একদিন বিশ্ব নেতৃত্বে থাকবে জুলাই আন্দোলনকারীরা: প্রধান উপদেষ্টা
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 11
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণরাই একদিন বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, জুলাই আন্দোলন দেশের রাজনীতিতে যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, তেমনি এই এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধের পর যে গণবিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেটিই একটি শক্তিশালী সরকারের পতনের পথ তৈরি করে দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ডিজিটাল খাত এখন দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত, কারণ এখান থেকেই পরিবর্তনের সূচনা হয় এবং অন্যান্য সব খাত এতে প্রভাবিত হয়।
নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন এখনো বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শুধু একটি ব্যবস্থা তৈরি করে দেবে, আর জনগণ নিজেদের মতো করে সেটি ব্যবহার করবে। এটিই প্রযুক্তির প্রকৃত শক্তি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা পরিস্থিতি তুলে ধরে ড. ইউনূস জানান, তিন জেলায় আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টিতে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। যেখানে শিক্ষক নেই, সেখানে ইন্টারনেটই সবচেয়ে বড় শিক্ষক হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সবার জন্য চাকরি নিশ্চিত করার ধারণাকে ভুল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটি এক ধরনের দাসত্বের সংস্কৃতি তৈরি করে। সরকারকে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করতে হবে।
তিনি মনে করেন, কোনো কর্মকর্তা পাঁচ বছরের বেশি একই সরকারি চাকরিতে থাকলে তার মানসিকতা স্থবির হয়ে যায় এবং সৃজনশীলতা কমে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত নতুন করে সাজানো প্রয়োজন। সময়ের সঙ্গে লক্ষ্য বদলালেও অনেকেই পুরোনো চিন্তা নিয়ে বসে থাকেন, যা উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
জালিয়াতি সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। প্রযুক্তিতে এগোতে হলে এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে চলার সামর্থ্য রয়েছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সামগ্রিকভাবে, ড. ইউনূসের বক্তব্যে উঠে এসেছে তরুণ আন্দোলনের শক্তি, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের সম্ভাবনা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সচেতনতা ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অগ্রগতির ভিত্তি গড়ে দেবে।






























