ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কার্গো ভিলেজের আগুনে ওষুধ শিল্পে বড় ধাক্কা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 103

কার্গো ভিলেজের আগুনে ওষুধ শিল্পে বড় ধাক্কা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ১৮ অক্টোবর ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে দেশের ওষুধ শিল্পে বড় ধাক্কা লেগেছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) জানিয়েছে, শীর্ষ ৪৫টি কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে গেছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাপির মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন জানান, সামগ্রিকভাবে এই ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার হতে পারে। এতে অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও ভ্যাকসিনসহ জীবনরক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডা. জাকির হোসেন বলেন, দেশের ৩০৭টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সক্রিয়ভাবে উৎপাদনে থাকা প্রায় ২৫০টি কোম্পানির জন্য এই আকস্মিক ক্ষতি বহুবিধ ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বাপির প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী, শুধু শীর্ষ ৪৫টি কোম্পানিরই প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল ধ্বংস হয়েছে, অন্য কোম্পানির ক্ষতি যুক্ত করলে মোট ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া কাঁচামালের মধ্যে ছিল অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ডায়াবেটিক ও ক্যান্সারজাতীয় ওষুধ তৈরির উপকরণ। এছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেশিনারিজ ও স্পেয়ার পার্টসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পুনরায় আমদানি করতে সময় লাগবে। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি সময়সূচিও প্রভাবিত হবে।

বাপি মহাসচিব জানান, দেশের ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে চীন, ভারত ও ইউরোপ থেকে। এসব কাঁচামালের একটি বড় অংশ জীবনরক্ষাকারী ওষুধে ব্যবহৃত হয়, যা সাধারণত আকাশপথে আনা হয়। কার্গো ভিলেজে আগুন লাগায় এই দামি কাঁচামাল ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিকল্প এয়ারপোর্টে পণ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা প্রয়োজন হওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে। নারকোটিকস বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন এমন পণ্য পুনরায় আনা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। ডা. জাকির হোসেন বলেন, “একটি র-ম্যাটেরিয়াল হারালে তার উপর নির্ভরশীল প্রতিটি ফিনিশড প্রোডাক্টের উৎপাদন অনিশ্চয়তায় পড়ে, ফলে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি মানসম্পন্ন ওষুধ ১৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়, যার মধ্যে উন্নত দেশও রয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে উৎপাদন চেইনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। বাপি দ্রুত তদন্ত, ক্ষতিপূরণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং বিকল্প কার্গো ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কার্গো ভিলেজের আগুনে ওষুধ শিল্পে বড় ধাক্কা

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ১৮ অক্টোবর ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে দেশের ওষুধ শিল্পে বড় ধাক্কা লেগেছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) জানিয়েছে, শীর্ষ ৪৫টি কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে গেছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাপির মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন জানান, সামগ্রিকভাবে এই ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার হতে পারে। এতে অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও ভ্যাকসিনসহ জীবনরক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডা. জাকির হোসেন বলেন, দেশের ৩০৭টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সক্রিয়ভাবে উৎপাদনে থাকা প্রায় ২৫০টি কোম্পানির জন্য এই আকস্মিক ক্ষতি বহুবিধ ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বাপির প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী, শুধু শীর্ষ ৪৫টি কোম্পানিরই প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল ধ্বংস হয়েছে, অন্য কোম্পানির ক্ষতি যুক্ত করলে মোট ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া কাঁচামালের মধ্যে ছিল অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ডায়াবেটিক ও ক্যান্সারজাতীয় ওষুধ তৈরির উপকরণ। এছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেশিনারিজ ও স্পেয়ার পার্টসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পুনরায় আমদানি করতে সময় লাগবে। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি সময়সূচিও প্রভাবিত হবে।

বাপি মহাসচিব জানান, দেশের ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে চীন, ভারত ও ইউরোপ থেকে। এসব কাঁচামালের একটি বড় অংশ জীবনরক্ষাকারী ওষুধে ব্যবহৃত হয়, যা সাধারণত আকাশপথে আনা হয়। কার্গো ভিলেজে আগুন লাগায় এই দামি কাঁচামাল ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিকল্প এয়ারপোর্টে পণ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা প্রয়োজন হওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে। নারকোটিকস বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন এমন পণ্য পুনরায় আনা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। ডা. জাকির হোসেন বলেন, “একটি র-ম্যাটেরিয়াল হারালে তার উপর নির্ভরশীল প্রতিটি ফিনিশড প্রোডাক্টের উৎপাদন অনিশ্চয়তায় পড়ে, ফলে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি মানসম্পন্ন ওষুধ ১৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়, যার মধ্যে উন্নত দেশও রয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে উৎপাদন চেইনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। বাপি দ্রুত তদন্ত, ক্ষতিপূরণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং বিকল্প কার্গো ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।