ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এনসিপির ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে কি আছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 5

এনসিপি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামে দলটি তাদের ৩৬ দফা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদসহ শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীরাও এতে অংশ নেন।

ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনা, মানবাধিকার, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ইশতেহারের প্রধান প্রতিশ্রুতি

এনসিপি জানিয়েছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়নে সময়সীমা ও জবাবদিহির কাঠামো তৈরির জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে। জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বর, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ অতীতের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

ধর্মবিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন রোধে মানবাধিকার কমিশনের অধীনে বিশেষ তদন্ত সেল গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের তথ্য ‘হিসাব দাও’ পোর্টালে নিয়মিত প্রকাশের কথা বলা হয়েছে।

প্রশাসনে ল্যাটেরাল এন্ট্রি বাড়ানো, কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, নিয়মিত পে-স্কেল হালনাগাদ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার রয়েছে। নাগরিক সেবা সহজ করতে এনআইডিকে সব সেবার মূল পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের জন্য ঘণ্টায় ন্যূনতম ১০০ টাকা মজুরি, বাধ্যতামূলক বীমা ও পেনশন এবং শ্রম আইন কঠোর বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। টিসিবির স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে স্থানীয় মুদি দোকানের মাধ্যমে কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে।

বাসস্থানের জন্য নিয়ন্ত্রিত ভাড়াকাঠামো ও সামাজিক আবাসন প্রকল্প, করজিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ, এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে আগাম বাণিজ্য চুক্তি, রপ্তানি বৈচিত্র্য, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংস্কার এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও হটলাইন চালুর ঘোষণাও রয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানো, নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা এবং আর্থিক শিক্ষা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। ভোটের বয়স ১৬ বছরে নামানো এবং ইয়ুথ সিভিক কাউন্সিল গঠনের কথাও ইশতেহারে রয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এসএমই ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল, প্রবাসী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষা খাতে সংস্কার কমিশন, শিক্ষকদের আলাদা বেতন কাঠামো, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এবং স্নাতক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গবেষণা খাতে প্রবাসী বিজ্ঞানীদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ সহায়তা ও জাতীয় কম্পিউটিং সার্ভার স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে বিশেষায়িত চিকিৎসা অঞ্চল, জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স সেবা, আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ সুবিধা এবং ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালুর অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নে সরাসরি নির্বাচিত সংরক্ষিত আসন, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি, ডে-কেয়ার সুবিধা এবং নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহের কথা বলা হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য ডিজিটাল পোর্টাল, রেমিট্যান্সভিত্তিক বিনিয়োগ সুবিধা ও ট্রাভেল রিওয়ার্ড চালুর প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা, রেলপথে মাল পরিবহন বাড়ানো, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিল্পকারখানায় বাধ্যতামূলক ইটিপি, নদী-খাল দখল রোধ, কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকি, কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং দেশীয় বীজ গবেষণা জোরদারের অঙ্গীকার রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে সীমান্ত হত্যা, নদীর পানিবণ্টন, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্তদের প্রত্যর্পণ ও অসম চুক্তি ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে রিজার্ভ ফোর্স গঠন, ইউএভি ব্রিগেড তৈরি এবং আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহের ঘোষণাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এনসিপির ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে কি আছে?

সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামে দলটি তাদের ৩৬ দফা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদসহ শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীরাও এতে অংশ নেন।

ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনা, মানবাধিকার, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ইশতেহারের প্রধান প্রতিশ্রুতি

এনসিপি জানিয়েছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়নে সময়সীমা ও জবাবদিহির কাঠামো তৈরির জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে। জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বর, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ অতীতের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

ধর্মবিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন রোধে মানবাধিকার কমিশনের অধীনে বিশেষ তদন্ত সেল গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের তথ্য ‘হিসাব দাও’ পোর্টালে নিয়মিত প্রকাশের কথা বলা হয়েছে।

প্রশাসনে ল্যাটেরাল এন্ট্রি বাড়ানো, কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, নিয়মিত পে-স্কেল হালনাগাদ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার রয়েছে। নাগরিক সেবা সহজ করতে এনআইডিকে সব সেবার মূল পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের জন্য ঘণ্টায় ন্যূনতম ১০০ টাকা মজুরি, বাধ্যতামূলক বীমা ও পেনশন এবং শ্রম আইন কঠোর বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। টিসিবির স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে স্থানীয় মুদি দোকানের মাধ্যমে কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে।

বাসস্থানের জন্য নিয়ন্ত্রিত ভাড়াকাঠামো ও সামাজিক আবাসন প্রকল্প, করজিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ, এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে আগাম বাণিজ্য চুক্তি, রপ্তানি বৈচিত্র্য, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংস্কার এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও হটলাইন চালুর ঘোষণাও রয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানো, নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা এবং আর্থিক শিক্ষা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। ভোটের বয়স ১৬ বছরে নামানো এবং ইয়ুথ সিভিক কাউন্সিল গঠনের কথাও ইশতেহারে রয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এসএমই ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল, প্রবাসী কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষা খাতে সংস্কার কমিশন, শিক্ষকদের আলাদা বেতন কাঠামো, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এবং স্নাতক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গবেষণা খাতে প্রবাসী বিজ্ঞানীদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ সহায়তা ও জাতীয় কম্পিউটিং সার্ভার স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে বিশেষায়িত চিকিৎসা অঞ্চল, জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স সেবা, আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ সুবিধা এবং ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালুর অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নে সরাসরি নির্বাচিত সংরক্ষিত আসন, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি, ডে-কেয়ার সুবিধা এবং নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহের কথা বলা হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য ডিজিটাল পোর্টাল, রেমিট্যান্সভিত্তিক বিনিয়োগ সুবিধা ও ট্রাভেল রিওয়ার্ড চালুর প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা, রেলপথে মাল পরিবহন বাড়ানো, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিল্পকারখানায় বাধ্যতামূলক ইটিপি, নদী-খাল দখল রোধ, কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকি, কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং দেশীয় বীজ গবেষণা জোরদারের অঙ্গীকার রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে সীমান্ত হত্যা, নদীর পানিবণ্টন, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্তদের প্রত্যর্পণ ও অসম চুক্তি ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে রিজার্ভ ফোর্স গঠন, ইউএভি ব্রিগেড তৈরি এবং আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহের ঘোষণাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।