ওয়াসা কর্মচারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির একগুচ্ছ অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 113
ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ রানা। বারবার দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসলেও তিনি ধরোছোয়ার বাইরেই রয়ে যাচ্ছেন।
মাত্র ৩৫ হাজার টাকা বেতনের এই কর্মকর্তার সম্পদ দেখে যে কারো চোখ ছানাবড়া হওয়ার উপক্রম।
এর আগে তিনি ওয়াসার মিটার রিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সে সময় আন্ডার বিলিং, মিটার টেম্পারিং এবং অবৈধ সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির এসব অর্থে তিনি নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় রানার রয়েছে চারটি বহুতল বাড়ি। এর মধ্যে টিক্কাপাড়ার ৭/এ/১৫ নম্বর বাড়ি, ঢাকা উদ্যানের ৩ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর চারতলা ভবন এবং চান মিয়া হাউজিংয়ের ২ নম্বর রোডে আরেকটি বাড়ির মালিক তিনি। এছাড়া মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোডের এম/৮ নম্বরের একটি দোতলা সরকারি সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন।
শুধু তাই নয়, গাজীপুরের শ্রীপুর, মাওনা, ময়মনসিংহের ভালুকা, পাইথল ও গফরগাঁওয়েও রয়েছে তার বিপুল সম্পদ। নিজ গ্রাম ময়মনসিংহের পাগলা থানার মাখল গ্রামে তিনি নির্মাণ করেছেন রাজকীয় এক প্রাসাদ। মাত্র ৩৫ হাজার টাকা বেতনের সরকারি কর্মচারী হয়ে এত সম্পদের মালিক হওয়ায় বিস্মিত তার সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা।
জানা গেছে, ওয়াসার এই কর্মচারির নানা অভিযোগ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়। এতোসব অভিযোগের পরও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বর্তমানে তিনি ঢাকা ওয়াসার ২ নম্বর রাজস্ব জোনে কর্মরত থাকলেও, অতীতে অন্যান্য জোনেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষভাবে জানা গেছে, ওয়াসার পিপিআই প্রকল্পের অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন রানা। তিনি নিজে মাঠপর্যায়ে কাজ না করে ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগকৃত সহকারী মো. জাকিরসহ একাধিক বহিরাগত ডুপলি কর্মচারী দিয়ে কাজ পরিচালনা করেন।
বহিরাগত ডুপলিদের মধ্যে তার সহকারী জাকিরকে ২৫ হাজার টাকা এবং গাড়িচালককেও ২৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়, যেখানে রানার নিজের মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকা মাত্র।






































