ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া (কক্সবাজার)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 100

অগ্নিকান্ডে পোড়া বাড়ির উপর দারিয়ে এক রোহিঙ্গা নাগরিক

কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় চারটি শেল্টার ও একটি দোকান ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উখিয়া ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের বি-ব্লকের, বি-৫২ সাব ব্লকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

আশ্রয় শিবিরের প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গারা জানান, বি-ব্লকের, বি-৫২ সাব ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ঝুপড়ি ঘর থেকে আগুনের সূত্র পাত হয়।

ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে। পরে ক্যাম্পের ফায়ার সার্ভিসের সেচ্ছাসেবকরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। ততক্ষণে চারটি বসত ঘর ও একটি দোকান পুড়ে ছাই যায়।

মোহাম্মদ রশিদ নামে এক ক্ষতিগ্রস্থ অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা তার দোকান ও বসত ঘরে আগুণ দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা সহযোগিতা করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

একই অভিযোগ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ রহিমা খাতুন নামে অপর এক রোহিঙ্গা নারী। তারও অভিযোগ , দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এই আগুন দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পের অনেকেই নাকি আগুন দেয়ার ঘটনা দেখেছেন। ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়িতে না থাকায়; তিনি কিছুই বের করতে পারেননি। ক্যাম্পের সেচ্ছাসেবকরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) সিরাজ আমিন জানান, ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শুনেছি। কারা আগুন দিয়েছে তা তদন্তপূর্বক জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আগুনের খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই শিবিরের সেচ্ছাসেবকরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। এতে একটি দোকান ও ৪ টি বসত পুড়ে যায়। সেচ্ছাসেবক ও শিবিরের বাসিন্দারা সচেতন থাকার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছোট বড় সাতটির অধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বেশ কিছু সম্পদ নষ্ট হয় ক্যাম্পের বাসিন্ধাদের। প্রতিটি দুর্ঘটনার পরই এর সাথে ষড়যন্ত্রের দাবি তোলেন ক্ষতিগ্রস্থরা। কিন্তু সে বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হয় না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫

কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় চারটি শেল্টার ও একটি দোকান ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উখিয়া ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের বি-ব্লকের, বি-৫২ সাব ব্লকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

আশ্রয় শিবিরের প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গারা জানান, বি-ব্লকের, বি-৫২ সাব ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ঝুপড়ি ঘর থেকে আগুনের সূত্র পাত হয়।

ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে। পরে ক্যাম্পের ফায়ার সার্ভিসের সেচ্ছাসেবকরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। ততক্ষণে চারটি বসত ঘর ও একটি দোকান পুড়ে ছাই যায়।

মোহাম্মদ রশিদ নামে এক ক্ষতিগ্রস্থ অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা তার দোকান ও বসত ঘরে আগুণ দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা সহযোগিতা করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

একই অভিযোগ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ রহিমা খাতুন নামে অপর এক রোহিঙ্গা নারী। তারও অভিযোগ , দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এই আগুন দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পের অনেকেই নাকি আগুন দেয়ার ঘটনা দেখেছেন। ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়িতে না থাকায়; তিনি কিছুই বের করতে পারেননি। ক্যাম্পের সেচ্ছাসেবকরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) সিরাজ আমিন জানান, ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শুনেছি। কারা আগুন দিয়েছে তা তদন্তপূর্বক জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আগুনের খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই শিবিরের সেচ্ছাসেবকরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। এতে একটি দোকান ও ৪ টি বসত পুড়ে যায়। সেচ্ছাসেবক ও শিবিরের বাসিন্দারা সচেতন থাকার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছোট বড় সাতটির অধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বেশ কিছু সম্পদ নষ্ট হয় ক্যাম্পের বাসিন্ধাদের। প্রতিটি দুর্ঘটনার পরই এর সাথে ষড়যন্ত্রের দাবি তোলেন ক্ষতিগ্রস্থরা। কিন্তু সে বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হয় না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।