ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এলপিজি সংকটে ভোগান্তিতে যানবাহন খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 74

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

 

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটে সারা দেশের অটোগ্যাস স্টেশনগুলো চরম দুরবস্থায় পড়েছে। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় অনেক স্টেশন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্টেশনমালিকদের সংগঠন।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

 

‘এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সভাপতি মো. সিরাজুল মাওলা। এ সময় সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।

 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন রয়েছে, যেগুলোর মাসিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার টন। তবে নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দেড় লাখের বেশি এলপিজিচালিত যানবাহন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

সংগঠনটি জানায়, জ্বালানি সংকটে গাড়ির মালিক ও চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে ঘুরেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তবু মিলছে না গ্যাস। এতে পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

আরও বলা হয়, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি ব্যবহার হয়, যার মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় অটোগ্যাস হিসেবে। এই সামান্য পরিমাণ এলপিজিও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে প্রয়োজনীয় এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গড়ে ওঠা এলপিজি অটোগ্যাস খাত ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি এবং পরিচালন ব্যয় বহন করা মালিকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে সংকট নিরসনে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এলপিজি সংকটে ভোগান্তিতে যানবাহন খাত

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

 

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটে সারা দেশের অটোগ্যাস স্টেশনগুলো চরম দুরবস্থায় পড়েছে। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় অনেক স্টেশন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্টেশনমালিকদের সংগঠন।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

 

‘এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সভাপতি মো. সিরাজুল মাওলা। এ সময় সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।

 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন রয়েছে, যেগুলোর মাসিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার টন। তবে নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দেড় লাখের বেশি এলপিজিচালিত যানবাহন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

সংগঠনটি জানায়, জ্বালানি সংকটে গাড়ির মালিক ও চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে ঘুরেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তবু মিলছে না গ্যাস। এতে পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

আরও বলা হয়, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি ব্যবহার হয়, যার মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় অটোগ্যাস হিসেবে। এই সামান্য পরিমাণ এলপিজিও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে প্রয়োজনীয় এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গড়ে ওঠা এলপিজি অটোগ্যাস খাত ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি এবং পরিচালন ব্যয় বহন করা মালিকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে সংকট নিরসনে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।