কিডনি দিলেন স্ত্রী, ঘর হারালেন স্বামী
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
- / 124
সাভারের বহুল আলোচিত ‘কিডনি কাণ্ডে’ এবার মুখ খুললেন উম্মে সাহেদীনা টুনির স্বামী মো. তারেক। তারেকের দাবি, স্ত্রী টুনি তার কাছ থেকে এক শতাংশ জমি এবং তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার মালিকানা লিখে নিয়েই তাকে কিডনি দেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক ও পারিবারিক নানা টানাপোড়েন উঠে এসেছে। তারেক বলেন, বিদেশে কষ্টার্জিত অর্থে কেনা সাভারের কলমা এলাকায় তার বাড়ির দ্বিতীয় তলা স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়ার পরই টুনি ভারতে গিয়ে কিডনি দেন। সেই সময় তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল, কিন্তু প্রতিস্থাপনের পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়।
তারেক অভিযোগ করেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের পর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার শারীরিক সক্ষমতা কমে যায়। এরপরই তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। তিনি বলেন, টুনি টিকটকে জড়িয়ে পড়ে এবং একদিন তিনি নিজেই তার ভাড়াটিয়ার সঙ্গে টুনিকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরেন।
ঘটনার জেরে টুনির রোষানলে পড়েন তারেক। একাধিক মামলা, নারী নির্যাতন ও যৌতুকের অভিযোগে তাকে জেল খাটতে হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জানতে পারেন, টুনি উল্টো তার বিরুদ্ধে পরকীয়া ও অনলাইন জুয়ার অভিযোগ এনেছেন। তারেক বলেন, ‘‘আমি এখন ভাইয়ের বাসায় আশ্রয়ে আছি, আমার ফোন, কাপড়চোপড় কিছুই আমার কাছে নেই। আমার নিজের বাড়ির ভাড়ার টাকাও টুনি নিচ্ছে, অথচ চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।’’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘টুনি বলেছে আমি শারীরিকভাবে অক্ষম, তাহলে আমি কীভাবে অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারি?’’ তিনি জানান, এখনো তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়নি, তবু স্ত্রী তার যাবতীয় অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করছেন।
তারেকের সাবেক ভাড়াটিয়া মো. হৃদয় খান বলেন, ‘‘আমি ওখানে ভাড়ায় থাকতাম। তারেক যা বলেছেন সবই সত্যি। টুনির আচরণ আগে থেকেই ভালো ছিল না।’’
উল্লেখ্য, টুনি এর আগে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন, কিডনি দেওয়ার পর স্বামী তারেক পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন, অনলাইন জুয়া খেলেন এবং তাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এবার তারেক নিজেই মুখ খুলে উল্টো অভিযোগ তুলেছেন এবং নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন।































