ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওসমানী উদ্যানে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 129

ওসমানী উদ্যানে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’

জুলাই মাসের ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এবং সেই আন্দোলনের চেতনাকে অম্লান রাখতে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে নির্মিত হচ্ছে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। রবিবার (১২ অক্টোবর) স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ৪৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। নকশা অনুযায়ী, এটি একটি বৃত্তাকার বেদির ওপর গড়ে তোলা হবে। দুই পাশে থাকবে চারটি করে মোট আটটি আয়তাকার কলাম, আর মাঝখানে থাকবে একটি স্বতন্ত্র বৃত্তাকার কলাম, যার উচ্চতা হবে প্রায় ৯০ ফুট। স্মৃতিস্তম্ভে প্রবেশের জন্য দুটি প্রবেশদ্বার এবং প্রবেশপথে এপিটাফ স্থাপন করা হবে। পুরো এলাকা সাজানো হবে কৃষ্ণচূড়া জাতীয় বৃহদাকার গাছ ও ফুলের চারা দিয়ে।

ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের নকশা ও নির্মাণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি এবং সেই সময়ের ইতিহাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কোনো প্রকল্প হাতে নিলেই একটি মহল বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কিন্তু এটি জনগণের টাকার দায়বদ্ধতা নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা। অতীতে ফ্যাসিবাদের সময় অসংখ্য ভাস্কর্য ও অবকাঠামো নির্মাণে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও তখন কেউ প্রশ্ন তোলেনি।”

উপদেষ্টা জানান, “আগের সরকারের আমলে শুধু পরামর্শক ফি দিয়েই যে পরিমাণ অর্থ খরচ হতো, এখন সেই অর্থেই পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে। সব ধরনের অপচেষ্টা সত্ত্বেও সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য যখন অন্য কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি, তখন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার অনুপ্রেরণায় ডিএসসিসি এই ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছে।”

তিনি জানান, প্রকল্পের পাইলিং কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব শহীদদের স্মরণে দোয়া করেন এবং একটি ঔষধি গাছ রোপণ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীসহ ডিএসসিসি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ওসমানী উদ্যানে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

জুলাই মাসের ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এবং সেই আন্দোলনের চেতনাকে অম্লান রাখতে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে নির্মিত হচ্ছে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। রবিবার (১২ অক্টোবর) স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ৪৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। নকশা অনুযায়ী, এটি একটি বৃত্তাকার বেদির ওপর গড়ে তোলা হবে। দুই পাশে থাকবে চারটি করে মোট আটটি আয়তাকার কলাম, আর মাঝখানে থাকবে একটি স্বতন্ত্র বৃত্তাকার কলাম, যার উচ্চতা হবে প্রায় ৯০ ফুট। স্মৃতিস্তম্ভে প্রবেশের জন্য দুটি প্রবেশদ্বার এবং প্রবেশপথে এপিটাফ স্থাপন করা হবে। পুরো এলাকা সাজানো হবে কৃষ্ণচূড়া জাতীয় বৃহদাকার গাছ ও ফুলের চারা দিয়ে।

ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের নকশা ও নির্মাণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি এবং সেই সময়ের ইতিহাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কোনো প্রকল্প হাতে নিলেই একটি মহল বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কিন্তু এটি জনগণের টাকার দায়বদ্ধতা নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা। অতীতে ফ্যাসিবাদের সময় অসংখ্য ভাস্কর্য ও অবকাঠামো নির্মাণে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও তখন কেউ প্রশ্ন তোলেনি।”

উপদেষ্টা জানান, “আগের সরকারের আমলে শুধু পরামর্শক ফি দিয়েই যে পরিমাণ অর্থ খরচ হতো, এখন সেই অর্থেই পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে। সব ধরনের অপচেষ্টা সত্ত্বেও সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য যখন অন্য কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি, তখন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার অনুপ্রেরণায় ডিএসসিসি এই ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছে।”

তিনি জানান, প্রকল্পের পাইলিং কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব শহীদদের স্মরণে দোয়া করেন এবং একটি ঔষধি গাছ রোপণ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীসহ ডিএসসিসি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।