ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটায় ৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 270

কুয়াকাটায় ৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব রাস পূর্ণিমা ও রাসমেলা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। বর্তমানে এটি কুয়াকাটার অন্যতম বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রম আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে আয়োজকরা উৎসবের তারিখ নিশ্চিত করেন। সভায় সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নীহার রঞ্জন মণ্ডল সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক, ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদ হাসান, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম.এ. মোতালেব শরীফ, এবং কুয়াকাটার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আয়োজকরা জানান, উৎসব ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা এবং দর্শনার্থীদের সেবার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কুয়াকাটায় ৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব
কুয়াকাটায় ৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

ইঞ্জিনিয়ার নীহার রঞ্জন মণ্ডল বলেন, “রাস পূজা এখন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ একত্রিত হয়ে উৎসব উপভোগ করেন। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, “রাস উৎসবকে ঘিরে বিপুল জনসমাগম হয়। এজন্য জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, “রাস উৎসব কুয়াকাটার ঐতিহ্যের অংশ। দর্শনার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, রাস উৎসবের সময় কুয়াকাটা সৈকতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও মিলনমেলার এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্ত ও পর্যটকরা গঙ্গাস্নান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, যা উপকূলীয় শহর কুয়াকাটাকে উৎসবমুখর রূপে সাজিয়ে তোলে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কুয়াকাটায় ৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব রাস পূর্ণিমা ও রাসমেলা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। বর্তমানে এটি কুয়াকাটার অন্যতম বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রম আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে আয়োজকরা উৎসবের তারিখ নিশ্চিত করেন। সভায় সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নীহার রঞ্জন মণ্ডল সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক, ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদ হাসান, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম.এ. মোতালেব শরীফ, এবং কুয়াকাটার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আয়োজকরা জানান, উৎসব ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা এবং দর্শনার্থীদের সেবার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কুয়াকাটায় ৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব
কুয়াকাটায় ৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

ইঞ্জিনিয়ার নীহার রঞ্জন মণ্ডল বলেন, “রাস পূজা এখন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ একত্রিত হয়ে উৎসব উপভোগ করেন। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, “রাস উৎসবকে ঘিরে বিপুল জনসমাগম হয়। এজন্য জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, “রাস উৎসব কুয়াকাটার ঐতিহ্যের অংশ। দর্শনার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, রাস উৎসবের সময় কুয়াকাটা সৈকতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও মিলনমেলার এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্ত ও পর্যটকরা গঙ্গাস্নান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, যা উপকূলীয় শহর কুয়াকাটাকে উৎসবমুখর রূপে সাজিয়ে তোলে।