ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
উদ্ধার ৪৫ জন

কেরানীগঞ্জে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 59

কেরানীগঞ্জে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে বাবুবাজার এলাকায় অবস্থিত ‘জাবালে নূর টাওয়ার’ নামের একটি বহুতল ভবনের ভূগর্ভস্থ গুদামে লাগা আগুন সাত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। এ ঘটনায় ভবনের ভেতরে আটকে পড়া ৪৫ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভবনের অধিকাংশ দোকানের শাটার ও কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচুর ধোঁয়ার কারণে উদ্ধার ও নির্বাপণ কাজে বেগ পেতে হচ্ছে।

শাহজাহান শিকদার বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আক্রান্ত জাবালে নূর টাওয়ারটি কয়েকটি স্বতন্ত্র ভবনের সমন্বয়ে গঠিত হলেও বেজমেন্ট একটি মাত্র। এটি বাণিজ্যিক ও আবাসিক মিশ্র ভবন। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় গার্মেন্টস পণ্যের দোকান ও ছোট ছোট ঝুট গোডাউন রয়েছে, আর ওপরের তলাগুলোতে আবাসিক কোয়ার্টার। বেজমেন্টে প্রবেশের পথ মাত্র দুটি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় বেশি লাগছে।

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে তিনটি ব্রিদিং টেন্ডার ও একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডারসহ মোট ২০টি ইউনিট কাজ করছে। সর্বশেষ আরও তিনজনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট উদ্ধারকৃত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ জনে।

এর আগে সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আশপাশের ভবনগুলো আবাসিক ও বাণিজ্যিক হওয়ায় ঝুঁকি বেশি। নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় দোতলা ও তিনতলা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, যা কাজকে কঠিন করে তুলেছে।

তিনি জানান, আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছাতে দোকানের শাটার ও কলাপসিবল গেট ভেঙে কাজ করতে হচ্ছে। চারদিক থেকে আগুনে আক্রমণ চালানো হচ্ছে, যাতে তা আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে না পড়ে।

আগুনের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার আগে সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

ভবনে কেমিক্যাল থাকার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো কেমিক্যালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা ব্যাকড্রাফটের কারণে হয়েছে। ব্যাকড্রাফট হলো আগুন বা ধোঁয়া আটকে থাকা স্থানে হঠাৎ বাতাস প্রবেশ করলে যে শব্দ সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, শনিবার ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উদ্ধার ৪৫ জন

কেরানীগঞ্জে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে বাবুবাজার এলাকায় অবস্থিত ‘জাবালে নূর টাওয়ার’ নামের একটি বহুতল ভবনের ভূগর্ভস্থ গুদামে লাগা আগুন সাত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। এ ঘটনায় ভবনের ভেতরে আটকে পড়া ৪৫ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভবনের অধিকাংশ দোকানের শাটার ও কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচুর ধোঁয়ার কারণে উদ্ধার ও নির্বাপণ কাজে বেগ পেতে হচ্ছে।

শাহজাহান শিকদার বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আক্রান্ত জাবালে নূর টাওয়ারটি কয়েকটি স্বতন্ত্র ভবনের সমন্বয়ে গঠিত হলেও বেজমেন্ট একটি মাত্র। এটি বাণিজ্যিক ও আবাসিক মিশ্র ভবন। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় গার্মেন্টস পণ্যের দোকান ও ছোট ছোট ঝুট গোডাউন রয়েছে, আর ওপরের তলাগুলোতে আবাসিক কোয়ার্টার। বেজমেন্টে প্রবেশের পথ মাত্র দুটি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় বেশি লাগছে।

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে তিনটি ব্রিদিং টেন্ডার ও একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডারসহ মোট ২০টি ইউনিট কাজ করছে। সর্বশেষ আরও তিনজনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট উদ্ধারকৃত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ জনে।

এর আগে সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আশপাশের ভবনগুলো আবাসিক ও বাণিজ্যিক হওয়ায় ঝুঁকি বেশি। নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় দোতলা ও তিনতলা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, যা কাজকে কঠিন করে তুলেছে।

তিনি জানান, আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছাতে দোকানের শাটার ও কলাপসিবল গেট ভেঙে কাজ করতে হচ্ছে। চারদিক থেকে আগুনে আক্রমণ চালানো হচ্ছে, যাতে তা আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে না পড়ে।

আগুনের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার আগে সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

ভবনে কেমিক্যাল থাকার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো কেমিক্যালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা ব্যাকড্রাফটের কারণে হয়েছে। ব্যাকড্রাফট হলো আগুন বা ধোঁয়া আটকে থাকা স্থানে হঠাৎ বাতাস প্রবেশ করলে যে শব্দ সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, শনিবার ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।