ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঐক্যের সুর নিয়েই নির্বাচনে যাব: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 108

ঐক্যের সুর নিয়েই নির্বাচনে যাব: প্রধান উপদেষ্টা

ঐক্যের সুর নিয়েই নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা যে ঐক্যের সূচনা করেছি, সেই সুর নিয়েই দেশ নির্বাচনমুখী হবে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজনের জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে, যেনতেন নির্বাচন করে কোনো লাভ নেই।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও সনদে স্বাক্ষর করেন।

রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মানুষ যেন মনে রাখে—যারা এই সনদে স্বাক্ষর করেছেন, তারা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করেছেন। “আমরা নিজেরাই আমাদের নির্বাচন করব। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের সোজা করবে, ধাক্কাধাক্কি করবে—এটা আর চলবে না।”

তিনি বলেন, “আজকের দিনটি ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আগে কেউ ভাবেনি, সব রাজনৈতিক দল একসাথে বসে একটি সনদে স্বাক্ষর করবে। ঐকমত্য কমিশন যখন গঠন করি, তখন ভেবেছিলাম হয়তো কয়েকটি বিষয়ে একমত হওয়া যাবে। কিন্তু আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সব দল একত্রিত হলো—এটি সত্যিই বিস্ময়কর।”

ঐকমত্য কমিশনকে “অসম্ভবকে সম্ভব করা” উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই সনদের মধ্য দিয়ে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতার পথে এসেছি। আগে আমরা এমন এক সমাজে ছিলাম যেখানে আইন-কানুন উপেক্ষিত হতো। এখন আমরা এমন এক সভ্যতা গড়ে তুলবো, যা অন্যদের অনুপ্রেরণা দেবে।”

জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “আজকের এই পরিবর্তনের পেছনে যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়ে বেঁচে আছেন—তাদের প্রতি জাতির চিরকৃতজ্ঞতা থাকবে। তাদের ত্যাগেই আজ নতুন বাংলাদেশের সূচনা।”

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থান না হলে এই পরিবর্তন সম্ভব হতো না। এই সনদ আমাদের জাতীয় জীবনে, সংবিধান ও শাসনব্যবস্থায় নতুন ধারার সূচনা করেছে।”

তার বক্তব্যে তরুণদের সম্ভাবনা এবং দেশের সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, “বঙ্গোপসাগর আমাদের বিশাল সম্পদ। নিয়ম মেনে কাজ করতে পারলে এই সম্পদ দেশের জন্য বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করবে। গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তুললে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো আমাদের বন্দরে ভিড়বে, আমাদের জাহাজ সিঙ্গাপুরে আটকে থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “অন্য দেশের জেলেরা এসে বঙ্গোপসাগরের মাছ নিয়ে যায়, আমরা শুধু দেখি। যদি কক্সবাজার, মাতারবাড়ি ও মহেশখালীকে একসাথে উন্নত করা যায়, এই অঞ্চল নতুন সিঙ্গাপুরে পরিণত হতে পারে। নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গেও আমরা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবো।”

অনুষ্ঠানে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের বহু স্রোত থাকলেও মোহনা একটাই—গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন। জুলাই জাতীয় সনদ সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম পদক্ষেপ।”

তিনি আরও বলেন, “এই পরিবর্তনের ধারায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভূমিকা আছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঐক্যের সুর নিয়েই নির্বাচনে যাব: প্রধান উপদেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

ঐক্যের সুর নিয়েই নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা যে ঐক্যের সূচনা করেছি, সেই সুর নিয়েই দেশ নির্বাচনমুখী হবে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজনের জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে, যেনতেন নির্বাচন করে কোনো লাভ নেই।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও সনদে স্বাক্ষর করেন।

রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মানুষ যেন মনে রাখে—যারা এই সনদে স্বাক্ষর করেছেন, তারা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করেছেন। “আমরা নিজেরাই আমাদের নির্বাচন করব। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের সোজা করবে, ধাক্কাধাক্কি করবে—এটা আর চলবে না।”

তিনি বলেন, “আজকের দিনটি ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আগে কেউ ভাবেনি, সব রাজনৈতিক দল একসাথে বসে একটি সনদে স্বাক্ষর করবে। ঐকমত্য কমিশন যখন গঠন করি, তখন ভেবেছিলাম হয়তো কয়েকটি বিষয়ে একমত হওয়া যাবে। কিন্তু আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সব দল একত্রিত হলো—এটি সত্যিই বিস্ময়কর।”

ঐকমত্য কমিশনকে “অসম্ভবকে সম্ভব করা” উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই সনদের মধ্য দিয়ে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতার পথে এসেছি। আগে আমরা এমন এক সমাজে ছিলাম যেখানে আইন-কানুন উপেক্ষিত হতো। এখন আমরা এমন এক সভ্যতা গড়ে তুলবো, যা অন্যদের অনুপ্রেরণা দেবে।”

জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “আজকের এই পরিবর্তনের পেছনে যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়ে বেঁচে আছেন—তাদের প্রতি জাতির চিরকৃতজ্ঞতা থাকবে। তাদের ত্যাগেই আজ নতুন বাংলাদেশের সূচনা।”

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থান না হলে এই পরিবর্তন সম্ভব হতো না। এই সনদ আমাদের জাতীয় জীবনে, সংবিধান ও শাসনব্যবস্থায় নতুন ধারার সূচনা করেছে।”

তার বক্তব্যে তরুণদের সম্ভাবনা এবং দেশের সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, “বঙ্গোপসাগর আমাদের বিশাল সম্পদ। নিয়ম মেনে কাজ করতে পারলে এই সম্পদ দেশের জন্য বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করবে। গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তুললে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো আমাদের বন্দরে ভিড়বে, আমাদের জাহাজ সিঙ্গাপুরে আটকে থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “অন্য দেশের জেলেরা এসে বঙ্গোপসাগরের মাছ নিয়ে যায়, আমরা শুধু দেখি। যদি কক্সবাজার, মাতারবাড়ি ও মহেশখালীকে একসাথে উন্নত করা যায়, এই অঞ্চল নতুন সিঙ্গাপুরে পরিণত হতে পারে। নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গেও আমরা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবো।”

অনুষ্ঠানে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের বহু স্রোত থাকলেও মোহনা একটাই—গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন। জুলাই জাতীয় সনদ সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম পদক্ষেপ।”

তিনি আরও বলেন, “এই পরিবর্তনের ধারায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভূমিকা আছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।”