কুষ্টিয়ায় বকেয়া বেতন নিয়ে তর্ক, গাড়িচালক নিহত
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 84
কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভায় বকেয়া বেতন নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে গাড়িচালক শহিদুল ইসলাম (৫৭) মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৯:৩০ মিনিটের দিকে পৌর ভবনে ঘটে। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয়রা সার্ভেয়ার মো. ফিরোজুল ইসলামকে অভিযুক্ত করেছেন।
নিহতের মেয়ে সুবর্ণা খাতুন অভিযোগ করেন, তার বাবা ছোট কর্মচারী। বকেয়া বেতন চাওয়ার সময় সার্ভেয়ার ফিরোজুল ইসলাম তাঁকে মারধর করে ১০১ নম্বর কক্ষে আটকে রাখেন। তিনি থানায় মামলা করবেন এবং অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর শহিদুলের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী ফিরোজুলের বাড়িতে হামলা চালান এবং কুমারখালী পৌর ভবনের প্রধান ফটক আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পৌরসভায় ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের বকেয়া বেতন প্রায় ৪২ মাসের এবং ১০ কোটি টাকার বেশি। ঘটনার সময় শহিদুল বিভিন্ন কক্ষের দরজা বন্ধ করতে গেলে সার্ভেয়ার ফিরোজুল তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন। পরে পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তারা শহিদুলকে ১০১ নম্বর কক্ষে এবং ফিরোজুলকে ১১৫ নম্বর কক্ষে আটকে রাখেন। কিছুক্ষণ পরে শহিদুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বাজার পরিদর্শক নুর ইসলাম বলেন, শহিদুল হার্টের রোগী ছিলেন এবং হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। মারামারি হয়নি।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, পৌরসভা কর্মকর্তাদের দোষে শহিদুলের মৃত্যু হয়েছে এবং সঠিক বিচার চেয়েছেন।
অভিযুক্ত সার্ভেয়ার ফিরোজুল ইসলাম বর্তমানে পলাতক। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বকেয়া বেতন নিয়ে বাগবিতণ্ডা থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

































