ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এনসিপির ভেতরে হতাশা, বাইরে চাপ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 109

এনসিপি

সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ বলেছেন, বর্তমান সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করায় দলটি রীতিমতো কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। এখন তাদের পাশে কেউ নেই। অন্যদিকে, এনসিপি কী করবে—তারা কি আলাদা জোট করে নির্বাচন করবে?

আমি বলব, তাদের সে অবস্থাও নেই; সেটাতেও লাভ হবে না। যদি তারা বিএনপির সঙ্গে যায়, তাতে কী লাভ হবে, আর জামায়াতের সঙ্গে গেলে কী লাভ হবে? অর্থাৎ এখন এনসিপিকে যেতে হচ্ছে এর-ওর সঙ্গে, কারণ তারা নিজেকে স্বাধীন একটি শক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে পারেনি।

দল গঠনের সময় বা তার আগের যে সাংঘাতিক সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, যে রমরমা অবস্থা ছিল—সেটা আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে গেছে।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মোস্তফা ফিরোজ এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, অন্তত এখন কেউ বলবে না যে এনসিপির অবস্থান খুব উপরের দিকে। যদিও সরকারের কিছুটা আনুকূল্য ও সহানুভূতি আছে, যার কারণে এনসিপিকে মোটামুটি বিএনপি–জামায়াতের সমান মর্যাদায় দেখা হয়।

এনসিপির গুরুত্ব বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত ‘শাপলা’ প্রতীক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবুও দলে টানাপোড়েন আছে। ১১ জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করা, বিএনপির সঙ্গে বিরোধ এবং জামায়াতের সঙ্গে সাম্প্রতিক মতবিরোধ—সব মিলিয়ে দলের ওপর এখন বেশ চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এসব কারণে দলে খুব শক্ত কোনো ঐক্য আছে, তা বলা যাবে না। প্রত্যেকেরই নিজস্ব চিন্তাধারা আছে, যদিও আপাতত সবাই এক জায়গায় অবস্থান করছে। কিন্তু এই একত্রিত অবস্থাটা কতদিন টিকবে, সেখানে ফাটল ধরবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই।

মোস্তফা ফিরোজ বলেন, এনসিপি নেতাদের মধ্যে আস্তে আস্তে এক ধরনের হতাশা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এর বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে বিভিন্নভাবে—কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন, কেউ দল পরিবর্তন করছেন, আবার কেউ কেউ দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন।

নানা ধারা-উপধারার এই মিশ্রণে এখন এনসিপি এক ধরনের চাপে আছে—এটা সত্য।

তিনি আরও বলেন, এনসিপিকে ঘিরে অন্যান্য দলের চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে খবর আসছে, দলে দলে এনসিপির নেতাকর্মীরা অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন। ফলে আগামী দিনে কেন্দ্রীয়ভাবে কী হবে, কতটা ঐক্য টিকবে—এখন সেটাই তাদের জন্য বড় প্রশ্ন। বরং বলা যায়, এটা এক কঠিন লড়াই।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এনসিপির ভেতরে হতাশা, বাইরে চাপ

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ বলেছেন, বর্তমান সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করায় দলটি রীতিমতো কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। এখন তাদের পাশে কেউ নেই। অন্যদিকে, এনসিপি কী করবে—তারা কি আলাদা জোট করে নির্বাচন করবে?

আমি বলব, তাদের সে অবস্থাও নেই; সেটাতেও লাভ হবে না। যদি তারা বিএনপির সঙ্গে যায়, তাতে কী লাভ হবে, আর জামায়াতের সঙ্গে গেলে কী লাভ হবে? অর্থাৎ এখন এনসিপিকে যেতে হচ্ছে এর-ওর সঙ্গে, কারণ তারা নিজেকে স্বাধীন একটি শক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে পারেনি।

দল গঠনের সময় বা তার আগের যে সাংঘাতিক সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, যে রমরমা অবস্থা ছিল—সেটা আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে গেছে।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মোস্তফা ফিরোজ এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, অন্তত এখন কেউ বলবে না যে এনসিপির অবস্থান খুব উপরের দিকে। যদিও সরকারের কিছুটা আনুকূল্য ও সহানুভূতি আছে, যার কারণে এনসিপিকে মোটামুটি বিএনপি–জামায়াতের সমান মর্যাদায় দেখা হয়।

এনসিপির গুরুত্ব বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত ‘শাপলা’ প্রতীক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবুও দলে টানাপোড়েন আছে। ১১ জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করা, বিএনপির সঙ্গে বিরোধ এবং জামায়াতের সঙ্গে সাম্প্রতিক মতবিরোধ—সব মিলিয়ে দলের ওপর এখন বেশ চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এসব কারণে দলে খুব শক্ত কোনো ঐক্য আছে, তা বলা যাবে না। প্রত্যেকেরই নিজস্ব চিন্তাধারা আছে, যদিও আপাতত সবাই এক জায়গায় অবস্থান করছে। কিন্তু এই একত্রিত অবস্থাটা কতদিন টিকবে, সেখানে ফাটল ধরবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই।

মোস্তফা ফিরোজ বলেন, এনসিপি নেতাদের মধ্যে আস্তে আস্তে এক ধরনের হতাশা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এর বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে বিভিন্নভাবে—কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন, কেউ দল পরিবর্তন করছেন, আবার কেউ কেউ দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন।

নানা ধারা-উপধারার এই মিশ্রণে এখন এনসিপি এক ধরনের চাপে আছে—এটা সত্য।

তিনি আরও বলেন, এনসিপিকে ঘিরে অন্যান্য দলের চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে খবর আসছে, দলে দলে এনসিপির নেতাকর্মীরা অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন। ফলে আগামী দিনে কেন্দ্রীয়ভাবে কী হবে, কতটা ঐক্য টিকবে—এখন সেটাই তাদের জন্য বড় প্রশ্ন। বরং বলা যায়, এটা এক কঠিন লড়াই।