ইহুদিদের মাঝেও এসেছেন অনেক নবী
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
- / 220
নবুওতের ইতিহাসে ইহুদি জাতির অবস্থান এক অনন্য উচ্চতায়। তাদের বংশে একের পর এক নবী প্রেরিত হয়েছেন।
হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে ইব্রাহিম (আঃ), ইসহাক (আঃ), ইয়াকুব (আঃ), ইউসুফ (আঃ), মুসা (আঃ), হারুন (আঃ), দাউদ (আঃ), সুলাইমান (আঃ), ইলিয়াস (আঃ), ইয়াহইয়া (আঃ), যাকারিয়া (আঃ), এমনকি ঈসা (আঃ)—সবাই ছিলেন বনি ইসরাঈলের মাঝে।
ইহুদিরা ছিল এক সময়কার নির্বাচিত জাতি। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন নবী পাঠানোর, সত্যের ধারক-বাহক হওয়ার।
কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে: “আমি বনি ইসরাঈলকে জ্ঞান ও নবুয়ত দান করেছিলাম, তাদের উত্তম জীবন দিয়েছিলাম এবং সব জাতির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।”
মুসা (আঃ)-এর সময় ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। তিনি ফেরাঊনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ইহুদি জাতিকে মুক্ত করলেন। কিন্তু সেই জাতিই বারবার আল্লাহর আদেশ অমান্য করল। তারা এক সময় গরুর মূর্তি বানিয়ে উপাসনা করলো।
ইসলামের দৃষ্টিতে, পৃথিবীতে প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার নবী প্রেরিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নবী বনি ইসরাঈলের মধ্যেই এসেছেন। ইসলাম স্বীকার করে যে ইহুদি নবীরা আল্লাহর পক্ষ থেকেই প্রেরিত ছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইহুদি ধর্মের ধারকরা তাদের নবীদের হত্যা করেছে।
সূরা বাকারার ৮৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে: “তোমরা কি প্রত্যেকবার যখন কোনো নবী তোমাদের কাছে এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা তোমাদের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে ছিল, তখন তাকে অহংকারবশত মিথ্যা বলেছো অথবা হত্যা করেছো?”
পরে যখন শেষ নবী, মুহাম্মদ (সঃ) আসলেন, তখনো ইহুদিরা তার নবুওত অস্বীকার করল। অথচ তাওরাত ও ইনজিল—তাদের ধর্মগ্রন্থেই এই শেষ নবীর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল। মদিনার ইহুদিরা জানত যে একজন নবী আরব থেকে উঠবেন, কিন্তু তারা প্রত্যাশা করেছিল নবী হবেন তাদের বংশ থেকে।
তাদের গর্ব আর জাতিগত অহংকার তাদের সত্যকে গ্রহণে বাধা দেয়। এক শ্রেণির ইহুদি মুহাম্মদ (সঃ)-এর উপর ঈমান আনতে চেয়েছিল, যেমন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ), যিনি একজন ইহুদি আলেম ছিলেন এবং ইসলামে প্রবেশ করে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা পান।
কেন অধিকাংশ ইহুদি ইসলাম গ্রহণ করেনি?
এর প্রধানতম কারণ জাতিগত অহংকার। ইহুদিরা মনে করত, নবুয়ত কেবল তাদের বংশেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তাই তারা ভাবতেই পারেনি যে একজন আরব, বিশেষত কুরাইশ গোত্রের কেউ আল্লাহর নবী হতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, পবিত্র গ্রন্থের বিকৃতি। তাদের তাওরাতের বহু অংশ বিকৃত হয়ে যায়। সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ ঘটে। ফলে তারা আল্লাহর প্রকৃত আদেশ থেকে বিচ্যুত হয়।
তৃতীয়ত, ইসলামের বিস্তারের মাধ্যমে ইহুদি ধর্মযাজকগণ বুঝে যায় যে তারা তাদের সামাজিক-রাজনৈতিক আধিপত্য হারাবে। তাই তারা নিজেরা ইসলাম গ্রহণ না করে সাধারণ মানুষকেও বাধা দেয়।
শয়তানের কুমন্ত্রণা ও দুনিয়ার মোহও তাদের পেয়ে বসেছিল। যেমন কুরআনে বলা হয়: “তারা দুনিয়ার বিনিময়ে আখিরাতকে বিক্রি করেছে।”
ইহুদিদের একাধিক গোত্র, যেমন—বানু কাইনুকা, বানু কুরাইযা এবং বানু নজির—প্রথমে মুসলিমদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও পরে বারবার প্রতারণা করে। ফলে নবী (সঃ) তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হন।
তবে ইতিহাস সাক্ষী, যারা সত্য চেয়েছে, তারা সত্যকে গ্রহণ করেছে। ইহুদি জাতি থেকে বহু ব্যক্তি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছে, বিশেষ করে ইবনে সালাম (রাঃ), মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ)-এর শিষ্যরা, এমনকি পরবর্তীকালে অনেক ইহুদি ইসলামি সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত হন এবং নানা জ্ঞান-বিজ্ঞানে অবদান রাখেন।




































