ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তরায় শুটিং বন্ধের উদ্যোগে শিল্পীদের ক্ষোভ

বিনোদন প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • / 266

উত্তরায় শুটিং বন্ধের নোটিশ

ঢাকার উত্তরার সেক্টর-৪ এলাকায় নাটক ও সিনেমার শুটিং কার্যক্রম বন্ধে হাউস মালিকদের চিঠি দিয়েছে ওই এলাকার কল্যাণ সমিতি। ২০ জুলাই সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শুটিংয়ের কারণে রাস্তায় জনসমাগম বাড়ছে, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং এলাকার বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তাই শুটিং হাউস হিসেবে বাড়ি ভাড়া না দিতে হাউস মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

এই চিঠির খবরে শিল্পী, নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কল্যাণ সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী প্রথম আলোকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উত্তরার সেক্টর-৪ এলাকায় তিনটি পরিচিত শুটিং হাউস রয়েছে; লাবণী-৪, লাবণী-৫ ও আপনঘর-২। এসব হাউস দীর্ঘদিন ধরে নাটক ও ধারাবাহিকের নিয়মিত শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। লাবণী শুটিং হাউসের মালিক আসলাম হোসাইন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘২৫ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। কখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। এখন হঠাৎ করে শুটিং বন্ধ করতে বলা হচ্ছে। আমরা ডিরেক্টর গিল্ডে জানিয়েছি, তারা পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।’

অভিনেতা এবং ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, “এভাবে হঠাৎ করে চিঠি দিয়ে শুটিং বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া অনুচিত। ধারাবাহিক নাটকের কন্টিনিউটি থাকে, কাজ থেমে গেলে প্রোডাকশন বাধাগ্রস্ত হয়। কোনো সময়সীমা না দিয়ে হঠাৎ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি জানান, ডিরেক্টর গিল্ড প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাউস মালিকদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

নাট্য নির্মাতা মাহমুদ দিদার ফেসবুকে লেখেন, ‘উত্তরায় বহু বছর ধরে শুটিং হয়, কখনো তেমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এখন বলা হচ্ছে ঘুমের সমস্যা হয়। আমার মনে হচ্ছে, উত্তরায় শুটিং কালচার বিলীন হওয়ার আলামত এটা।’

পরিচালক তপু খান মন্তব্য করেন, ‘সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সংস্কৃতির বিকাশে বাধা। লাবণী ৪ হাউসের মালিক আসলাম ভাই একজন নিরীহ মানুষ, তার মতো অনেকেই কষ্ট পাবেন। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত ছিল।’

অভিনেতা ও অভিনয়শিল্পী সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান লেখেন, “উত্তরা সেক্টর-৪ কল্যাণ সমিতি থেকে শুটিং বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই এলাকায় বহু অফিস, স্কুল ও নানা ধরনের ব্যবসা চলে। শুধু শুটিংয়েই সমস্যা দেখা দিচ্ছে কেন? আগেও এমন হয়েছিল, তখন প্রশাসনের সহায়তায় নীতিমালার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। এবারও তাই হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।”

শিল্পীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি স্পষ্ট আশঙ্কা; যদি উত্তরায় শুটিং বন্ধ হয়, তাহলে ঢাকায় শুটিং স্পট আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে পুবাইল ও উত্তরা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যেসব হাউস নির্মাতাদের নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে, সেগুলোর অস্তিত্ব নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিল্পীরা মনে করছেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা উচিত, সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চাকে ব্যাহত করা অনুচিত।

ডিরেক্টর গিল্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘসহ অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন দ্রুত এই সংকটের সমাধান করা হয় এবং শুটিং কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারক মহল সহানুভূতিশীল হোন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উত্তরায় শুটিং বন্ধের উদ্যোগে শিল্পীদের ক্ষোভ

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

ঢাকার উত্তরার সেক্টর-৪ এলাকায় নাটক ও সিনেমার শুটিং কার্যক্রম বন্ধে হাউস মালিকদের চিঠি দিয়েছে ওই এলাকার কল্যাণ সমিতি। ২০ জুলাই সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শুটিংয়ের কারণে রাস্তায় জনসমাগম বাড়ছে, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং এলাকার বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তাই শুটিং হাউস হিসেবে বাড়ি ভাড়া না দিতে হাউস মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

এই চিঠির খবরে শিল্পী, নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কল্যাণ সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী প্রথম আলোকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উত্তরার সেক্টর-৪ এলাকায় তিনটি পরিচিত শুটিং হাউস রয়েছে; লাবণী-৪, লাবণী-৫ ও আপনঘর-২। এসব হাউস দীর্ঘদিন ধরে নাটক ও ধারাবাহিকের নিয়মিত শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। লাবণী শুটিং হাউসের মালিক আসলাম হোসাইন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘২৫ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। কখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। এখন হঠাৎ করে শুটিং বন্ধ করতে বলা হচ্ছে। আমরা ডিরেক্টর গিল্ডে জানিয়েছি, তারা পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।’

অভিনেতা এবং ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, “এভাবে হঠাৎ করে চিঠি দিয়ে শুটিং বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া অনুচিত। ধারাবাহিক নাটকের কন্টিনিউটি থাকে, কাজ থেমে গেলে প্রোডাকশন বাধাগ্রস্ত হয়। কোনো সময়সীমা না দিয়ে হঠাৎ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি জানান, ডিরেক্টর গিল্ড প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাউস মালিকদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

নাট্য নির্মাতা মাহমুদ দিদার ফেসবুকে লেখেন, ‘উত্তরায় বহু বছর ধরে শুটিং হয়, কখনো তেমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এখন বলা হচ্ছে ঘুমের সমস্যা হয়। আমার মনে হচ্ছে, উত্তরায় শুটিং কালচার বিলীন হওয়ার আলামত এটা।’

পরিচালক তপু খান মন্তব্য করেন, ‘সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সংস্কৃতির বিকাশে বাধা। লাবণী ৪ হাউসের মালিক আসলাম ভাই একজন নিরীহ মানুষ, তার মতো অনেকেই কষ্ট পাবেন। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত ছিল।’

অভিনেতা ও অভিনয়শিল্পী সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান লেখেন, “উত্তরা সেক্টর-৪ কল্যাণ সমিতি থেকে শুটিং বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই এলাকায় বহু অফিস, স্কুল ও নানা ধরনের ব্যবসা চলে। শুধু শুটিংয়েই সমস্যা দেখা দিচ্ছে কেন? আগেও এমন হয়েছিল, তখন প্রশাসনের সহায়তায় নীতিমালার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। এবারও তাই হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।”

শিল্পীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি স্পষ্ট আশঙ্কা; যদি উত্তরায় শুটিং বন্ধ হয়, তাহলে ঢাকায় শুটিং স্পট আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে পুবাইল ও উত্তরা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যেসব হাউস নির্মাতাদের নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে, সেগুলোর অস্তিত্ব নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিল্পীরা মনে করছেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা উচিত, সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চাকে ব্যাহত করা অনুচিত।

ডিরেক্টর গিল্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘসহ অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন দ্রুত এই সংকটের সমাধান করা হয় এবং শুটিং কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারক মহল সহানুভূতিশীল হোন।