ইশরাক হোসেন
এখন তো জাতীয় ভিলেনে পরিণত হয়ে গেছি
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫
- / 627
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে তিনি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ধরনের “জাতীয় ভিলেনে” পরিণত হয়েছেন। তবে তার বিশ্বাস, একদিন জনগণ বুঝবে কেন তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
শুক্রবার (৬ জুন) জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকরা যখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করেন, তখন তিনি অভিযোগ করেন যে, আইনগত কোনো দুর্বলতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “যারা অনুপস্থিত ছিলেন, কেবল তাদেরই অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব নয়, কারণ এটি সাব জুডিস ছিল।” ইশরাক দাবি করেন, সরকার নানা ব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিজয়ী হন। কিন্তু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন ফল বাতিলের আবেদন করেন এবং ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলাটি দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ট্রাইব্যুনাল তাপসের জয় বাতিল করে ইশরাককে বৈধ মেয়র ঘোষণা করে, যার গেজেট প্রকাশ হয় ২৭ এপ্রিল।
তবে এরপরও তাকে শপথ পড়ানো হয়নি। ঢাকা দক্ষিণের এক বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ শপথ ঠেকাতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। যদিও হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয়, পরে আপিল বিভাগে আবেদন করেন মামুনুর। আপিল বিভাগ রায়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলে, কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি।
আদালত আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও, কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে নিজের স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে। মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল কমিশনকে সহযোগিতা করা, উল্টো মতামত চাওয়ার বিষয়টি অসংগতিপূর্ণ।
বর্তমানে আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতায় ইশরাক হোসেন মেয়র পদে শপথ নিতে পারছেন না, এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।































