ওয়ারেন্ট না থাকায় গ্রেপ্তার হয়নি আব্দুল হামিদ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫
- / 478
সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে রোববার (৮ জুন) দিবাগত রাত দেড়টায় থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (টিজি-৩৩৯) ঢাকায় আসেন আব্দুল হামিদ। অবতরণের পর রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি হুইলচেয়ারে করে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যান। সেখানে তাকে দীর্ঘক্ষণ হুইলচেয়ারে বসে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পরে রাত ২টা ৪৫ মিনিটে (পৌনে ৩টা) তার ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
এ সময় তার পরনে ছিল শার্ট ও লুঙ্গি। সূত্র জানায়, আব্দুল হামিদকে বেশ বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা মো. আব্দুল হামিদ গত মে মাসের শুরুতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশ ছেড়েছিলেন। তার দেশত্যাগে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তিনি চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ছেলে রিয়াদ আহমেদ তুষার ও শ্যালক ডা. আ. ন. ম. নৌশাদ খান। জানা যায়, দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শেই তিনি বিদেশে যান।
বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শুরু হয় তোলপাড়। তার দেশত্যাগে যেসব ব্যক্তি সহযোগিতা করেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে পুলিশ সদর দপ্তর একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
আব্দুল হামিদ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল প্রথমবার দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি এবং ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার মেয়াদ শেষে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। বঙ্গভবন ছাড়ার পর আব্দুল হামিদ রাজধানীর নিকুঞ্জে তাদের বাসায় উঠেছিলেন।
ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলির ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১২৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
আব্দুল হামিদের দেশত্যাগের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এর প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।




































