কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নারী ও শিশুসহ ৪ জন আহত
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 77
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে শুক্রবার সকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে গিয়ে ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। পুলিশ এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ঘটনা ঘটে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, যখন মাদ্রাসাটি ছুটির দিন ছিল এবং সেখানে অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না। বিস্ফোরণের ফলে একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল ধসে পড়ে, ছাদ এবং বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের আরও দুটি কক্ষেও ফাটল দেখা গেছে।
আহত ব্যক্তিরা
বিস্ফোরণের ফলে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তাঁর স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আবদুল্লাহ (৭) আহত হন। আহতদের মধ্যে আছিয়া এবং দুই সন্তানকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
হাসনাবাদ এলাকার এক বাসিন্দা জানান, “হঠাৎ করে বিকট শব্দ শুনে আমরা ছুটে গিয়ে দেখলাম, মাদ্রাসার দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে গেছে। বিস্ফোরণে ভবনের বিশাল ক্ষতি হয়েছে, তবে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি কারণ মাদ্রাসা ছিল বন্ধ।”
বিস্ফোরণের কারণ এবং তদন্ত
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত করছে এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল কাজ করছে। সাইফুল আলম আরও জানান, ককটেল, দাহ্য পদার্থ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য ক্রাইম সিন দলও তদন্তে অংশ নিয়েছে।
মাদ্রাসার কার্যক্রম এবং মালিকের বক্তব্য
মাদ্রাসার কার্যক্রম তিনটি কক্ষে চলত, যেখানে শেখ আল আমিন ও তাঁর পরিবার বসবাস করতেন। মাদ্রাসার মালিক পারভীন বেগম জানান, “মুফতি হারুন তিন বছর ধরে আমার বাড়ি ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। তবে আমি জানতাম না, এখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল।”
পুলিশের কার্যক্রম
পুলিশ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে এবং তদন্তের জন্য ক্রাইম সিন দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, এটি একটি পরিকল্পিত বিস্ফোরণ হতে পারে, এবং তদন্ত চলছে।পুলিশ ভবনের ভেতর থেকে কেমিক্যাল, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।’































