কূটনীতিক ব্যর্থতায় পুলিশের শান্তিরক্ষা মিশন মাঝপথে বাতিল
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
- / 118
জাতিসংঘ কঙ্গোতে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সম্পূর্ণ শান্তিরক্ষী কন্টিনজেন্টের মিশন মাঝপথে বাতিল করেছে। মাত্র এক মাস ২০ দিন আগে কঙ্গোর শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দেওয়া ১৮০ সদস্যের পুরো দলকে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে জাতিসংঘ। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ সদস্য কমানো হলেও বাংলাদেশের পুরো ইউনিট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকে কঙ্গোতে বাংলাদেশের পুলিশ মিশনকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতিসংঘ তহবিল সংকটের কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিলেও মিশনটি বহাল রাখার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
কঙ্গোতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ফরমড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) গত ২৬ আগস্ট দেশ ছাড়ে। এ ইউনিটে ছিলেন ১৮০ জন সদস্য, তাদের মধ্যে ৭০ জন নারী—যা পুরো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর একমাত্র নারী কন্টিনজেন্ট ছিল। এই দলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছরের আগস্টে। এটি ছিল বাংলাদেশের ১৮তম রোটেশন দল।
এক সপ্তাহ আগে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিশ্বব্যাপী চলমান নয়টি শান্তিরক্ষা মিশনে আগামী কয়েক মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ শান্তিরক্ষী কমানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল অনিশ্চয়তার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ১৩ থেকে ১৪ হাজার সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যকে প্রত্যাহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশের কঙ্গো মিশনে।
জাতিসংঘের একটি নথি অনুযায়ী, কঙ্গো, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ সুদানে ফরমড পুলিশ ইউনিটগুলোর সদস্য সংখ্যা ১৭ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হলেও কঙ্গোতে বাংলাদেশের পুরো ইউনিটই বাতিল করা হয়েছে। সেখানে মোট ১ হাজার ৫০ জন সদস্যের মধ্যে ১৮০ জনই বাংলাদেশি, যারা সবাই প্রত্যাহারের আওতায় পড়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা জানতাম কিছুসংখ্যক সদস্য কমানো হবে, কিন্তু পুরো ইউনিট বাতিল হবে তা কেউ ভাবেনি।”
কঙ্গোতে অবস্থানরত এক কর্মকর্তা বলেন, “এখানে ভারত, সেনেগাল ও মিশরের পুলিশ ইউনিট আছে। কূটনৈতিক যোগাযোগে তারা টিকে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা পুরোপুরি বাদ পড়েছি।”
অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, “কঙ্গোতে বাংলাদেশের নারী সদস্যরা সবসময়ই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। গত ৭ আগস্ট জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মেডেল প্যারেড হয়, যা আমাদের প্রতি আস্থার প্রতীক ছিল। তবুও প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতার অভাবে আজ আমরা মিশন হারাতে বসেছি।”
যদিও পুলিশের সদর দপ্তর জানিয়েছে, মিশন সম্পূর্ণ বাতিলের পরও তা পুনর্বহালের চেষ্টা চলছে। কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধানের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিনিধি দল বৈঠক করেছে। মিশনপ্রধান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ এলে বাংলাদেশের দলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, “শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। জাতিসংঘ ব্যয় সংকোচনের কারণে বাহিনী কমিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ বহিরাগত কারণ। আমাদের এখন পরবর্তী সুযোগের অপেক্ষা করতে হবে।”
বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে অংশ নেয়। ২০০৫ সাল থেকে এফপিইউ এবং ২০১১ সাল থেকে নারী কন্টিনজেন্ট কঙ্গোতে দায়িত্ব পালন করছে। এ পর্যন্ত ২১ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য জাতিসংঘ মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরেছেন। শান্তিরক্ষার পথে প্রাণ দিয়েছেন ২৪ জন বাংলাদেশি পুলিশ সদস্য।
সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যদিও কঙ্গোর এফপিইউ বাতিল হয়েছে, তবুও বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি ইন্ডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসাররা এখনও দায়িত্ব পালন করছেন—তবে তাদের সংখ্যা তুলনামূলক কম।































