উপকূলে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোন্থা : ভারতের ৩ রাজ্যে সতর্কতা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 82
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় করে ভারতের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ঝড়টি বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থান করছে এবং ঘণ্টায় প্রায় ১৭ কিলোমিটার বেগে স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া ও কলিঙ্গপত্তনম উপকূলের মধ্যবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে। সোমবার রাত ৯টার দিকে প্রকাশিত আইএমডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল নাগাদ এটি ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’-এ রূপ নেবে। ঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে, দমকা হাওয়ার বেগ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে ভারতের তিনটি রাজ্য—অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও ওড়িশায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার এই তিন রাজ্যের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ট্রেন ও ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
আইএমডি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার ফোনে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। রাজ্যের আনাকাপল্লি জেলায় বুধবার পর্যন্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণের সহায়তায় হেল্পলাইন ও কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।
এদিকে, তামিলনাড়ুর উপকূলীয় অঞ্চলে ইতোমধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাজধানী চেন্নাইয়েও ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন জানিয়েছেন, প্রশাসন ঝড় মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। তেলঙ্গানার পেডাপল্লি, আদিলাবাদসহ কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কর্নাটকের উপকূলীয় উদুপি, উত্তর ও দক্ষিণ কন্নড় জেলাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় রেলওয়ে বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলীয় কয়েকটি রেলরুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম অঞ্চলে বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এদিকে বিমান পরিবহন সংস্থা ইন্ডিগো জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ফ্লাইট পরিষেবা বিঘ্নিত হতে পারে।
ওড়িশার গজপতি জেলায় সোমবার রাত থেকেই ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। উপকূলবর্তী অন্যান্য জেলাতেও বৃষ্টি হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং সমুদ্র উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।





































