ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
গম কাণ্ডে আলোচিত সহোদরের হাতেই সার আমদানির দায়িত্ব!

কৃষি মন্ত্রণালয়ে ‘সাধন’ সিন্ডিকেট বহাল!

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 28

কৃষি উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করছেন মিঞা সাত্তার। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের ঘনিষ্ট আলোচিত দুই ব্যবসায়ী সহোদরের কাঁধে সওয়ার হয়েছে বর্তমান অন্তবর্তী সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয় রাশিয়া থেকে সার আমদানিতে এই দুই সহোদরের সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দুই সহোদর বিগত সরকারের সময় রাশিয়া থেকে নিম্ন মানের গম বেশি দামে সরবরাহ করে বেশ সমালোচিত ছিলেন। কিন্তু সাধন চন্দ্র মজুমদারের ঘনিষ্টতা এবং আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, এই দুই সহোদরের মাধ্যমেই সাধন চন্দ্র নানা সুবিধা ভোগ করতেন। বিগত সরকারের আলোচিত এই মন্ত্রী দুর্নীতির মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকলেও, এই ব্যবসায়ী চক্রের প্রভাব এখনো অটুট রয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া ফেডারেশনের ৩০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি (পটাশ) সার উপহার হিসেবে হস্তান্তর করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কৃষি সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম, যুগ্ম সচিব খোরশেদ আলম সহ উর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।

আর এই অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত লক্ষ্য করা যায় রাশিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সভাপতি মিঞা সাত্তার ও তার ভাই আমিরুজ্জামান সোহেলের।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এই দুই ভাইয়ের নাম ঐ অনুষ্ঠানের ব্যনারে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সমালোচনা হতে পারে তাই পরে নাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে মন্ত্রণালয়।

 

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন মিঞা সাত্তার। ছবি সৌজন্যে: ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন মিঞা সাত্তার। ছবি সৌজন্যে: ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন।

মিঞা সাত্তার রাশিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সভাপতি। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায়। পারিবারিকভাবে তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বড় ভাই আওয়ামী লীগের সলঙ্গা থানা শাখার সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে জেলা আওয়ামী লীগের অর্থায়নে তাদের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।

জানা গেছে, মিঞা সাত্তার ও আমিরুজ্জামান সোহেল জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইলেকট্রিক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ)-এর বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে।

সূত্র জানায়, প্রায় এক দশক ধরে রাশিয়া থেকে সরকারিভাবে এমওপি ও নন-ইউরিয়া সার, গম আমদানির চুক্তিতে তারা নেগোশিয়েটর ও স্থানীয় এজেন্টের ভূমিকা পালন করছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ি, ২০২২ সালে রাশিয়া থেকে গম আমদানিকে ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সে বছর খাদ্য অধিদপ্তর প্রডিনটর্গের সঙ্গে ৫ লাখ টন গম আমদানির চুক্তি করে প্রতি মেট্রিক টন ৪৩০ মার্কিন ডলারে, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ছিল প্রায় ৩৮০ ডলার। এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়ায় আনুমানিক ২৪০ কোটি টাকা।

পরবর্তীতে জানা যায়, ওই সময় প্রডিনটর্গের স্থানীয় এজেন্ট ছিল ন্যাশনাল ইলেকট্রিক গ্রুপ। শুধু ওই চালান নয়, ২০২২ সাল থেকে মোট প্রায় ১১ লাখ টন গম আমদানিতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। আর প্রায় সবগুলোর সাথে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে যুক্ত ছিলেন এই দুই সহোদর।

এর আগে ২০১৫ সালে কামরুল ইসলাম খাদ্যমন্ত্রী থাকার সময় ব্রাজিল থেকে পোকা খাওয়া ও নিম্নমানের গম আমদানি নিয়ে ব্যপক হইচই হয়েছিল। এরপর সরকার গমের প্রোটিনের মান সাড়ে ১১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ করে। কিন্তু সাধন চন্দ্র মজুমদার খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০২২ সালে আবারও প্রোটিনের পরিমাণ কমিয়ে সাড়ে ১১ শতাংশ করে।

অভিযোগ রয়েছে, এর মাধ্যমে নিম্নমানের গম আমদানির সুযোগ তৈরি হয়। আর এই সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল মূলত এই দুই ব্যবসায়ীর স্বার্থে।

শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় সুবিধাভোগী হয়েছিল সরকারি কর্মকর্তারা। সে সময় দুই বছরে প্রোডিনটর্গের অর্থায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ১৭ কর্মকর্তা রাশিয়া সফর করেন। তখন টিআইবি এক বিবৃতি দিয়ে বাড়তি দামে গম কেনা এবং ন্যাশনাল ইলেকট্রিক গ্রুপের গম কেনার দর নির্ধারণে ভূমিকা থাকার বিষয়ে সমালোচনা করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিস্টরা বলছেন, রাশিয়া থেকে সার আমদানিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যেভাবে এই দুই ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরতা ছিল, এখনো সেটাই আছে। এতটুকু প্রভাব কমেনি। যদিও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বরাবরই দাবি করে আসছেন, কৃষি মন্ত্রণালয় সার আমদানিতে পুরনো সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গম কাণ্ডে আলোচিত সহোদরের হাতেই সার আমদানির দায়িত্ব!

কৃষি মন্ত্রণালয়ে ‘সাধন’ সিন্ডিকেট বহাল!

সর্বশেষ আপডেট ০১:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের ঘনিষ্ট আলোচিত দুই ব্যবসায়ী সহোদরের কাঁধে সওয়ার হয়েছে বর্তমান অন্তবর্তী সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয় রাশিয়া থেকে সার আমদানিতে এই দুই সহোদরের সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দুই সহোদর বিগত সরকারের সময় রাশিয়া থেকে নিম্ন মানের গম বেশি দামে সরবরাহ করে বেশ সমালোচিত ছিলেন। কিন্তু সাধন চন্দ্র মজুমদারের ঘনিষ্টতা এবং আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, এই দুই সহোদরের মাধ্যমেই সাধন চন্দ্র নানা সুবিধা ভোগ করতেন। বিগত সরকারের আলোচিত এই মন্ত্রী দুর্নীতির মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকলেও, এই ব্যবসায়ী চক্রের প্রভাব এখনো অটুট রয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া ফেডারেশনের ৩০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি (পটাশ) সার উপহার হিসেবে হস্তান্তর করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কৃষি সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম, যুগ্ম সচিব খোরশেদ আলম সহ উর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।

আর এই অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত লক্ষ্য করা যায় রাশিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সভাপতি মিঞা সাত্তার ও তার ভাই আমিরুজ্জামান সোহেলের।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এই দুই ভাইয়ের নাম ঐ অনুষ্ঠানের ব্যনারে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সমালোচনা হতে পারে তাই পরে নাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে মন্ত্রণালয়।

 

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন মিঞা সাত্তার। ছবি সৌজন্যে: ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন মিঞা সাত্তার। ছবি সৌজন্যে: ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন।

মিঞা সাত্তার রাশিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সভাপতি। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায়। পারিবারিকভাবে তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বড় ভাই আওয়ামী লীগের সলঙ্গা থানা শাখার সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে জেলা আওয়ামী লীগের অর্থায়নে তাদের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।

জানা গেছে, মিঞা সাত্তার ও আমিরুজ্জামান সোহেল জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইলেকট্রিক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ)-এর বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে।

সূত্র জানায়, প্রায় এক দশক ধরে রাশিয়া থেকে সরকারিভাবে এমওপি ও নন-ইউরিয়া সার, গম আমদানির চুক্তিতে তারা নেগোশিয়েটর ও স্থানীয় এজেন্টের ভূমিকা পালন করছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ি, ২০২২ সালে রাশিয়া থেকে গম আমদানিকে ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সে বছর খাদ্য অধিদপ্তর প্রডিনটর্গের সঙ্গে ৫ লাখ টন গম আমদানির চুক্তি করে প্রতি মেট্রিক টন ৪৩০ মার্কিন ডলারে, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ছিল প্রায় ৩৮০ ডলার। এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়ায় আনুমানিক ২৪০ কোটি টাকা।

পরবর্তীতে জানা যায়, ওই সময় প্রডিনটর্গের স্থানীয় এজেন্ট ছিল ন্যাশনাল ইলেকট্রিক গ্রুপ। শুধু ওই চালান নয়, ২০২২ সাল থেকে মোট প্রায় ১১ লাখ টন গম আমদানিতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। আর প্রায় সবগুলোর সাথে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে যুক্ত ছিলেন এই দুই সহোদর।

এর আগে ২০১৫ সালে কামরুল ইসলাম খাদ্যমন্ত্রী থাকার সময় ব্রাজিল থেকে পোকা খাওয়া ও নিম্নমানের গম আমদানি নিয়ে ব্যপক হইচই হয়েছিল। এরপর সরকার গমের প্রোটিনের মান সাড়ে ১১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ করে। কিন্তু সাধন চন্দ্র মজুমদার খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০২২ সালে আবারও প্রোটিনের পরিমাণ কমিয়ে সাড়ে ১১ শতাংশ করে।

অভিযোগ রয়েছে, এর মাধ্যমে নিম্নমানের গম আমদানির সুযোগ তৈরি হয়। আর এই সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল মূলত এই দুই ব্যবসায়ীর স্বার্থে।

শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় সুবিধাভোগী হয়েছিল সরকারি কর্মকর্তারা। সে সময় দুই বছরে প্রোডিনটর্গের অর্থায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ১৭ কর্মকর্তা রাশিয়া সফর করেন। তখন টিআইবি এক বিবৃতি দিয়ে বাড়তি দামে গম কেনা এবং ন্যাশনাল ইলেকট্রিক গ্রুপের গম কেনার দর নির্ধারণে ভূমিকা থাকার বিষয়ে সমালোচনা করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিস্টরা বলছেন, রাশিয়া থেকে সার আমদানিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যেভাবে এই দুই ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরতা ছিল, এখনো সেটাই আছে। এতটুকু প্রভাব কমেনি। যদিও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বরাবরই দাবি করে আসছেন, কৃষি মন্ত্রণালয় সার আমদানিতে পুরনো সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়েছে।