ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে এবার পাওয়া গেল প্রায় ১২ কোটি টাকা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 93
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনা করে এবার পাওয়া গেছে ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৮ হাজার ৪৮১ টাকা। এরমধ্যে দানবাক্সের টাকা ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ এবং অনলাইনে দানের টাকা ১২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪৩ টাকা।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিনভর গণনার পর এই পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রূপার অলঙ্কার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ সন্ধ্যার পর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
শনিবার সকাল ৭টায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির তত্ত্বাবধানে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৩৫ বস্তা টাকা। এ সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৩২ বস্তা টাকা, যা চার মাস ১৮ দিনে জমা হয়েছিল।
সকাল ৯টায় শুরু হয় গণনা। এতে অংশ নেন পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন এবং আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২৫০ জন ছাত্র, মসজিদের ৩৩ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা–কর্মচারী, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য।
জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবার ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। নতুন ভবনটি ১০ তলা বিশিষ্ট হবে এবং এখানে অনাথ ও এতিমদের জন্য পড়ালেখার ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা, সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া এবং আইটি সেকশন থাকবে।
মসজিদের বর্তমান আয়তন ৫.৫ একর, এবং ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবনের জন্য আরও কিছু জায়গা ক্রয় করা হবে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, মসজিদের অ্যাকাউন্টে মানুষের দানের ১০৪ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ইতোমধ্যে কমপ্লেক্সের জন্য নকশা জমা দিয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা করে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ প্রদান করবে এবং নির্মাণ কাজ শুরু হবে।



































