ঈদে মিলাদুন্নবীতে বিএনপি নেতার সাংস্কৃতিক আয়োজন
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 104
ঈদে মিলাদুন্নবীর মতো একটি পবিত্র দিনে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাশেদুল ইসলাম কিরন। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টঙ্গীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রভাষক বশির উদ্দিন। বিকালে শুরু হওয়া র্যালি শেষে গান-বাজনাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।
তবে একই দিনে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাত দিবস ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হওয়ায় এ আয়োজনকে ‘অসচেতন ও ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয়রা।
অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর দিনে মুসলিম সমাজ সাধারণত দোয়া-মাহফিল ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করে থাকে। অথচ সেখানে রাজনৈতিক শোডাউন এবং গান-বাজনা হয়েছে, যা মুসলিম সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করেছে।
একজন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আজকের দিনে দোয়া-মাহফিল হওয়া উচিত ছিল। অথচ এখানে গান-বাজনা আর রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। এটা আমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে যায় না।”
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, রাজনৈতিক লাভের জন্য এমন সংবেদনশীল দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন ছিল অগ্রহণযোগ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জাতীয় ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে জনগণের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। বিশেষ করে মিলাদুন্নবীর মতো দিনে রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক শোডাউন আয়োজন না করে ধর্মীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করাই সমীচীন ছিল।
ফলে, রাশেদুল ইসলাম কিরনের এই আয়োজন শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিষয়টি এখন টঙ্গীসহ গাজীপুর অঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।































