ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক ট্রলারে ১৪০ মণ ইলিশ, সাড়ে ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 95

এক ট্রলারে ১৪০ মণ ইলিশ, সাড়ে ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি

নিষেধাজ্ঞার পর সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে বরগুনার একটি ট্রলারে ধরা পড়েছে প্রায় ১৭০ মণ ইলিশ। তবে ট্রলারে এত মাছ একসাথে বোঝাই করা সম্ভব না হওয়ায় জেলেরা ১৪০ মণ ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরে আসেন। পরে সাইজ অনুযায়ী প্রতি মণে ২২-২৭ হাজার টাকায় প্রায় ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় মাছগুলো বিক্রি করেন তারা।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) এফবি সাফওয়ান ৩ নামের একটি ট্রলারের জেলেরা পাথরঘাটা উপজেলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসি ঘাটে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ অক্টোবর পাথরঘাটা থেকে এফবি সাফওয়ান ৩ ট্রলারের ১৯ জন জেলে সাগরে মাছ শিকার করতে যান। কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে গিয়ে তারা জাল ফেলেন। পরে জাল তুললে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। ১৪০ মণ ইলিশ ট্রলারে বোঝাই হলে, বাকি প্রায় ২৫-৩০ মণ ইলিশ অন্য ট্রলারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ট্রলার ভর্তি ইলিশ পাথরঘাটার বিএফডিসি ঘাটে নিয়ে গিয়ে সাইফ ফিশ আড়তে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

ট্রলারের মাঝি রুবেল বলেন, “সাগরে বিকেলেই জাল ফেলার পর টেনে তুলতে গিয়ে দেখি প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। আমাদের ট্রলারের তিনটি কল পূর্ণ হয়ে গেছে। মাছ বেশি থাকায় কিছু জাল কেটে মাছসহ ফেলেও দিতে হয়েছে।”

ট্রলারের মালিক মানিক মিয়া বলেন, “সাগরে দীর্ঘদিন ধরেই তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। একদিকে লোকসানও ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর একবারে এত মাছ পাওয়ায় পূর্বের লোকসান কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব হলো।”

পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটের মৎস্য গবেষক বিপ্লব কুমার সরকার জানান, “ডিম ছাড়ার জন্য মা ইলিশ মিঠা পানির নদীতে আসে। ডিম দেওয়ার পর আবার লোনা পানিতে ফিরে যায়। এছাড়া ইলিশ সাধারণত ঝাঁকে থাকে। নিষেধাজ্ঞার পর অনেক জেলেরা ভালো মাছ না পেলেও ওই ট্রলারের জেলেরা হয়তো ইলিশের একটি ঝাঁকে জাল ফেলতে পেরেছেন। এ কারণেই তাদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এক ট্রলারে ১৪০ মণ ইলিশ, সাড়ে ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

নিষেধাজ্ঞার পর সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে বরগুনার একটি ট্রলারে ধরা পড়েছে প্রায় ১৭০ মণ ইলিশ। তবে ট্রলারে এত মাছ একসাথে বোঝাই করা সম্ভব না হওয়ায় জেলেরা ১৪০ মণ ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরে আসেন। পরে সাইজ অনুযায়ী প্রতি মণে ২২-২৭ হাজার টাকায় প্রায় ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় মাছগুলো বিক্রি করেন তারা।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) এফবি সাফওয়ান ৩ নামের একটি ট্রলারের জেলেরা পাথরঘাটা উপজেলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসি ঘাটে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ অক্টোবর পাথরঘাটা থেকে এফবি সাফওয়ান ৩ ট্রলারের ১৯ জন জেলে সাগরে মাছ শিকার করতে যান। কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে গিয়ে তারা জাল ফেলেন। পরে জাল তুললে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। ১৪০ মণ ইলিশ ট্রলারে বোঝাই হলে, বাকি প্রায় ২৫-৩০ মণ ইলিশ অন্য ট্রলারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ট্রলার ভর্তি ইলিশ পাথরঘাটার বিএফডিসি ঘাটে নিয়ে গিয়ে সাইফ ফিশ আড়তে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

ট্রলারের মাঝি রুবেল বলেন, “সাগরে বিকেলেই জাল ফেলার পর টেনে তুলতে গিয়ে দেখি প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। আমাদের ট্রলারের তিনটি কল পূর্ণ হয়ে গেছে। মাছ বেশি থাকায় কিছু জাল কেটে মাছসহ ফেলেও দিতে হয়েছে।”

ট্রলারের মালিক মানিক মিয়া বলেন, “সাগরে দীর্ঘদিন ধরেই তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। একদিকে লোকসানও ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর একবারে এত মাছ পাওয়ায় পূর্বের লোকসান কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব হলো।”

পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটের মৎস্য গবেষক বিপ্লব কুমার সরকার জানান, “ডিম ছাড়ার জন্য মা ইলিশ মিঠা পানির নদীতে আসে। ডিম দেওয়ার পর আবার লোনা পানিতে ফিরে যায়। এছাড়া ইলিশ সাধারণত ঝাঁকে থাকে। নিষেধাজ্ঞার পর অনেক জেলেরা ভালো মাছ না পেলেও ওই ট্রলারের জেলেরা হয়তো ইলিশের একটি ঝাঁকে জাল ফেলতে পেরেছেন। এ কারণেই তাদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে।”