ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক

কী বলেন! জবাবে দীপু মনি বলেন, ‘হচ্ছে এটা’

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • / 270

দুর্নীতির মামলায় নিজেকে প্রতিরক্ষা দিতে নিজের সব ব্যাংক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছেন সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, মামলার প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়া আইনি লড়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর একটি বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিচারকের অনুমতিক্রমে কথা বলেন। দীপু মনি বলেন, “পত্রিকায় পড়েছি, আমার ২৮টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে—যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে আমার ছয়টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যার মধ্যে দুটি নিষ্ক্রিয়। বাকি চারটিতে সীমিত লেনদেন হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, তিনি একজন নিয়মিত করদাতা এবং গত ১৫ বছরের আয়কর বিবরণীতে সব তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হিসাবগুলোর লেনদেন তথ্য চেয়েছেন।

আইনি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ

আদালতের সামনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমি ১১ মাস ধরে কারাগারে আছি। আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার বা পরামর্শের সুযোগ খুব সীমিত। কাশিমপুর নারী কারাগারে সাক্ষাতের নিয়ম জটিল, ফলে ৬০টির বেশি মামলার আসামি হয়েও আমি পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা পাচ্ছি না।” এ সময় বিচারক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “কী বলেন!” জবাবে দীপু মনি বলেন, “হচ্ছে এটা!”

বিচারক এরপর বলেন, “আইন অনুযায়ী তাকে সুরক্ষা দিতে হবে।” দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রেপ্তার দেখানোর পর আইন অনুযায়ী কাগজপত্র সরবরাহ করা হবে এবং মামলার ভিত্তি হচ্ছে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্ত।

অভিযোগ ও গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তথ্য

২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুদকের পক্ষ থেকে যে মামলাটি করা হয়, সেখানে ৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি ২৮টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের কথাও উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, “আমার সম্পদের পরিমাণ ছয় থেকে সাত কোটি টাকার মতো। এত বড় অঙ্কের লেনদেনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

বিচারক বলেন, “এই পরিমাণ লেনদেন তো বাস্তবসম্মত নয়।” দীপু মনি বলেন, “আমি আইনি লড়াইয়ের সুযোগ চাই, আপনারাই একমাত্র ভরসা।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই সপ্তাহ পর দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারের পতনের পর থেকে তিনি প্রায় নিখোঁজ অবস্থায় ছিলেন। সাবেক এই পররাষ্ট্র ও শিক্ষামন্ত্রী ২০০৮ সাল থেকে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

কী বলেন! জবাবে দীপু মনি বলেন, ‘হচ্ছে এটা’

সর্বশেষ আপডেট ১২:০০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

দুর্নীতির মামলায় নিজেকে প্রতিরক্ষা দিতে নিজের সব ব্যাংক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছেন সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, মামলার প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়া আইনি লড়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর একটি বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিচারকের অনুমতিক্রমে কথা বলেন। দীপু মনি বলেন, “পত্রিকায় পড়েছি, আমার ২৮টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে—যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে আমার ছয়টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যার মধ্যে দুটি নিষ্ক্রিয়। বাকি চারটিতে সীমিত লেনদেন হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, তিনি একজন নিয়মিত করদাতা এবং গত ১৫ বছরের আয়কর বিবরণীতে সব তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হিসাবগুলোর লেনদেন তথ্য চেয়েছেন।

আইনি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ

আদালতের সামনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমি ১১ মাস ধরে কারাগারে আছি। আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার বা পরামর্শের সুযোগ খুব সীমিত। কাশিমপুর নারী কারাগারে সাক্ষাতের নিয়ম জটিল, ফলে ৬০টির বেশি মামলার আসামি হয়েও আমি পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা পাচ্ছি না।” এ সময় বিচারক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “কী বলেন!” জবাবে দীপু মনি বলেন, “হচ্ছে এটা!”

বিচারক এরপর বলেন, “আইন অনুযায়ী তাকে সুরক্ষা দিতে হবে।” দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রেপ্তার দেখানোর পর আইন অনুযায়ী কাগজপত্র সরবরাহ করা হবে এবং মামলার ভিত্তি হচ্ছে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্ত।

অভিযোগ ও গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তথ্য

২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুদকের পক্ষ থেকে যে মামলাটি করা হয়, সেখানে ৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি ২৮টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের কথাও উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, “আমার সম্পদের পরিমাণ ছয় থেকে সাত কোটি টাকার মতো। এত বড় অঙ্কের লেনদেনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

বিচারক বলেন, “এই পরিমাণ লেনদেন তো বাস্তবসম্মত নয়।” দীপু মনি বলেন, “আমি আইনি লড়াইয়ের সুযোগ চাই, আপনারাই একমাত্র ভরসা।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই সপ্তাহ পর দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারের পতনের পর থেকে তিনি প্রায় নিখোঁজ অবস্থায় ছিলেন। সাবেক এই পররাষ্ট্র ও শিক্ষামন্ত্রী ২০০৮ সাল থেকে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।