ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কড়াইলে দ্রুত খাবার ও গরম কাপড়ের প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / 144

কড়াইলে দ্রুত খাবার ও গরম কাপড়ের প্রয়োজন

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন হাজারো মানুষ। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা এখন সবচেয়ে বেশি চাইছেন খাবার ও গরম পোশাক।

বুধবার সকালে বস্তির ভ্যানচালক মনোয়ার হোসেন জানান, সারারাত সন্তানদের নিয়ে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে কাটিয়েছেন। আগুনে তার টিনশেড ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বলেন, “গায়ে দেওয়ার মতো কাঁথা নেই। বাচ্চাগুলোর সর্দি লেগে গেছে। এখন ঘর বানাবো কীভাবে, বুঝতে পারছি না।”

মঙ্গলবার রাতের আগুনে প্রায় ১৫০০ ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট।

বনানীর বিপণিবিতানে কাজ করা আবুল খায়েরও আগুনে বাসস্থান হারিয়েছেন। আগুন লাগার সময় তিনি বাইরে ছিলেন, স্ত্রী ছিলেন বস্তিতে। তিনি বলেন, “এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেল। ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি।”

তার স্ত্রী নাসরিন জানান, আগুন লাগার পর চিৎকার–চেঁচামেচিতে বস্তি অস্থির হয়ে ওঠে। কোথাও পানির ব্যবস্থা না থাকায় কেউ আগুন নেভাতে এগোতে পারেনি। তিনি বলেন, “মোবাইলটা নিয়ে দৌড়ে বের হতে পেরেছি শুধু।”

ফায়ার সার্ভিসের পৌঁছাতে দেরি

বস্তিবাসীর অভিযোগ—আগুন লাগার প্রায় ৪০ মিনিট পর প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ফায়ার সার্ভিস বলছে, সড়কের তীব্র যানজটের কারণে দেরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, আগুনের তৃতীয় ধাপে পৌঁছানোর পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশি সময় লাগে, বিশেষ করে বস্তির ঘিঞ্জি পরিবেশে।

খাবার ও পোশাকের তীব্র সংকট

একাধিক বাসিন্দা জানান, পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে কোনো খাবার বা পোশাক উদ্ধার করতে পারেননি। টাকা না থাকায় রাতেও খাবার কিনতে পারেননি অনেকে। মাঝরাতে কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করা হলেও তা সবাইকে পৌঁছায়নি।

বিল্লাল হোসেন নামের এক বাসিন্দা বলেন, “রাতে ফুটপাতে পলিথিন বিছিয়ে পরিবার নিয়ে ঘুমিয়েছি। সকালে গিয়ে দেখি, ঘরের কিছুই নেই। এখন খাবার পাবো কোথা থেকে?”

কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ

ডিএনসিসির বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, ডিএনসিসি, ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও এনজিওগুলো সমন্বয়ে সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, “বিকেলে সমন্বয় সভায় তাৎক্ষণিক খাদ্য ও গরম পোশাক দেওয়ার বিষয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হবে।”

প্রধান উপদেষ্টার সমবেদনা

অগ্নিকাণ্ডে গৃহহীন হওয়া পরিবারগুলোর প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কড়াইলে দ্রুত খাবার ও গরম কাপড়ের প্রয়োজন

সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন হাজারো মানুষ। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা এখন সবচেয়ে বেশি চাইছেন খাবার ও গরম পোশাক।

বুধবার সকালে বস্তির ভ্যানচালক মনোয়ার হোসেন জানান, সারারাত সন্তানদের নিয়ে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে কাটিয়েছেন। আগুনে তার টিনশেড ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বলেন, “গায়ে দেওয়ার মতো কাঁথা নেই। বাচ্চাগুলোর সর্দি লেগে গেছে। এখন ঘর বানাবো কীভাবে, বুঝতে পারছি না।”

মঙ্গলবার রাতের আগুনে প্রায় ১৫০০ ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট।

বনানীর বিপণিবিতানে কাজ করা আবুল খায়েরও আগুনে বাসস্থান হারিয়েছেন। আগুন লাগার সময় তিনি বাইরে ছিলেন, স্ত্রী ছিলেন বস্তিতে। তিনি বলেন, “এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেল। ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি।”

তার স্ত্রী নাসরিন জানান, আগুন লাগার পর চিৎকার–চেঁচামেচিতে বস্তি অস্থির হয়ে ওঠে। কোথাও পানির ব্যবস্থা না থাকায় কেউ আগুন নেভাতে এগোতে পারেনি। তিনি বলেন, “মোবাইলটা নিয়ে দৌড়ে বের হতে পেরেছি শুধু।”

ফায়ার সার্ভিসের পৌঁছাতে দেরি

বস্তিবাসীর অভিযোগ—আগুন লাগার প্রায় ৪০ মিনিট পর প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ফায়ার সার্ভিস বলছে, সড়কের তীব্র যানজটের কারণে দেরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, আগুনের তৃতীয় ধাপে পৌঁছানোর পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশি সময় লাগে, বিশেষ করে বস্তির ঘিঞ্জি পরিবেশে।

খাবার ও পোশাকের তীব্র সংকট

একাধিক বাসিন্দা জানান, পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে কোনো খাবার বা পোশাক উদ্ধার করতে পারেননি। টাকা না থাকায় রাতেও খাবার কিনতে পারেননি অনেকে। মাঝরাতে কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করা হলেও তা সবাইকে পৌঁছায়নি।

বিল্লাল হোসেন নামের এক বাসিন্দা বলেন, “রাতে ফুটপাতে পলিথিন বিছিয়ে পরিবার নিয়ে ঘুমিয়েছি। সকালে গিয়ে দেখি, ঘরের কিছুই নেই। এখন খাবার পাবো কোথা থেকে?”

কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ

ডিএনসিসির বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, ডিএনসিসি, ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও এনজিওগুলো সমন্বয়ে সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, “বিকেলে সমন্বয় সভায় তাৎক্ষণিক খাদ্য ও গরম পোশাক দেওয়ার বিষয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হবে।”

প্রধান উপদেষ্টার সমবেদনা

অগ্নিকাণ্ডে গৃহহীন হওয়া পরিবারগুলোর প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।