ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপজেলা থেকেই ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়তে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 6

ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রতীকী ছবি

দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে রাজধানীকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সরকার নতুন করে কার্যক্রম জোরদার করছে।

এরই অংশ হিসেবে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি) প্রকল্পের আওতায় ১০০টি উপজেলায় উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা ও কর্মসংস্থান তৈরির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ভবিষ্যতের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে রাজধানীকেন্দ্রিক উদ্যোগের বাইরে গিয়ে উপজেলা পর্যায়ে আইসিটি সেবা ও দক্ষতা বিস্তারে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ১০০টি উপজেলায় কেন্দ্র প্রস্তুত হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও ১৭৯টি কেন্দ্র চালুর কাজ সম্পন্ন হবে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, উপজেলা পর্যায়ের আইসিটি কর্মকর্তাদের কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অফিস স্পেস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কো-ওয়ার্কিং স্পেস নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের আইসিটি দক্ষতা উন্নয়ন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আইডিয়া, স্টার্টআপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোকে সারা বছর সক্রিয় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, এসব কেন্দ্রের সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, উপজেলা আইসিটি সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন টিউ-আইসিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি জানান, ৪০০টি উপজেলায় কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০৩টি কেন্দ্র সক্রিয় হয়েছে, যার মধ্যে ১০০টি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে আইসিটি বিভাগ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ও তার বিশেষ সহকারীর দিকনির্দেশনায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ, বিশেষ করে তরুণরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

প্রতিটি কেন্দ্রে আধুনিক ডিজিটাল ল্যাব, সুসজ্জিত প্রশিক্ষণ কক্ষ, স্টার্ট-আপ জোন এবং প্লাগ অ্যান্ড প্লে জোন স্থাপন করা হয়েছে। স্টার্ট-আপ জোনে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইসসহ একসঙ্গে অন্তত ২০ জন উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারের কাজ করার সুযোগ থাকবে। প্লাগ অ্যান্ড প্লে জোন থেকে বছরে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই কেন্দ্রগুলো উপজেলা পর্যায়ে তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কিং স্পেসের সমন্বিত সুবিধা তৈরি করবে, যা নতুন উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া এসব কেন্দ্র উপজেলা পর্যায়ে আইসিটি কর্মকর্তাদের কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা প্রদানের গতি বাড়াবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ, অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাসহ আইসিটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উপজেলা থেকেই ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়তে চায় সরকার

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে রাজধানীকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সরকার নতুন করে কার্যক্রম জোরদার করছে।

এরই অংশ হিসেবে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি) প্রকল্পের আওতায় ১০০টি উপজেলায় উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা ও কর্মসংস্থান তৈরির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ভবিষ্যতের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে রাজধানীকেন্দ্রিক উদ্যোগের বাইরে গিয়ে উপজেলা পর্যায়ে আইসিটি সেবা ও দক্ষতা বিস্তারে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ১০০টি উপজেলায় কেন্দ্র প্রস্তুত হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও ১৭৯টি কেন্দ্র চালুর কাজ সম্পন্ন হবে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, উপজেলা পর্যায়ের আইসিটি কর্মকর্তাদের কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অফিস স্পেস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কো-ওয়ার্কিং স্পেস নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের আইসিটি দক্ষতা উন্নয়ন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আইডিয়া, স্টার্টআপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোকে সারা বছর সক্রিয় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, এসব কেন্দ্রের সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, উপজেলা আইসিটি সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন টিউ-আইসিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি জানান, ৪০০টি উপজেলায় কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০৩টি কেন্দ্র সক্রিয় হয়েছে, যার মধ্যে ১০০টি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে আইসিটি বিভাগ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ও তার বিশেষ সহকারীর দিকনির্দেশনায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ, বিশেষ করে তরুণরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

প্রতিটি কেন্দ্রে আধুনিক ডিজিটাল ল্যাব, সুসজ্জিত প্রশিক্ষণ কক্ষ, স্টার্ট-আপ জোন এবং প্লাগ অ্যান্ড প্লে জোন স্থাপন করা হয়েছে। স্টার্ট-আপ জোনে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইসসহ একসঙ্গে অন্তত ২০ জন উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারের কাজ করার সুযোগ থাকবে। প্লাগ অ্যান্ড প্লে জোন থেকে বছরে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই কেন্দ্রগুলো উপজেলা পর্যায়ে তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কিং স্পেসের সমন্বিত সুবিধা তৈরি করবে, যা নতুন উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া এসব কেন্দ্র উপজেলা পর্যায়ে আইসিটি কর্মকর্তাদের কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা প্রদানের গতি বাড়াবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ, অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাসহ আইসিটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।