ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক বিশাল বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতায় এনসিপি

জুলকারনাইন সায়ের
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 281

বুদ্ধিবৃত্তিক শূণ্যতায় এনসিপি

দুই তারিখের মধ্যে কেবল সমন্বয়কারীরা ছাড়া দেশের লাখ লাখ মানুষ এক দফা ঘোষণা দিয়ে দিয়েছিল। আমরা কেবল চেষ্টা করেছিলাম, দ্রুত এক দফা ঘোষণার মাধ্যমে মানুষের তখনকার তীব্র সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে হাসিনার পতন ঘটাতে। কিন্তু সমন্বয়কারীদের একটি অংশ এমন একটি স্টুপিড আইডিয়া দিল, যেমন “হল খোলার আন্দোলন” বা “অসহযোগ আন্দোলনের” পথে যাওয়া; যা আন্দোলনের স্পিরিট ও সময়োপযোগিতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল এবং একেবারেই একটি বড় ব্লান্ডার।

এর ফলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নতুন করে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন দমন করতে সক্ষম হতে পারত।

এই ভুল সিদ্ধান্তকে এখনো যারা জাস্টিফাই করছে, তাদের দেখে মনে হয়; এনসিপি বর্তমানে এক বিশাল বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতায় পড়ে আছে।

নিঃসন্দেহে এই আন্দোলনে সমন্বয়কারীদের অভূতপূর্ব ভূমিকা ছিল, এবং জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাদের অবদানের কথা স্মরণ রাখবে। তবে এমন ধারণা করা মোটেই উচিত নয় যে, নুরুল হক নূরের সাবেক কর্মীদের “গুরুভার আড্ডা” নামের চার-পাঁচ জনের একটি পাঠচক্র থেকেই এই আন্দোলনের জন্ম হয়েছে।

আর বারবার যখন ২ আগস্ট ২০২৪-এ সমন্বয়কারীদের এক দফা ঘোষণার বিষয়ে চাপ দেওয়ার কথা আসে, তখন বলতেই হয়, কেন বারবার বলা হচ্ছিল? কারণ তারা বলছিলেন, ৩ আগস্ট বিকেলে শহীদ মিনার থেকে এক দফার ঘোষণা দেওয়া হবে। কিন্তু আমি সহ যারা সেসময় তাদের পরামর্শ ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছিলাম, আমরা এটাই বলার চেষ্টা করেছিলাম যে; ২ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ৩ আগস্ট বিকেলের মধ্যে জানমালের যে ক্ষতি হতে পারে, সেটা এড়ানোর জন্য যত দ্রুত সম্ভব এক দফা ঘোষণা দেওয়া উচিত ছিল।

কিন্তু তাদের তো নেতা হতে হবে! আর শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে এক দফার ঘোষণা; এই রাজনৈতিক ক্রেডিট কেই বা হাতছাড়া করতে চায়?

যাই হোক, এই আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত সার দাঁড়ায়; পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়; সেটি দেখে সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে; আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা জাতিকে এক অন্যরকম সাহস দেয়; এরপর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও সর্বস্তরের জনগণ রাস্তায় নামে; এরই মধ্যে শেখ হাসিনা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালান; সবশেষে দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নেয়, শেখ হাসিনাকে লাথি মেরে বের করে দেবে…এবং তাই করেছে।

লেখক: আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক (ফেসবুক থেকে নেয়া)

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এক বিশাল বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতায় এনসিপি

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

দুই তারিখের মধ্যে কেবল সমন্বয়কারীরা ছাড়া দেশের লাখ লাখ মানুষ এক দফা ঘোষণা দিয়ে দিয়েছিল। আমরা কেবল চেষ্টা করেছিলাম, দ্রুত এক দফা ঘোষণার মাধ্যমে মানুষের তখনকার তীব্র সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে হাসিনার পতন ঘটাতে। কিন্তু সমন্বয়কারীদের একটি অংশ এমন একটি স্টুপিড আইডিয়া দিল, যেমন “হল খোলার আন্দোলন” বা “অসহযোগ আন্দোলনের” পথে যাওয়া; যা আন্দোলনের স্পিরিট ও সময়োপযোগিতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল এবং একেবারেই একটি বড় ব্লান্ডার।

এর ফলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নতুন করে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন দমন করতে সক্ষম হতে পারত।

এই ভুল সিদ্ধান্তকে এখনো যারা জাস্টিফাই করছে, তাদের দেখে মনে হয়; এনসিপি বর্তমানে এক বিশাল বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতায় পড়ে আছে।

নিঃসন্দেহে এই আন্দোলনে সমন্বয়কারীদের অভূতপূর্ব ভূমিকা ছিল, এবং জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাদের অবদানের কথা স্মরণ রাখবে। তবে এমন ধারণা করা মোটেই উচিত নয় যে, নুরুল হক নূরের সাবেক কর্মীদের “গুরুভার আড্ডা” নামের চার-পাঁচ জনের একটি পাঠচক্র থেকেই এই আন্দোলনের জন্ম হয়েছে।

আর বারবার যখন ২ আগস্ট ২০২৪-এ সমন্বয়কারীদের এক দফা ঘোষণার বিষয়ে চাপ দেওয়ার কথা আসে, তখন বলতেই হয়, কেন বারবার বলা হচ্ছিল? কারণ তারা বলছিলেন, ৩ আগস্ট বিকেলে শহীদ মিনার থেকে এক দফার ঘোষণা দেওয়া হবে। কিন্তু আমি সহ যারা সেসময় তাদের পরামর্শ ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছিলাম, আমরা এটাই বলার চেষ্টা করেছিলাম যে; ২ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ৩ আগস্ট বিকেলের মধ্যে জানমালের যে ক্ষতি হতে পারে, সেটা এড়ানোর জন্য যত দ্রুত সম্ভব এক দফা ঘোষণা দেওয়া উচিত ছিল।

কিন্তু তাদের তো নেতা হতে হবে! আর শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে এক দফার ঘোষণা; এই রাজনৈতিক ক্রেডিট কেই বা হাতছাড়া করতে চায়?

যাই হোক, এই আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত সার দাঁড়ায়; পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়; সেটি দেখে সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে; আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা জাতিকে এক অন্যরকম সাহস দেয়; এরপর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও সর্বস্তরের জনগণ রাস্তায় নামে; এরই মধ্যে শেখ হাসিনা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালান; সবশেষে দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নেয়, শেখ হাসিনাকে লাথি মেরে বের করে দেবে…এবং তাই করেছে।

লেখক: আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক (ফেসবুক থেকে নেয়া)