের ডিপোতে কেরানী আবুল কালাম আজাদ (উজ্জ্বল)-কে বন বিভাগের পোশাক পরে গাছ তদারকি করতে দেখা গেছে—এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনায় বন বিভাগের দায় ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।

ছবিতে দেখা যায়, বন বিভাগের অফিসিয়াল ড্রেস পড়ে কেরানী উজ্জ্বল একাধিক কাগজপত্র হাতে গাছের স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে মাপঝোঁক ও তালিকা তৈরি করছেন। গাছগুলো একটি অস্থায়ী ডিপোতে রাখা হয়েছে বলে জানা যায়, যা রুমা সদর পলি রেঞ্জের অধীনে এবং একটি বেসরকারি সওদাগরের মালিকানাধীন বলে ধারণা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বন বিভাগের কোন কর্মকর্তা না হয়েও উজ্জ্বল সরকারি পোশাক পরে সরকারি কর্মচারীর মতো আচরণ করছিলেন। এতে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এবং আইন ভাঙা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।

এক কাঠ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বন বিভাগের ড্রেস পড়ে গাছের ডিপোতে নির্দেশ দেওয়া খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও অনেকেই এমন কাজ করবে।”

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত কেরানী আবুল কালাম আজাদ (উজ্জ্বল) জানান, “আমি ড্রেসটা মজার ছলে শীত থেকে বাঁচার জন্য পরেছিলাম, ছবি তুলেছিল আমার বাল্যবন্ধু। এখন সেটা ভাইরাল করছে সাংবাদিকরা। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।”

অন্যদিকে, পলি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জার অসীম বারৈ বলেন, “ছবিটি অনেক আগের, বছরখানেক আগে তোলা। সে মজা করে বা ঠান্ডা থেকে বাঁচতে কিছুক্ষণের জন্য ড্রেস পরে ছিল। পরে খুলেও ফেলেছে। সেখানে আমাদের অফিসের লোকজনও ছিল। তবুও আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

সচেতন মহলের দাবি, এই ঘটনাটি রুমা উপজেলার দীর্ঘদিনের চলমান অনিয়ম ও বনবিভাগ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতির অংশ হতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না করলে বন সম্পদের লুটপাট বন্ধ হবে না বলে তারা মনে করছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কেরানীর গায়ে বন বিভাগের পোশাক

সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় একটি গাছের ডিপোতে কেরানী আবুল কালাম আজাদ (উজ্জ্বল)-কে বন বিভাগের পোশাক পরে গাছ তদারকি করতে দেখা গেছে—এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনায় বন বিভাগের দায় ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।

ছবিতে দেখা যায়, বন বিভাগের অফিসিয়াল ড্রেস পড়ে কেরানী উজ্জ্বল একাধিক কাগজপত্র হাতে গাছের স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে মাপঝোঁক ও তালিকা তৈরি করছেন। গাছগুলো একটি অস্থায়ী ডিপোতে রাখা হয়েছে বলে জানা যায়, যা রুমা সদর পলি রেঞ্জের অধীনে এবং একটি বেসরকারি সওদাগরের মালিকানাধীন বলে ধারণা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বন বিভাগের কোন কর্মকর্তা না হয়েও উজ্জ্বল সরকারি পোশাক পরে সরকারি কর্মচারীর মতো আচরণ করছিলেন। এতে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এবং আইন ভাঙা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।

এক কাঠ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বন বিভাগের ড্রেস পড়ে গাছের ডিপোতে নির্দেশ দেওয়া খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও অনেকেই এমন কাজ করবে।”

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত কেরানী আবুল কালাম আজাদ (উজ্জ্বল) জানান, “আমি ড্রেসটা মজার ছলে শীত থেকে বাঁচার জন্য পরেছিলাম, ছবি তুলেছিল আমার বাল্যবন্ধু। এখন সেটা ভাইরাল করছে সাংবাদিকরা। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।”

অন্যদিকে, পলি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জার অসীম বারৈ বলেন, “ছবিটি অনেক আগের, বছরখানেক আগে তোলা। সে মজা করে বা ঠান্ডা থেকে বাঁচতে কিছুক্ষণের জন্য ড্রেস পরে ছিল। পরে খুলেও ফেলেছে। সেখানে আমাদের অফিসের লোকজনও ছিল। তবুও আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

সচেতন মহলের দাবি, এই ঘটনাটি রুমা উপজেলার দীর্ঘদিনের চলমান অনিয়ম ও বনবিভাগ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতির অংশ হতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না করলে বন সম্পদের লুটপাট বন্ধ হবে না বলে তারা মনে করছেন।