ঢাকা ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঐকমত্য কমিশনে বিশেষজ্ঞ মতের অসংগতি, সমন্বয়ের চিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 80

ঐকমত্য কমিশন

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সুপারিশে কিছু অসামঞ্জস্য উঠে এসেছে। এ কারণে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এখন রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামত সমন্বয় করে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে এ আলোচনা হয়।

বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়গুলো ‘সাংবিধানিক আদেশ’ জারির মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা যেতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এ ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া ঘোষণাপত্র এখনো আইনি ভিত্তি না পাওয়ায় এর অধীনে আদেশ জারি নিয়েও সংশয় রয়েছে।

বৈঠকে আলোচিত হয়, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়া সম্ভব কিনা। বিএনপি আগেই এই অনুচ্ছেদ অনুসরণ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, আদালতে গেলে প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে এবং সিদ্ধান্ত সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তাই তারা আদালতের পরামর্শ নেওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছেন।

কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞরা প্রথমে সাংবিধানিক আদেশ, গণভোট, অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের প্রস্তাব দিলেও পরে কেবল সাংবিধানিক আদেশ ও গণভোটের ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো গণভোট, সাংবিধানিক আদেশ, ১০৬ অনুচ্ছেদ, গণপরিষদ, সংবিধান সভা ও পরবর্তী সংসদ—এই ছয়টি পথের কথা বলেছে।

বিএনপি মনে করছে, সাংবিধানিক সংস্কারে আদালতের রায়ই চূড়ান্ত হতে হবে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে রাষ্ট্রে অস্থিরতা দেখা দেবে। তবে কমিশনের ভেতরে অনেকে মনে করেন, রাজনৈতিক ইস্যু আদালতে না টানাই শ্রেয়।

জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে সাংবিধানিক আদেশ দিয়ে সংস্কার কার্যকর করে পরে গণভোট নেওয়া উচিত। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, পরবর্তী সংসদে সংস্কার অনুমোদনের পর গণভোট করা যেতে পারে।

সূত্র জানিয়েছে, গত বৈঠকে গণভোটের সময় নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশন বিশেষজ্ঞদের লিখিত মতামত চেয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর কমিশনের সহসভাপতি দেশে ফিরে এলে আবার বিশেষজ্ঞ বৈঠক হবে। ১৫ অক্টোবর কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর মধ্যে ১১টিতে বিভিন্ন দলের আপত্তি আছে। উচ্চকক্ষ গঠনসহ কিছু প্রস্তাব বিএনপি বাস্তবায়নে অনিচ্ছুক। এদিকে জামায়াতসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগে সংস্কার কার্যকরের দাবি তুলেছে।

শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিচারপতি এম এ মতিন, বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, ড. ইকরামুল হক, আইনজীবী শরিফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। কমিশন সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. আইয়ুব মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঐকমত্য কমিশনে বিশেষজ্ঞ মতের অসংগতি, সমন্বয়ের চিন্তা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সুপারিশে কিছু অসামঞ্জস্য উঠে এসেছে। এ কারণে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এখন রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামত সমন্বয় করে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে এ আলোচনা হয়।

বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়গুলো ‘সাংবিধানিক আদেশ’ জারির মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা যেতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এ ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া ঘোষণাপত্র এখনো আইনি ভিত্তি না পাওয়ায় এর অধীনে আদেশ জারি নিয়েও সংশয় রয়েছে।

বৈঠকে আলোচিত হয়, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়া সম্ভব কিনা। বিএনপি আগেই এই অনুচ্ছেদ অনুসরণ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, আদালতে গেলে প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে এবং সিদ্ধান্ত সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তাই তারা আদালতের পরামর্শ নেওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছেন।

কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞরা প্রথমে সাংবিধানিক আদেশ, গণভোট, অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের প্রস্তাব দিলেও পরে কেবল সাংবিধানিক আদেশ ও গণভোটের ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো গণভোট, সাংবিধানিক আদেশ, ১০৬ অনুচ্ছেদ, গণপরিষদ, সংবিধান সভা ও পরবর্তী সংসদ—এই ছয়টি পথের কথা বলেছে।

বিএনপি মনে করছে, সাংবিধানিক সংস্কারে আদালতের রায়ই চূড়ান্ত হতে হবে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে রাষ্ট্রে অস্থিরতা দেখা দেবে। তবে কমিশনের ভেতরে অনেকে মনে করেন, রাজনৈতিক ইস্যু আদালতে না টানাই শ্রেয়।

জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে সাংবিধানিক আদেশ দিয়ে সংস্কার কার্যকর করে পরে গণভোট নেওয়া উচিত। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, পরবর্তী সংসদে সংস্কার অনুমোদনের পর গণভোট করা যেতে পারে।

সূত্র জানিয়েছে, গত বৈঠকে গণভোটের সময় নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশন বিশেষজ্ঞদের লিখিত মতামত চেয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর কমিশনের সহসভাপতি দেশে ফিরে এলে আবার বিশেষজ্ঞ বৈঠক হবে। ১৫ অক্টোবর কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর মধ্যে ১১টিতে বিভিন্ন দলের আপত্তি আছে। উচ্চকক্ষ গঠনসহ কিছু প্রস্তাব বিএনপি বাস্তবায়নে অনিচ্ছুক। এদিকে জামায়াতসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগে সংস্কার কার্যকরের দাবি তুলেছে।

শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিচারপতি এম এ মতিন, বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, ড. ইকরামুল হক, আইনজীবী শরিফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। কমিশন সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. আইয়ুব মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।