কুড়িগ্রামে ১৬-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
- / 403
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চররাজিবপুরে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বাকি সময় বিদ্যুৎ থাকলেও তা লো-ভোল্টেজ হওয়ায় বৈদ্যুতিক ফ্যান ও এসি চালানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এতে ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্রয়লার খামারে মুরগি অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে, যার ফলে খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
চর রাজিবপুরের খামার ব্যবসায়ী শাহজাহান বাবু জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও কম ভোল্টেজের কারণে ব্রয়লার মুরগির মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে এবং ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি অভিযোগ করেছেন যে, মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়, অথচ সেবা যথাযথ দেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় সাংবাদিক সুজন মাহমুদ জানান, টানা লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে অফিসে কাজ করাও সম্ভব হচ্ছে না। কম্পিউটার অন করা যায় না, ফলে সারাদিনের খবর সংগ্রহ করেও অফিসে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলার জন্য সরকারি অফিস ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
স্থানীয়রা জানান, পাশের জেলা শেরপুর ও জামালপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো থাকলেও রৌমারী ও চররাজিবপুরে দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলমান। তারা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা আরও বলেন, এত দিন এ অবস্থা চলতে থাকলে মানুষ বিদ্যুতের বদলে অন্য বিকল্প পথ বেছে নেবে।
রৌমারী জেনারেল হাসপাতালের মালিক মাহবুব আলম বলেন, প্রচণ্ড গরমে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু ঘনঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে মানুষ ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রৌমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, উৎপাদন কম থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ২২ মেগাওয়াট হলেও মাত্র ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। শেরপুর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩৩ কেভি থাকার কথা থাকলেও তা কম ভোল্টেজে নেমে আসায় লোডশেডিং বেড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন শিগগিরই লোডশেডিং কমে যাবে।



































