ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর ৭ বছর

ইব্রাহিম ওয়ালিদ
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / 125

কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর ৫ বছর

আজ বাংলা রক সংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর সাত বছর পূর্ণ হলো। ২০১৮ সালের এই দিনে কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের এই মহানায়ক। সাত বছর পার হলেও, তার সৃষ্টির মুগ্ধতা ও প্রভাব এখনো সমানভাবে স্পন্দিত হয় সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।

সংগীত জীবনের সূচনা ও উত্থান
আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আশির দশকে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার পেশাদার সংগীত জীবনের সূচনা হয়। এরপর ‘সোলস’-এ কিছু বছর থাকার পর ১৯৯১ সালে তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন এলআরবি (Love Runs Blind)। এই ব্যান্ডের মাধ্যমে তিনি দেশীয় রক সংগীতে এক বিপ্লব আনেন।

তার কণ্ঠে ‘চলো বদলে যাই’, ‘রুপালি গিটার’, ‘সেই তুমি’, ‘হাসতে দেখো কাঁদতে দেখো’, ‘আমাদের সোনার বাংলা’, ‘একাকী’ প্রভৃতি গান শুধু গানের তালিকাই নয়, হয়ে উঠেছে একেকটি প্রজন্মের আবেগ, ভালোবাসা ও প্রতিবাদের ভাষা।

সাত বছর পর আজ
আজ, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর, আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করছে তার সহকর্মী, ভক্ত এবং সংগীতজগতের সকল শ্রেণির মানুষ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে আসছে তার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বাণী। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় আয়োজিত হয়েছে স্মরণসভা, গানে গানে তাকে শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান। এলআরবির বর্তমান সদস্যরাও আজকের দিনে তাকে ঘিরে আয়োজন করেছেন বিশেষ লাইভ শো।

তার স্ত্রী ও সন্তানরা জানিয়েছেন, “বাচ্চু ভাইয়ের গিটার আজও বাজে ঘরে, যেন তিনি এখনও রয়েছেন আমাদের মাঝে।”

আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন গায়ক বা গিটারিস্ট ছিলেন না, ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক। তার হাত ধরেই বাংলাদেশের তরুণরা রক গিটার হাতে নেওয়ার সাহস পেয়েছিল। তিনি ছিলেন মঞ্চে বিদ্যুতের মতো প্রাণবন্ত, আর স্টুডিওতে ছিলেন এক নিখুঁত কারিগর।

আজও নতুন প্রজন্ম তার গান শোনে, তার মতো গিটার বাজাতে শেখে। তার সৃষ্টি অমর হয়ে বেঁচে আছে ইউটিউব, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং ভক্তদের হৃদয়ে।

পাঁচ বছর কেটে গেলেও আইয়ুব বাচ্চুর শূন্যতা পূরণ হয়নি, আর হয়তো হবেও না। তিনি ছিলেন একজন ‘রুপালি গিটার’ বাদক, যার সুর আজও অগণিত হৃদয়ে বাজে—ভালোবাসার, বিরহের, প্রতিবাদের ভাষা হয়ে।

আইয়ুব বাচ্চু নেই, কিন্তু তার গান আছে। আর সেই গানই তাকে অমর করে রেখেছে কোটি কোটি ভক্তের মাঝে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর ৭ বছর

সর্বশেষ আপডেট ১২:২১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

আজ বাংলা রক সংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর সাত বছর পূর্ণ হলো। ২০১৮ সালের এই দিনে কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের এই মহানায়ক। সাত বছর পার হলেও, তার সৃষ্টির মুগ্ধতা ও প্রভাব এখনো সমানভাবে স্পন্দিত হয় সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।

সংগীত জীবনের সূচনা ও উত্থান
আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আশির দশকে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার পেশাদার সংগীত জীবনের সূচনা হয়। এরপর ‘সোলস’-এ কিছু বছর থাকার পর ১৯৯১ সালে তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন এলআরবি (Love Runs Blind)। এই ব্যান্ডের মাধ্যমে তিনি দেশীয় রক সংগীতে এক বিপ্লব আনেন।

তার কণ্ঠে ‘চলো বদলে যাই’, ‘রুপালি গিটার’, ‘সেই তুমি’, ‘হাসতে দেখো কাঁদতে দেখো’, ‘আমাদের সোনার বাংলা’, ‘একাকী’ প্রভৃতি গান শুধু গানের তালিকাই নয়, হয়ে উঠেছে একেকটি প্রজন্মের আবেগ, ভালোবাসা ও প্রতিবাদের ভাষা।

সাত বছর পর আজ
আজ, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর, আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করছে তার সহকর্মী, ভক্ত এবং সংগীতজগতের সকল শ্রেণির মানুষ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে আসছে তার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বাণী। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় আয়োজিত হয়েছে স্মরণসভা, গানে গানে তাকে শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান। এলআরবির বর্তমান সদস্যরাও আজকের দিনে তাকে ঘিরে আয়োজন করেছেন বিশেষ লাইভ শো।

তার স্ত্রী ও সন্তানরা জানিয়েছেন, “বাচ্চু ভাইয়ের গিটার আজও বাজে ঘরে, যেন তিনি এখনও রয়েছেন আমাদের মাঝে।”

আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন গায়ক বা গিটারিস্ট ছিলেন না, ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক। তার হাত ধরেই বাংলাদেশের তরুণরা রক গিটার হাতে নেওয়ার সাহস পেয়েছিল। তিনি ছিলেন মঞ্চে বিদ্যুতের মতো প্রাণবন্ত, আর স্টুডিওতে ছিলেন এক নিখুঁত কারিগর।

আজও নতুন প্রজন্ম তার গান শোনে, তার মতো গিটার বাজাতে শেখে। তার সৃষ্টি অমর হয়ে বেঁচে আছে ইউটিউব, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং ভক্তদের হৃদয়ে।

পাঁচ বছর কেটে গেলেও আইয়ুব বাচ্চুর শূন্যতা পূরণ হয়নি, আর হয়তো হবেও না। তিনি ছিলেন একজন ‘রুপালি গিটার’ বাদক, যার সুর আজও অগণিত হৃদয়ে বাজে—ভালোবাসার, বিরহের, প্রতিবাদের ভাষা হয়ে।

আইয়ুব বাচ্চু নেই, কিন্তু তার গান আছে। আর সেই গানই তাকে অমর করে রেখেছে কোটি কোটি ভক্তের মাঝে।