ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তাল সাগর, উপকূলে উঠে গেল বিশাল জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
  • / 233

উত্তাল সাগর, উপকূলে উঠে গেল বিশাল জাহাজ

নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল জোয়ারের তোড়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূল গহিরা বঙ্গোপসাগরের চরে উঠে গেছে কয়লাবাহী একটি বিশাল জাহাজ। ‘নাভিমার-৩’ ও ‘মারমেইড-৩’ নামের একটি কার্গো ও লাইটার জাহাজ বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাতে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উঠান মাঝির ঘাট এলাকায় উঠে যায়।

শুক্রবার (৩০ মে) বেলা ১১টার দিকে কোস্টগার্ড সাঙ্গু স্টেশনের সদস্যরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। জাহাজটি দেখতে সকাল থেকেই উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস।

স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সাগরে জোয়ারের পানি বাড়তে থাকে। রাতে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া। জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে কয়লাবাহী কার্গো জাহাজটি রাতেই উঠান মাঝির ঘাট এলাকার মসজিদ সংলগ্ন চরে উঠে যায়। এ সময় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে উপকূলে উঠে আসা এ কার্গো জাহাজে কোনো মালামাল ছিল না।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গেলে জাহাজটির ওয়াচম্যান মিসকাতুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাঁশখালীর গণ্ডামারা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা খালাস করে ফেরার পথে ঝড়ে পড়ি। পরে সমুদ্রের জোয়ারের তোড়ে উপকূলের চরে আটকে যাই।’

তিনি আরও জানান, জাহাজটি দুবাই মালিকানাধীন একটি কোম্পানির, যারা বাঁশখালী গণ্ডামারায় কয়লা সরবরাহ করে।

উঠান মাঝির ঘাট জামে মসজিদের খতিব রেজাউল করিম ফারুকী বলেন, ‘রাত ২টার দিকে জাহাজটি এখানে আটকে পড়ে। এটি সরানো না হলে ঢেউয়ের আঘাতে মসজিদ ও কবরস্থানের ক্ষতি হতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোস্টগার্ড সাঙ্গু স্টেশনের সিসি অনিমেষ রায় বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উৎসুক জনতাকে সরে যেতে বলি এবং জাহাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিই।’

এদিকে, কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উত্তাল সাগর, উপকূলে উঠে গেল বিশাল জাহাজ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল জোয়ারের তোড়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূল গহিরা বঙ্গোপসাগরের চরে উঠে গেছে কয়লাবাহী একটি বিশাল জাহাজ। ‘নাভিমার-৩’ ও ‘মারমেইড-৩’ নামের একটি কার্গো ও লাইটার জাহাজ বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাতে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উঠান মাঝির ঘাট এলাকায় উঠে যায়।

শুক্রবার (৩০ মে) বেলা ১১টার দিকে কোস্টগার্ড সাঙ্গু স্টেশনের সদস্যরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। জাহাজটি দেখতে সকাল থেকেই উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস।

স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সাগরে জোয়ারের পানি বাড়তে থাকে। রাতে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া। জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে কয়লাবাহী কার্গো জাহাজটি রাতেই উঠান মাঝির ঘাট এলাকার মসজিদ সংলগ্ন চরে উঠে যায়। এ সময় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে উপকূলে উঠে আসা এ কার্গো জাহাজে কোনো মালামাল ছিল না।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গেলে জাহাজটির ওয়াচম্যান মিসকাতুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাঁশখালীর গণ্ডামারা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা খালাস করে ফেরার পথে ঝড়ে পড়ি। পরে সমুদ্রের জোয়ারের তোড়ে উপকূলের চরে আটকে যাই।’

তিনি আরও জানান, জাহাজটি দুবাই মালিকানাধীন একটি কোম্পানির, যারা বাঁশখালী গণ্ডামারায় কয়লা সরবরাহ করে।

উঠান মাঝির ঘাট জামে মসজিদের খতিব রেজাউল করিম ফারুকী বলেন, ‘রাত ২টার দিকে জাহাজটি এখানে আটকে পড়ে। এটি সরানো না হলে ঢেউয়ের আঘাতে মসজিদ ও কবরস্থানের ক্ষতি হতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোস্টগার্ড সাঙ্গু স্টেশনের সিসি অনিমেষ রায় বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উৎসুক জনতাকে সরে যেতে বলি এবং জাহাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিই।’

এদিকে, কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।’