ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এখন মন খারাপ হয় না পলকের, লড়াই করতে চান নির্বাচনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / 86

এখন মন খারাপ হয় না পলকের, লড়াই করতে চান নির্বাচনে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, এখন আর তাঁর মন খারাপ হয় না; জেলজীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে ঢাকার সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে পলক এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বনানী থানায় মো. শাহজাহান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদেকুর রহমান এই আদেশ দেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে কঠোর নিরাপত্তায় মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে পলক বলেন, “সব কিছুরই শেষ আছে।” সাংবাদিকেরা জানতে চান, তিনি কি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন? জবাবে পলক ‘হ্যাঁ’সূচক মাথা নাড়েন এবং পুনরায় বলেন, “সব কিছুরই শেষ আছে।”

এজলাসে অবস্থানকালে তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান, তিনি মানসিকভাবে শক্ত আছেন, আগের মতো মন খারাপ হয় না, জেলজীবনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করেন, এই বার্তাটি তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে।

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক মো. ইয়াছির আরাফাত আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, “আসামিরা এজাহারনামীয়। তাঁদের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হয়, যাতে ভিকটিম শাহজাহান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।” শুনানি শেষে আদালত আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

পলকের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি মানসিকভাবে ভালো আছেন এবং পরিবারের কাছে তাঁর সুস্থতার খবর পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। তবে কারাগারে প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে শান্তিপূর্ণ মিছিলে যোগ দেন শ্রমিক শাহজাহান। এ সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গুলিবর্ষণ করলে শাহজাহান বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হন। চার দিন পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর, নিহতের মা সাজেদা বেগম বনানী থানায় ৯৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক মন্ত্রী ও মেয়রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এখন মন খারাপ হয় না পলকের, লড়াই করতে চান নির্বাচনে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, এখন আর তাঁর মন খারাপ হয় না; জেলজীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে ঢাকার সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে পলক এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বনানী থানায় মো. শাহজাহান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদেকুর রহমান এই আদেশ দেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে কঠোর নিরাপত্তায় মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে পলক বলেন, “সব কিছুরই শেষ আছে।” সাংবাদিকেরা জানতে চান, তিনি কি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন? জবাবে পলক ‘হ্যাঁ’সূচক মাথা নাড়েন এবং পুনরায় বলেন, “সব কিছুরই শেষ আছে।”

এজলাসে অবস্থানকালে তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান, তিনি মানসিকভাবে শক্ত আছেন, আগের মতো মন খারাপ হয় না, জেলজীবনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করেন, এই বার্তাটি তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে।

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক মো. ইয়াছির আরাফাত আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, “আসামিরা এজাহারনামীয়। তাঁদের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হয়, যাতে ভিকটিম শাহজাহান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।” শুনানি শেষে আদালত আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

পলকের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি মানসিকভাবে ভালো আছেন এবং পরিবারের কাছে তাঁর সুস্থতার খবর পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। তবে কারাগারে প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে শান্তিপূর্ণ মিছিলে যোগ দেন শ্রমিক শাহজাহান। এ সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গুলিবর্ষণ করলে শাহজাহান বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হন। চার দিন পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর, নিহতের মা সাজেদা বেগম বনানী থানায় ৯৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক মন্ত্রী ও মেয়রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।